Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

ডেঙ্গুতে দ্রুত শক্তি ফেরাবে যেসব পুষ্টিকর খাবার

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

ডেঙ্গুতে দ্রুত শক্তি ফেরাবে যেসব পুষ্টিকর খাবার

বিজ্ঞাপন

মৌসুম বদলের সাথে সাথে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং প্রবল জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ভাব ও অরুচির কারণে খাওয়াদাওয়ায় অনীহা তৈরি হয়।

ফলে পানিশূন্যতা ও প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিবায়োটিক না থাকায় পর্যাপ্ত তরল ও সঠিক পুষ্টিকর খাবারই দ্রুত সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।

তরল ও হাইড্রেটিং খাবার (প্রধান ওষুধ)

শরীরে প্লাজমা লিকেজ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা রোধে তরল খাবারের বিকল্প নেই:

ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন: রক্তচাপ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।

পাতলা স্যুপ ও ডালের পানি: মুরগির পাতলা স্যুপ, সবজি স্যুপ বা মসুরের ডালের পানি শরীরকে হাইড্রেটেড করার পাশাপাশি প্রোটিনের জোগান দেয়।

অন্যান্য: ভাতের মাড়, চালের স্যুপ বা আপেলের জুস বেশ কার্যকরী।

সহজপাচ্য খাবার ও প্রোটিনের জোগান

জ্বরের কারণে পরিপাকতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই ভারী খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য পথ্য বেছে নিতে হবে:

প্রধান খাবার: চাল, মুগ ডাল ও সবজি দিয়ে তৈরি নরম খিচুড়ি বা জাউ ভাত হজম করা সহজ এবং দ্রুত শক্তি দেয়।

প্রোটিন: প্রতিদিন সেদ্ধ ডিম, হালকা মসলায় রান্না করা মুরগির পাতলা ঝোল এবং সহজে হজম হয় এমন মাছ (যেমন—শিং, শোল বা পাবদা) খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

সহজপাচ্য ফল ও অনুচক্রিকা (প্লেটলেট) বৃদ্ধির পুষ্টি

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও রক্তকণিকা তৈরিতে কিছু বিশেষ খাবার বেশ উপকারী:

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল: কমলা, মাল্টা বা লেবুর রস (অতিরিক্ত চিনি ছাড়া) অনাক্রম্যতা বাড়ায়।

অন্যান্য ফল: পাকা পেঁপে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, কলা দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ডালিম বা বেদনা আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জোগাতে সাহায্য করে।

সবুজ শাকসবজি: পালং শাক, মিষ্টি কুমড়া ও ব্রোকলিতে থাকা খনিজ রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

যেসব খাবার ও অভ্যাসে সতর্ক থাকবেন

গাঢ় লাল বা কালো রঙের খাবার বর্জন: বিট, চকলেট বা কৃত্রিম লাল রঙের জুস এড়িয়ে চলুন। কারণ বমি বা পায়খানার সাথে রক্তক্ষরণ হচ্ছে কিনা, তা বুঝতে এসব খাবার বিভ্রান্তি তৈরি করে।

অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ভাজাপোড়া: বমি ভাব ও অস্বস্তি বাড়ায় বলে হালকা মসলায় রান্না করা খাবারই শ্রেয়।

অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার: অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে গরুর মাংস, হাঁসের ডিম, চিংড়ি, ইলিশ ও বেগুন না খাওয়াই ভালো।

বমি বা পাতলা পায়খানা থাকলে: এ অবস্থায় শাকসবজি, ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে ভাতের মাড়, কাঁচা কলার ঝোল ও স্যুপ জাতীয় পথ্য দিতে হবে।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ:

ডেঙ্গু রোগীকে জোর করে একবারে বেশি না খাইয়ে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর ও তরল খাবার দিন। মুখের অরুচি কাটাতে পায়েস, ফিরনি বা পুডিংয়ের মতো অল্প পরিমাণের অথচ পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যেতে পারে।

চিকিৎসকের সঠিক নির্দেশনা, পর্যাপ্ত তরল, সুষম খাবার এবং পূর্ণ বিশ্রামই ডেঙ্গু থেকে দ্রুত মুক্তির প্রধান উপায়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার