Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

সহকর্মী সবসময় আপনার ভুল ধরছেন? পরিস্থিতি সামলানোর উপায় জানুন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

সহকর্মী সবসময় আপনার ভুল ধরছেন? পরিস্থিতি সামলানোর উপায় জানুন

বিজ্ঞাপন

দিনের দীর্ঘ সময় কর্মক্ষেত্রেই কাটে। ফলে সহকর্মীদের সঙ্গে অনেক সময় পারিবারিক সম্পর্কের মতো ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে এর বিপরীত অভিজ্ঞতাও আছে।

অফিসে এমন সহকর্মীও থাকতে পারেন, যিনি আপনার কাজের ছোট-বড় নানা ভুল খুঁজে বের করতে সবসময় তৎপর। মিটিংয়ে আপনার বক্তব্যের খুঁত ধরা, কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা আপনার সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্যদের কাছে অভিযোগ করা—এসব আচরণ ধীরে ধীরে কর্মপরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।

সাইকোলজি টুডে’র এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, সমালোচনা সবসময় নেতিবাচক নয়। গঠনমূলক সমালোচনা কাজের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। কিন্তু সমালোচনার লক্ষ্য যদি সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কাউকে হেয় করা, ভুল প্রমাণ করা কিংবা নিজের অবস্থান শক্ত করা হয়, তাহলে সেটি কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি দলের পরিবেশ ও কাজের গতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অনেক ক্ষেত্রে যারা সব বিষয়ে ভুল ধরেন, তারা চান আপনি স্বীকার করুন যে কোনো সিদ্ধান্তে আপনার বিচার-বিবেচনা ভুল ছিল। বিষয়টি মেনে নেওয়া সহজ নয়, বিশেষ করে যখন আপনি মনে করেন আপনার সিদ্ধান্তই সঠিক। এ ধরনের মতবিরোধ থেকে দুজনের মধ্যেই বিরূপ মনোভাব তৈরি হতে পারে।

পরিস্থিতি সামলাবেন যেভাবে

প্রথমে নিজের অবস্থান যাচাই করুন

কেউ সমালোচনা করলেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে তিনি অন্যায় করছেন। আগে ভেবে দেখুন, সত্যিই আপনার কোনো ভুল হয়েছিল কি না। সমস্যার সমাধানে আপনি যথাযথভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছিলেন কি না কিংবা প্রয়োজন হলে সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়েছিলেন কি না, সেটিও বিবেচনা করুন। নিজের অবস্থান যাচাই করলে পরিস্থিতি আরও নিরপেক্ষভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

আড়ালে আলোচনা এড়িয়ে চলুন

অফিসে অনেক সময় সহকর্মীরা একে অপরকে নিয়ে গোপনে আলোচনা করেন। এ ধরনের কথাবার্তার অংশ না হওয়াই ভালো। কারও সঙ্গে সমস্যা থাকলে সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলুন। কেউ আপনার বিষয়ে আড়ালে আলোচনা করলে পালটা তার বিষয়েও অন্যদের কাছে কথা না বলে প্রয়োজন হলে সরাসরি বিষয়টি পরিষ্কার করুন।

রাগ না করে সরাসরি কথা বলুন

কেউ যদি নিয়মিত আপনার সমালোচনা করেন, তাহলে সুযোগ বুঝে তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলা যেতে পারে। বিশেষ করে সবার সামনে পালটা আক্রমণ না করে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন। তাকে বোঝাতে পারেন যে তার উদ্বেগ আপনি বুঝতে পারছেন, তবে সমস্যাটি সমাধানের আরও ইতিবাচক উপায় রয়েছে।

যোগাযোগ বাড়ান

যে সহকর্মী আপনার কাজ নিয়ে বেশি প্রশ্ন করেন, তার সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারেন। নতুন কোনো কাজ শুরু করার আগে প্রয়োজন হলে তার মতামত নিন বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করুন। এতে আপনার কাজ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি সিদ্ধান্তে তার অনুমতি নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত নিজের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্তের জায়গাটি নিজের কাছেই রাখতে হবে।

নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করুন

ভদ্র ও সহযোগিতাপূর্ণ থাকা মানে সব ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া নয়। কেউ যদি বারবার অপমানজনক মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন বা অন্যদের সামনে আপনাকে ছোট করার চেষ্টা করেন, তাহলে সেখানে পরিষ্কার সীমারেখা তৈরি করা জরুরি। একইভাবে নিজের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে যেন আপনিও সহকর্মীকে অপমান না করেন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

কর্মক্ষেত্রে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বরং পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে একটি সুস্থ সম্পর্ক তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাজের জায়গায় মতবিরোধ থাকতেই পারে। তবে সেই বিরোধকে ব্যক্তিগত জীবনে নিয়ে গিয়ে মানসিক চাপ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। সমস্যা দেখা দিলে শান্ত থেকে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন এবং সম্ভব হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার