বিজ্ঞাপন
ত্রিশের পর রিচ ফুড পরিমাণে কেন কম খাবেন?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
বিজ্ঞাপন
বাঙালি বলতেই ভোজন রসিক হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বয়স বিশের কোঠায় থাকলে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত বিরিয়ানি, খাসির মাংস কিংবা চর্বিযুক্ত খাবার সহজেই হজম হয়ে যায়। কিন্তু ত্রিশ বছরে পা দেওয়ার পর থেকেই শরীরের ভেতরের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এই বয়সে জীবনযাত্রার গতি ও শারীরিক মেটাবোলিজম বা বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে পছন্দের 'রিচ ফুড' বা ভারী খাবার নিদিষ্ট পরিমাপ না খেলে তা দ্রুত নানা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কেন বয়স ত্রিশের পর রিচ ফুড পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং এর সঠিক পরিমাপ কেমন হওয়া দরকার। আসুন জেনে নেওয়া যাক-
মেটাবোলিজমের গতি কমে যাওয়া
মানুষের ৩০ বছরের পর থেকে 'বাসাল মেটাবলিক রেট বা ক্যালরি খরচের স্বাভাবিক ক্ষমতা প্রতি দশকে প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ হারে কমতে থাকে। এর অর্থ হলো, বিশ বছর বয়সে যে পরিমাণ খাবার খেলে ওজন একই থাকত, ৩০ পেরিয়ে একই পরিমাণ ভারী খাবার খেলে তা শরীরের চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে। তাই বয়স ত্রিশের পির রিচফুড পরিমাণে কম খাওয়া এক ধরনের শারিরীক সচেতনতা।

ভিসারাল ফ্যাট ও পেটের মেদ বাড়ার প্রবণতা
নারী পুরুষ উভয়েরই বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের নানা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পেশির ভর কমতে থাকে এবং চর্বির অনুপাত বাড়তে থাকে। রিচ ফুডের অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও রিফাইন বা প্রক্রিয়াজাত শর্করা সরাসরি পেটের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশে 'ভিসারাল ফ্যাট' হিসেবে জমা হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
ত্রিশের পর রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা কমতে শুরু করে। ফলে এই বয়সে রিচ ফুড বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালি ব্লক হওয়া এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত তেল, ঘি, মাখন এবং লাল মাংসে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ডায়াবেটিস
রিচ ফুডে সাধারণত উচ্চ ক্যালরি এবং পরিশোধিত শর্করা থাকে। বয়স ৩০ পার হলে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরির দক্ষতা বা শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে। ফলে নিয়মিত ভারী খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
হজমক্ষমতা ও পাচনতন্ত্রের দুর্বলতা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলীতে প্রয়োজনীয় ডাইজেস্টিভ এনজাইম বা পাচক রস উৎপাদন কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা, বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বয়স ত্রিশ পেরোনোর অর্থ এই নয় যে প্রিয় খাবার একেবারেই বর্জন করতে হবে। বরং এটি হলো পরিমিতিবোধ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার বয়স। রিচ ফুডের সঠিক পরিমাপ ও গ্রহণের নিয়ম ন জেনে নিন-
প্লেট মেথড মেনে চলা
যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে রিচ ফুড খাওয়ার সময় প্লেটের অনুপাত এভাবে ভাগ করে নেওয়া উচিত যেমন ৫০ শতাংশ শাকসবজি ও সালাদ যা ফাইবার সরবরাহ করবে এবং চর্বি শোষণে বাধা দেবে। ২৫ শতাংশ চর্বিহীন প্রোটিন যেমন গ্রিলড বা হালকা ঝোলের মাছ/মুরগি। ২৫ শতাংশ রিচ ফুড যেমন বিরিয়ানি, পোলাও বা রেজালা।
খাবারের সুনির্দিষ্ট পরিমাপ
ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড মাসে ১ থেকে ২ বার সামান্য পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। পোলাও বা বিরিয়ানি খেলে একবারে ১ কাপ থেকে দেড় কাপের বেশি না খাওয়া। লাল মাংস (গরু বা খাসি) সপ্তাহে ১-২ দিন খেতে পারেন। তবে ২ থেকে ৩ টুকরো ঝোল এড়িয়ে শুকনো বা সিদ্ধ মাংস বেছে নিতে পারেন।
ভারী খাবারের পর অনেকেরই মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করতে হবে। খেতে চাইলে ছোট এক টুকরো মিষ্টি বা আধা কাপ পায়েস বা ফিরনি খাওয়া যেতে পারে।
সময়ের সঠিক নির্বাচন
দুপুরের খাবার হিসেবে রিচ ফুড খাওয়া উচিত। এতে সারাদিনের চলাফেরায় ক্যালরি পোড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। রাতে ভারী খাবার বর্জন করা উচিত। কারণ রাতের খাবারে রিচ ফুড পুরোপুরি এড়িয়ে চললে শারিরীক ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে । আর যদি খেতেই হয় তাহলে ঘুমানোর অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে খেতে হবে।
ব্যালেন্সিং বা ক্ষতিপূরণ কৌশল
যদি দুপুরে রিচ ফুড খাওয়া হয়, তবে রাতের খাবারে শুধু স্যুপ, সালাদ বা ওটস রাখা উচিত। রিচ ফুড খাওয়ার পর দিনজুড়ে ৩ থেকে ৩.৫ লিটার পানি পান করতে হবে, যাতে করে শরীরের বিষাক্ত উপাদান নিষ্কাশন হয়ে যায়।যেদিন ভারী খাবার খাওয়া হবে, সেদিন অন্তত ৪০-৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা কার্ডিও ব্যায়াম নিশ্চিত করা জরুরি।
বয়স ত্রিশের পর শরীর কোনো কিছু অতিরিক্ত গ্রহণ করতে আগের মতো দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায় না, বরং ধীরে ধীরে তার ক্ষতিকর প্রভাব প্রকাশ করে। তাই এ বয়সে স্বাদের চেয়ে স্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষা করাই হলো দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।