Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

পুরুষের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ কী? ৩৫-এর পর কেন কমতে থাকে প্রজননক্ষমতা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

পুরুষের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ কী? ৩৫-এর পর কেন কমতে থাকে প্রজননক্ষমতা

বিজ্ঞাপন

প্রজননক্ষমতার ক্ষেত্রে নারীদের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও বয়সের প্রভাব পুরুষদের ক্ষেত্রেও রয়েছে। পুরুষের প্রজননক্ষমতা নারীদের মতো হঠাৎ কমে না গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান ও প্রজনন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফলাফলে পরিবর্তন দেখা যায়। 

চিকিৎসকদের মতে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে শুরু হলেও ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ব্লুম আইভিএফের মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. হৃষিকেশ পাই জানান, পুরুষের প্রজননক্ষমতায় সূক্ষ্ম অবনতি ৩০-এর মাঝামাঝি বয়স থেকে শুরু হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শুক্রাণুর গতিশীলতা কমে, গঠনগত মান খারাপ হয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতির মাত্রা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, পুরুষরা সারা জীবন শুক্রাণু তৈরি করতে পারেন বলে অনেকেই মনে করেন বয়সের কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু নিয়মিত শুক্রাণু উৎপাদন মানেই গুণমান অপরিবর্তিত থাকা নয়। প্রতিবার কোষ বিভাজনের সঙ্গে জেনেটিক ত্রুটি জমা হতে পারে।

সন্তানের স্বাস্থ্যে প্রভাব

বাবার বয়স সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকের মতে, বয়সি বাবাদের শুক্রাণুতে নতুন জেনেটিক পরিবর্তন বা ‘ডি নোভো মিউটেশন’ বেশি দেখা যায়। বাবার বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রতি বছর আনুমানিক দুটি অতিরিক্ত নতুন মিউটেশন সন্তানের মধ্যে যেতে পারে। এর সঙ্গে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া এবং কিছু জিনগত রোগের ঝুঁকি সামান্য বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে।

এ ছাড়া বেশি বয়সি পুরুষদের ক্ষেত্রে ‘সহায়ক প্রজনন পদ্ধতি’ বা এআরটি ব্যবহারে জীবিত সন্তান জন্মের হার কমতে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যে বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়ায়

অতিরিক্ত গরমে থাকা, দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার, আঁটসাঁট পোশাক, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, স্থূলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শুক্রাণুর গুণমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু রাসায়নিক পদার্থও হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে এসব ঝুঁকির অনেকগুলোই জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে কমানো সম্ভব।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি যেসব পুরুষ সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কিংবা যেসব দম্পতি গর্ভধারণে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাদের দ্রুত বীর্য বা শুক্রাণু পরীক্ষা করা উচিত। তার মতে, এটি তুলনামূলক সহজ ও কম ঝুঁকির পরীক্ষা এবং পুরুষের প্রজনন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণ দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার