Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

খাওয়ার পরপরই টয়লেটের চাপ আসে? জানুন কারণ

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম

খাওয়ার পরপরই টয়লেটের চাপ আসে? জানুন কারণ

বিজ্ঞাপন

খাবার শেষ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কি অনেক সময় টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন? বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। বরং অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটা দেখা যায়। এর পেছনে রয়েছে শরীরের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার নাম গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স।

খাবার গ্রহণের পর পেট যখন প্রসারিত হয়, তখন শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে কোলনে সংকেত পৌঁছায়। এর ফলে কোলনের নড়াচড়া বা পেরিস্টালসিস বেড়ে যায়। নতুন খাবারের জন্য জায়গা তৈরি করতে পাচনতন্ত্রে আগে থেকে থাকা বর্জ্য পদার্থকে সামনে এগিয়ে দেয় এই প্রক্রিয়া। ফলে খাবার শেষ করার অল্প সময়ের মধ্যেই মলত্যাগের চাপ অনুভূত হতে পারে।

২০২৩ সালের স্ট্যাটপার্লস ফিজিওলজি রিভিউ অনুযায়ী, খাবার গ্রহণের পর গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স কোলনের কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়। পেট খাবারে পূর্ণ হয়ে প্রসারিত হলে স্নায়ু সংকেত কোলনে পৌঁছায় এবং সেখানে তুলনামূলক শক্তিশালী সংকোচন শুরু হতে পারে। এ কারণেই খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই টয়লেটে যাওয়ার তাগিদ তৈরি হওয়া সম্ভব।

সাধারণত সকালে এবং খাবার খাওয়ার পর এই রিফ্লেক্স সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে এর তীব্রতা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। বিশেষ করে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)-এর মতো সমস্যায় এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তীব্র হতে পারে। ফলে হঠাৎ ও জরুরি ভিত্তিতে টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন
কারও কারও ক্ষেত্রে বেশি হয় কেন?

খাবারের ধরনও গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্সের তীব্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে। বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কারও কারও ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হতে পারে।

এ ছাড়া কফির মতো গরম পানীয়ও অন্ত্রের কার্যকলাপ বাড়াতে পারে। আবার কোনো নির্দিষ্ট খাবারে ফুড ইনটলারেন্স থাকলে সেটি স্বাভাবিক গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত হজমজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। উদ্বেগ ও মানসিক চাপও অন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে এই ধরনের তাগিদকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

খাওয়ার পরপরই মলত্যাগ করা কি স্বাভাবিক?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খাওয়ার পর মলত্যাগের প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। বিশেষ করে যদি দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভ্যাস থাকে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ না থাকে, তাহলে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

তবে এটি যদি হঠাৎ নতুন করে শুরু হয়, নিয়মিতভাবে বাড়তে থাকে, অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয় কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি করে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার