Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

সুগার ফ্রি মানেই কি নিরাপদ, জানুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

সুগার ফ্রি মানেই কি নিরাপদ, জানুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে

বিজ্ঞাপন

ওজন কমানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কিংবা স্বাস্থ্য সচেতন জীবনযাপনের জন্য এখন অনেকেই চিনি বাদ দিয়ে কৃত্রিম সুইটনার ব্যবহার করছেন। চা-কফি থেকে শুরু করে সফট ড্রিংক, ডায়েট খাবার, প্রোটিন বার কিংবা সুগার-ফ্রি ডেজার্টেও এসব সুইটনারের ব্যবহার বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি এগুলো নিরাপদ? নাকি কম ক্যালরির এই মিষ্টতার আড়ালেও রয়েছে কিছু ঝুঁকি?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সম্প্রতি জানিয়েছে, শুধুমাত্র ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদে নন-সুগার সুইটনার ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো সবসময় প্রত্যাশিত উপকার দেয় না। বরং কিছু ক্ষেত্রে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

কী এই কৃত্রিম সুইটনার

কৃত্রিম সুইটনার হলো এমন কিছু রাসায়নিক বা প্রক্রিয়াজাত উপাদান, যা চিনির তুলনায় অনেক বেশি মিষ্টি হলেও এতে ক্যালরি কম থাকে বা একেবারেই থাকে না। সাধারণভাবে ব্যবহৃত সুইটনারগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাসপারটেম, সুক্রালোজ, স্যাকারিন, স্টিভিয়া এবং এসেসালফেম পটাশিয়াম।

এসব উপাদান সাধারণ চিনির বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করা হয়। বিশেষ করে ডায়েট কোলা, সুগার ফ্রি বিস্কুট, চুইংগাম কিংবা ডায়াবেটিক খাবারে এগুলো বেশি দেখা যায়।

মানুষ কেন সুইটনারের দিকে ঝুঁকছে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি খেলে ওজন বাড়া, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই অনেকে চিনির বদলে কম ক্যালরিযুক্ত বিকল্প খুঁজছেন।

অনেকে মনে করেন, কৃত্রিম সুইটনার খেলে সহজেই ওজন কমানো সম্ভব হবে। কারণ এতে মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়, কিন্তু ক্যালরি কম থাকে। তবে বাস্তবতা সবসময় এত সহজ নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে

২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি নির্দেশিকায় জানায়, ওজন কমানো বা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণের জন্য নন-সুগার সুইটনার কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।

সংস্থাটি আরও বলেছে, দীর্ঘদিন নিয়মিত এসব সুইটনার গ্রহণ করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাও স্পষ্ট করেছে যে, এই পরামর্শ ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। অর্থাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

কৃত্রিম সুইটনারের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সব মানুষের শরীরে সুইটনার একইভাবে কাজ করে না। তবে বিভিন্ন গবেষণায় কিছু সম্ভাব্য সমস্যার কথা উঠে এসেছে।

ক্ষুধা বাড়তে পারে: অনেক সময় শরীর মিষ্টি স্বাদ পেলেও প্রয়োজনীয় ক্যালরি না পেলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হতে পারে। এতে পরে আরও বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ফলে ওজন কমার বদলে উল্টো বাড়তেও পারে।

পেটের সমস্যার ঝুঁকি: কিছু সুইটনার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। এর ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মিষ্টির প্রতি নির্ভরতা বাড়তে পারে: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব বেশি মিষ্টি স্বাদের খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে স্বাভাবিক খাবারের স্বাদ ধীরে ধীরে কম আকর্ষণীয় লাগতে পারে। এতে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি আরও বাড়তে পারে।

হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: কিছু পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় কৃত্রিম সুইটনারের সঙ্গে হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

তাহলে কি চিনিই ভালো?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত চিনি যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত কৃত্রিম সুইটনারও আদর্শ সমাধান নয়।

সাধারণ চিনি শরীরে দ্রুত শক্তি দিলেও অতিরিক্ত খেলে তা স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে কৃত্রিম সুইটনার কম ক্যালরিযুক্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

অর্থাৎ একটিকে পুরোপুরি ভালো বা অন্যটিকে পুরোপুরি খারাপ বলা কঠিন।

কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়

বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ পরামর্শ দিচ্ছেন-

অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের অভ্যাস কমাতে হবে

সম্ভব হলে প্রাকৃতিক খাবারের স্বাদে অভ্যস্ত হতে হবে

সফট ড্রিংক বা প্রসেসড খাবার কম খেতে হবে

ফল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বেছে নেওয়া ভালো

ডায়াবেটিস বা অন্য শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শুধু সুগার-ফ্রি লেখা দেখেই কোনো খাবারকে পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর ভাবা ঠিক নয়। খাবারের পুরো উপাদান ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।

চিনি কমানোর চেষ্টা অবশ্যই ভালো অভ্যাস। তবে তার মানে এই নয় যে, কৃত্রিম সুইটনার ইচ্ছেমতো খেলেও কোনো সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি হলো ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সচেতনতা।

কম ক্যালরির মিষ্টি স্বাদ হয়তো সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য কী ভালো, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তথ্য জেনে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার