Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

সুগার ড্যাডি আপনাকে ফাঁদে ফেলছে না তো, বুঝবেন যেভাবে

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

সুগার ড্যাডি আপনাকে ফাঁদে ফেলছে না তো, বুঝবেন যেভাবে

বিজ্ঞাপন

অনলাইনে পরিচয়, দামি উপহারের প্রতিশ্রুতি, রেস্তোরাঁয় ডিনার কিংবা বিলাসী জীবনযাপনের হাতছানিতে আকর্ষণে অনেকে বয়সে বড় পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শুরুতে সম্পর্কটি যতই রোমাঞ্চকর ও স্বপ্নের মতো মনে হোক, সব ক্ষেত্রে তা নিরাপদ নাও হতে পারে। কখনো কখনো এই আকর্ষণের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে সুগার ড্যাডি ফাঁদ।

অর্থনৈতিক সুবিধা বা বিলাসী জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতির আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রতারণা। তাই সম্পর্ক যতই আকর্ষণীয় মনে হোক, এমন আচরণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া এবং প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখাই নিরাপদ।

শুরুতেই দামি উপহারের প্রতিশ্রুতি

পরিচয়ের পরপরই কেউ যদি দামি মোবাইল, গয়না, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা নিয়মিত টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে সতর্ক হওয়া ভালো। বিশেষ করে বাস্তবে দেখা হওয়ার আগেই এমন প্রস্তাব এলে বিষয়টি যাচাই করুন। প্রতারকেরা অনেক সময় প্রথমে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন। পরে সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

হঠাৎ টাকা চাইলে

কেউ যদি বলেন, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে, জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে কিংবা কোনো কারণে দ্রুত টাকা দরকার বললে আবেগের বশে অর্থ পাঠাবেন না। সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠই মনে হোক, পরিচয়ের শুরুতেই টাকা চাওয়া বড় সতর্কসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে বারবার নতুন নতুন কারণ দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হলে দূরত্ব বজায় রাখাই নিরাপদ।

ব্যাংক তথ্য বা পাসওয়ার্ড চাইলে

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, কার্ডের তথ্য, ওটিপি, পিন, ই-মেইল পাসওয়ার্ড কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লগইন তথ্য কখনোই কাউকে দেওয়া উচিত নয়। ‘তোমার জন্য টাকা পাঠাব’, ‘উপহার পাঠাতে হলে এই তথ্য লাগবে’ কিংবা ‘তোমার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে’-এমন কথা বলেও কেউ এসব তথ্য চাইতে পারেন। মনে রাখতে হবে, ওটিপি বা পিন কোনো সম্পর্কের প্রমাণ নয়; এগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়।

দ্রুত গোপনীয় সম্পর্কের চাপ

পরিচয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই যদি কেউ সম্পর্কটিকে গোপন রাখতে চাপ দেন, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে নিষেধ করেন কিংবা বলেন ‘আমাদের ব্যাপারে কাউকে জানানো যাবে না’, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে কাউকে সম্পূর্ণভাবে নিজের পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের লক্ষণ হতে পারে।

ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও চাইলে

সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও কিংবা অন্তরঙ্গ তথ্য পাঠাতে চাপ দেন, তা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ একবার কোনো ছবি বা ভিডিও অনলাইনে চলে গেলে সেটি কীভাবে ব্যবহার হবে, তার নিয়ন্ত্রণ সব সময় নিজের হাতে থাকে না।
বিশেষ করে ছবি না দিলে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখানো, ব্ল্যাকমেইল করা বা টাকা দাবি করা হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

দেখা করতে গেলে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন

অনলাইনে পরিচিত কারো সঙ্গে প্রথমবার দেখা করার ক্ষেত্রে নির্জন জায়গা এড়িয়ে চলুন। পরিচিত কাউকে আগে জানিয়ে রাখুন কোথায় যাচ্ছেন এবং সম্ভব হলে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে দেখা করুন।কেউ যদি প্রথম দেখাতেই ব্যক্তিগত বাসা, হোটেল কিংবা নির্জন স্থানে যেতে চাপ দেন, সেটিও সতর্ক হওয়ার মতো বিষয়।

কথার সঙ্গে কাজ মিলছে কি না দেখুন

সুগার ড্যাডি পরিচয়ের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধার কথা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই সুযোগ দেখিয়ে কেউ যদি ক্রমাগত ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, আপনার চলাফেরা নির্ধারণ করেন কিংবা বিনিময়ে নানা দাবি করতে থাকেন, তাহলে সম্পর্কটি নতুন করে মূল্যায়ন করা দরকার।

দামি উপহার বা আর্থিক সুবিধা কখনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিকল্প নয়। কোনো সম্পর্কেই অর্থের বিনিময়ে নিজের গোপনীয়তা, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তা বিসর্জন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সন্দেহজনক কিছু মনে হলে দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করুন। টাকা পাঠানো, ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া বা আরও যোগাযোগ করার আগে পরিস্থিতি যাচাই করুন। সাইবার হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাইবার সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমেও অভিযোগ ও পরামর্শ নিন।

অনলাইনে তৈরি সম্পর্ক বাস্তব জীবনে কতটা নিরাপদ, সেটি বোঝার জন্য সময় নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজিটুডে, বাংলাদেশ পুলিশ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন

এসএকেওয়াই

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার