বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পুরুষদের মধ্যে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, দাম্পত্য সম্পর্কে উদাসীনতা কিংবা যৌন সক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় লো-টি (Low-T) বা মেল হাইপোগোনাডিজম।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, টেস্টোস্টেরন শুধু যৌন সক্ষমতার জন্যই দায়ী নয়; দাঁড়ি-গোঁফ, কণ্ঠস্বর, পেশী ও হাড়ের ঘনত্ব, এমনকি পুরুষালি আচরণও এই হরমোনের প্রভাবে গড়ে ওঠে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তবে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, অতিরিক্ত গরমে থাকা বা অণ্ডকোষে আঘাত—এসব কারণে ঘাটতি দ্রুত বাড়তে পারে।
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং জানায়, একজন সুস্থ পুরুষের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ২৭০ থেকে ১০৭০ ন্যানোগ্রাম টেস্টোস্টেরন থাকার কথা। এর নিচে নেমে গেলে দেখা দিতে পারে যৌন তাড়না হ্রাস, ইরেকটাইল ডিসফাংশন, শুক্রাণুর উৎপাদন কমে যাওয়া, এমনকি বন্ধ্যাত্ব।
ডা. সেলিম আরও জানান, বাংলাদেশে মামস অরক্রাইটিস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও স্থূলতাই পুরুষদের টেস্টোস্টেরন ঘাটতির বড় কারণ। প্রায় দুই কোটি (২০২৪ এর রিপোর্ট মতে) ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে পুরুষদের একটি বড় অংশই এই সমস্যায় ভুগছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদক থেকে বিরত থাকা—এসব অভ্যাস টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। প্রয়োজন হলে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে।
যৌন সক্ষমতা কমে যাওয়া মানেই বয়সের দোষ নয়, এর পেছনে থাকতে পারে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি। তাই সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে এর সঠিক প্রতিরোধ।