Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

পুরুষাঙ্গ বড় করতে এতো মাতামাতি, এক সময় ছোট আকারই ছিল আকর্ষণীয়

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

পুরুষাঙ্গ বড় করতে এতো মাতামাতি, এক সময় ছোট আকারই ছিল আকর্ষণীয়

বিজ্ঞাপন

ফিলার বা কসমেটিক পদ্ধতি এখন নারীদের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে ঠোঁট, থুতনিসহ শরীরের নানান অংশ আকর্ষণীয় করে তুলছেন। তবে শুধু নারীরা নন, পুরুষরাও এখন ফিলার বা কসমেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে মূলত তারা যৌনাঙ্গের গার্থ বা মোটা করার দিকে ঝুঁকছেন। তাদের ধারণা মোটা বা বড় যৌনাঙ্গ পুরুষের আসল সৌন্দর্য। কিন্তু পুরুষাঙ্গের আকার নিয়ে এই আকর্ষণ মোটেই আধুনিক নয়।

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে কখনো যৌনাঙ্গ লম্বা করার চেষ্টা, কখনো অগ্রচর্ম টেনে বাড়ানো, আবার কখনো অলংকার দিয়ে সাজানোর প্রবণতা দেখা গেছে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে অবাক করা উদাহরণগুলোর একটি হলো ১৬ শতকের ব্রাজিলের একটি ঐতিহাসিক বর্ণনায় পুরুষাঙ্গ বড় করার উদ্দেশ্যে বিষধর সাপের কামড় ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়।

এসময় ছোট পুরুষাঙ্গই ছিল আকর্ষণীয়

তবে এই ধরনের ঐতিহাসিক চর্চাকে আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং এগুলো দেখায়, পুরুষত্ব, যৌন আকর্ষণ ও শরীরের আদর্শ আকৃতি নিয়ে মানুষের চিন্তা কতটা পুরোনো।

১৬ শতকের একটি ঐতিহাসিক বর্ণনা নিয়ে ২০২৪ সালে প্রকাশিত জার্নাল অব ইউরোলোজি-এর একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের টপিরামা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষাঙ্গের আকার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিষধর সাপকে কামড় দিতে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। গবেষণায় এটিকে ইতিহাসে পুরুষাঙ্গের গার্থ বা আকার বৃদ্ধির নানা প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এর পেছনে যুক্তি হিসেবে ধারণা করা হয়েছিল, সাপের বিষে কামড়ের জায়গায় প্রচণ্ড ফোলা বা ফোলাভাব তৈরি হতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে আকার বড় দেখাতে পারে। কিন্তু সেটিকে প্রকৃত অর্থে স্থায়ী আকার বৃদ্ধি বলা যায় না। বরং বিষধর সাপের কামড় প্রাণঘাতীও হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাপের কামড়ের কারণে যৌনাঙ্গে গুরুতর ক্ষতির নজিরও রয়েছে। এমন ঘটনায় ব্যাপক ফোলা, টিস্যু ক্ষতি, এমনকি গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হতে পারে।

শুধু সাপের কামড় নয়, ওজনও ঝোলানো হতো

পুরুষাঙ্গ লম্বা করার চেষ্টা ইতিহাসে আরও নানা রূপে দেখা যায়। গবেষণায় পেরুর কলোমেক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওজন ব্যবহার করে পুরুষাঙ্গ দীর্ঘ করার চর্চার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার ভারতসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও শরীরের ওই অংশ টেনে দীর্ঘ করার নানা প্রথার ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায়। এ ধরনের পদ্ধতিতে মূল লক্ষ্য ছিল শরীরের একটি নির্দিষ্ট আকৃতি অর্জন করা। অর্থাৎ আজকের প্রসাধনী উন্নয়ন-এর সঙ্গে এর উদ্দেশ্যে কিছুটা মিল থাকলেও পদ্ধতিগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ব্রাজিলের একটি ঐতিহাসিক বর্ণনায় পুরুষাঙ্গ বড় করার উদ্দেশ্যে বিষধর সাপের কামড় ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়

প্রাচীন গ্রিসে আবার ধারণাটা ছিল উল্টো

মজার বিষয় হলো, ইতিহাসের সব সমাজে বড় পুরুষাঙ্গকে আকর্ষণীয় মনে করা হতো না। প্রাচীন গ্রিক শিল্প ও ভাস্কর্যে আদর্শ পুরুষ শরীরের সঙ্গে তুলনামূলক ছোট যৌনাঙ্গকেই বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ আজ যেখানে অনেক পুরুষ বড় বা মোটা যৌনাঙ্গকে পৌরুষের প্রতীক হিসেবে দেখেন, প্রাচীন গ্রিক নান্দনিক ধারণায় বিষয়টি সবসময় এমন ছিল না। বরং অতিরঞ্জিত বড় যৌনাঙ্গ অনেক ক্ষেত্রে হাস্যরসাত্মক বা ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এ থেকেই বোঝা যায়, ‘আদর্শ পুরুষাঙ্গ’ আসলে কেবল শারীরিক বিষয় নয় এর সঙ্গে সমাজ, সংস্কৃতি এবং সময়ের সৌন্দর্যবোধও জড়িয়ে আছে।

অগ্রচর্ম লম্বা করার চর্চাও ছিল

ইতিহাসে শুধু মূল যৌনাঙ্গের আকার নয়, অগ্রচর্মের আকৃতি নিয়েও মানুষের আগ্রহ ছিল। গবেষণায় প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সমাজে অগ্রচর্ম টেনে লম্বা করার বিভিন্ন চর্চার উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘কাইনোডেসমি’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতিতে অগ্রচর্মের অংশ টেনে ধরে রাখার কথা ঐতিহাসিক গবেষণায় এসেছে। এটি আধুনিক অর্থে পুরুষাঙ্গ বড় করার চিকিৎসা ছিল না; বরং তৎকালীন সামাজিক ও নান্দনিক ধারণার সঙ্গে যুক্ত একটি শারীরিক চর্চা ছিল।

যৌনাঙ্গ সাজানোর ইতিহাসও কম পুরোনো নয়

কিছু সংস্কৃতিতে পুরুষাঙ্গের আকার পরিবর্তনের পাশাপাশি সেটিকে অলংকৃত করার প্রবণতাও ছিল। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষাঙ্গে পিয়ারসিং বা অলংকার ব্যবহারের ঐতিহাসিক নজির পাওয়া যায়। কোথাও এর উদ্দেশ্য ছিল সৌন্দর্য, কোথাও যৌন আকর্ষণ বাড়ানো, আবার কোথাও সামাজিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ শরীরকে নিজের পছন্দের আদর্শ আকৃতিতে সাজানোর প্রবণতা মানুষের মধ্যে নতুন নয়। কান বা গলার আকৃতি পরিবর্তন থেকে শুরু করে যৌনাঙ্গে অলংকার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে শরীর নিয়ে এমন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা গেছে।

বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষাঙ্গে পিয়ারসিং বা অলংকার ব্যবহারের ঐতিহাসিক নজির পাওয়া যায়

আজকের যুগের ফিলার

সময় বদলেছে, কিন্তু শরীর নিয়ে অনিশ্চয়তা বা অসন্তুষ্টি পুরোপুরি বদলায়নি। আধুনিক সময়ে পুরুষাঙ্গের গার্থ বাড়ানোর জন্য ইনজেক্টেবল ফিলার, ফ্যাট ট্রান্সফার, ইমপ্ল্যান্ট এবং বিভিন্ন সার্জিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা হচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও লিঙ্গ বর্ধন-এর চাহিদা বৃদ্ধির কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে ফিলার-এর ক্ষেত্রে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড-সহ বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিষয়ক পর্যালোচনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এসব পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে এর ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব সিলিকন, প্যারাফিন বা অন্য বিদেশি পদার্থ যৌনাঙ্গে প্রবেশ করানোর ফল ভয়াবহ হতে পারে। একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ-তে এমন রোগীদের মধ্যে ব্যথা, ফোলা, বিকৃতি, ইনফেকশন, টিস্যু নেক্রোসিস-এর মতো জটিলতার কথা উঠে এসেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছে।

সূত্র: দ্য কনভার্সেশন, সায়েন্স ডাইরেক্ট

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার