বিজ্ঞাপন
পুরুষদের বিশেষ অঙ্গে নতুন কসমেটিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ
নিউইয়র্ক পোস্ট
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৫ এএম
বিজ্ঞাপন
পুরুষাঙ্গের আকার ও পরিধি বাড়াতে নতুন ধরনের কসমেটিক চিকিৎসা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। Sheffer Width and Girth (SWAG) নামে পরিচিত এই পদ্ধতিতে পুরুষাঙ্গের চামড়ার নিচে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ইনজেকশন দেওয়া হয়।
ম্যানহাটনের প্লাস্টিক সার্জন ডা. ডেভিড শেফারের দাবি, মূলত পরিধি বাড়াতেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়; তবে কিছু ক্ষেত্রে শিথিল অবস্থায় দৈর্ঘ্যও কিছুটা বেশি দেখা যেতে পারে।
ডা. ডেভিড শেফার জানান, পুরুষাঙ্গের আকার নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক পুরুষ গভীর রাতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন সমাধান খোঁজেন। প্রায় আট বছর আগে এক রোগীর অনুরোধ থেকেই তিনি পুরুষাঙ্গে ফিলার ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তার তৈরি পদ্ধতিটির নাম দেন ‘SWAG’।
কীভাবে করা হয়?
শেফারের মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ করা যায়। প্রথমে স্থানীয় অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে নির্দিষ্ট অংশ অবশ করা হয়। এরপর পুরুষাঙ্গের চামড়ার নিচে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ইনজেকশন দেওয়া হয়।
এই ফিলার সাধারণত শরীরে প্রাকৃতিকভাবে থাকা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের একটি ঘন বা ক্রস-লিঙ্কড রূপ।
শেফার জানান, তিনি এমন ধরনের ফিলার ব্যবহার করেন যা অন্যান্য কসমেটিক চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয়। তবে এর ফল স্থায়ী নয়।
তার দাবি অনুযায়ী, সাধারণত প্রায় দুই বছর পর পুনরায় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তী সেশনে প্রথমবারের তুলনায় কম পরিমাণ ফিলার ব্যবহার করা হয়।
খরচ কত?
এই চিকিৎসার খরচ রোগীর প্রয়োজনীয় ফিলারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। শেফারের ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণমূলক চিকিৎসার খরচ সাধারণত এর তুলনায় কম।
কয়েকজন রোগী দাবি করেছেন, চিকিৎসার পর তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে এসব অভিজ্ঞতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং কসমেটিক পরিবর্তন মানেই যৌন সক্ষমতা বাড়বে- এমন নিশ্চয়তা নেই।
চিকিৎসার পর কী হয়?
শেফারের মতে, ফিলার দেওয়ার পর প্রথম সপ্তাহটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় ফিলারকে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দিতে ও মসৃণ রাখতে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্টভাবে ম্যাসাজ বা আকার দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ সময় যৌনমিলন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ফিলার স্থানচ্যুত না হয়।
সম্ভাব্য ঝুঁকি
যেকোনো ফিলার চিকিৎসার মতো এখানেও ঝুঁকি রয়েছে। ইনজেকশনের স্থানে সাময়িক ব্যথা, ফোলাভাব ও কালশিটে দাগ হতে পারে। ফিলার সঠিকভাবে স্থাপিত না হলে পিণ্ড, অসমতা বা দৃশ্যমান বিকৃতিও দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রক্তনালিতে ফিলার প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া। এ ধরনের জটিলতা গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে এবং যথাযথ চিকিৎসা-সুবিধা রয়েছে এমন পরিবেশে এ ধরনের পদ্ধতি করানো গুরুত্বপূর্ণ।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে হায়ালুরোনিডেজ নামের একটি এনজাইম ব্যবহার করে ফিলার ভেঙে দেওয়া যায়। তবে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, ‘SWAG’ পুরুষাঙ্গের পরিধি বাড়ানোর একটি কসমেটিক পদ্ধতি হলেও এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। আকার নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অনলাইন বা অনিয়ন্ত্রিত উৎসের পরিবর্তে যোগ্য ইউরোলজিস্ট বা প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।