বিজ্ঞাপন
অনিদ্রা যেভাবে তরুণদের মধ্যে তিন গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
বিজ্ঞাপন
অতিরিক্ত কাজের চাপ আর অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে ঘুমের সমস্যা এখন অত্যন্ত সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই অনিয়মিত বা কম ঘুম কেবল পরের দিন শরীর ক্লান্তই করে না, বরং এটি শরীরে বড় ধরনের রোগও ডেকে আনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান ক্যান্সার সম্মেলনে উপস্থাপিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা অনিয়মিত ঘুম ৫০ বছর বয়সের আগেই মানুষের শরীরে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়তে থাকার পেছনে ঘুমের এই সমস্যা অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন।
বিগত তিন দশকে বিশ্বজুড়ে তরুণ ও যুবকদের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে বিশ্বব্যাপী ৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে যেখানে ক্যান্সারের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার, সেখানে ২০১৯ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লাখ ৬০ হাজারে। অর্থাৎ, তরুণদের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্তের হার প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ৪০ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সিদের মধ্যে ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দারুণভাবে চিন্তিত করে তুলেছে।
তরুণদের মধ্যে ক্যান্সারের এই আকস্মিক বৃদ্ধির সঠিক কারণ উদঘাটনে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত বিখ্যাত এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকরা এই বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে অনিদ্রা বা ঘুমের ব্যাঘাতকে চিহ্নিত করেছেন। আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সভায় এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণার সুবিধার্থে বিজ্ঞানীরা ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মার্কিন নাগরিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ও ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন।
এই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো, যেসব তরুণ বা মধ্যবয়সি মানুষ ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা, অপর্যাপ্ত ঘুম কিংবা অনিয়মিত ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের মধ্যে অল্প বয়সেই ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। বিশেষ করে, ৫০ বছরের কম বয়সি যেসব ব্যক্তির ইনসোমনিয়া ধরা পড়েছে, পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি দেখা গেছে।
অবশ্য গবেষকরা এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে এই ফলাফল সরাসরি প্রমাণ করে না যে কেবল ঘুমের অভাবেই ক্যান্সার হয়। তবে এটি নিশ্চিত করে যে অনিদ্রা ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার একটি অন্যতম প্রধান অনুঘটক বা উপাদান। ঘুমের এই সমস্যার পেছনে কী ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া বা শারীরিক পরিবর্তন কাজ করে, তা পুরোপুরি বুঝতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য মানসম্মত ঘুম অপরিহার্য এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: সামা টিভি।