বিজ্ঞাপন
ডায়াবেটিস হাইপ্রেশার যেভাবে নীরবে শেষ করছে কিডনি, বাঁচার উপায় কী
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) কিডনি বিকলের প্রধান দুই ঝুঁকির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগীদের প্রায় ৭৫ শতাংশের ক্ষেত্রে এই দুই রোগের একটি বা উভয়ই বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ থেকে ১১ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের জটিলতাও বাড়ে। এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগ সবচেয়ে সাধারণ, যা মানুষের জীবনযাত্রার মান ও আয়ু কমিয়ে দেয়।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে থাকলে কিডনির ক্ষতি দ্রুত বাড়ে। ফলে অনেক রোগীকেই অল্প সময়ের মধ্যে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিসের প্রভাব
টাইপ-১ ডায়াবেটিস তুলনামূলক কম দেখা গেলেও টাইপ-২ ডায়াবেটিস বর্তমানে বেশি ছড়াচ্ছে। এটি সাধারণত ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণে হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
রক্তে অতিরিক্ত শর্করা শরীরের ক্ষুদ্র রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে তিনটি বড় জটিলতা দেখা দেয়—
স্নায়ুর সমস্যা (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি)
কিডনি রোগ (প্রস্রাবে প্রোটিন নিঃসরণ)
চোখের সমস্যা (রেটিনোপ্যাথি)
চিকিৎসকদের মতে, শুধু রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য ঠিক রাখা জরুরি।
উচ্চ রক্তচাপের নীরব ক্ষতি
উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। এটি কিডনি, চোখ ও হৃদরোগের বড় ঝুঁকির কারণ।
বংশগত কারণ, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং মানসিক চাপ এর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির ক্ষতি দ্বিগুণ হয়। অনেক ক্ষেত্রে কিডনি রোগের শেষ পর্যায়ে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে।
বাড়ছে ঝুঁকি
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করলে দ্রুত ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দক্ষিণ এশিয়ায় এ রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে।
প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পরীক্ষা
৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি
বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা
পরিবারে ইতিহাস থাকলে আগেভাগেই স্ক্রিনিং
নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বা স্থূলতা থাকলে সতর্কতা জরুরি
করণীয় ও সচেতনতা
সুস্থ থাকতে কিছু অভ্যাস মেনে চলা প্রয়োজন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
নিয়মিত ব্যায়াম
কম লবণ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ
কোমরের মাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
চিকিৎসা বিজ্ঞানে বর্তমানে আধুনিক ওষুধ যেমন SGLT2 ইনহিবিটর ও GLP-1 রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট কিডনি সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।