Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

প্রস্রাবের সময় কেন অজ্ঞান হয়ে পড়েন অনেকে?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

প্রস্রাবের সময় কেন অজ্ঞান হয়ে পড়েন অনেকে?

বিজ্ঞাপন

রন নামে এক রোগী গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ প্রস্রাবের চাপ অনুভব করেন। দ্রুত বিছানা ছেড়ে বাথরুমে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মাথা ঘোরে, এরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফেরে রাত ২টার দিকে—তিনি তখন বাথরুমের মেঝেতে পড়ে আছেন, কনুইয়ে ব্যথা আর মাথায় আঘাত নিয়ে। রন মারা যাননি, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারত।

একা রনের ঘটনা নয়

প্রস্রাবের সময় বা প্রস্রাব শেষ হওয়ার পর হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় মিক্টুরিশন সিনকোপ। এটি মূলত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়—প্রায় ৬৬ থেকে ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে। তবে নারীরাও আক্রান্ত হতে পারেন।

এই সমস্যাটি যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে দুইটি বয়সে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি—

৩৮–৪৪ বছর বয়সিরা, যাদের ক্ষেত্রে সাধারণত অতিরিক্ত মদ্যপানের পর রাতে এই ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা, যাদের ক্ষেত্রে মধ্যরাত বা ভোরে এই সমস্যা দেখা যায়

এই অজ্ঞান হওয়া কি মৃত্যুর কারণ হতে পারে?

মিক্টুরিশন সিনকোপ সাধারণত ভয়ংকর কোনো রোগ নয়। কিন্তু বিপদ ঘটে পড়ে যাওয়ার সময়। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে কেউ যদি শক্ত মেঝে বা ধারালো আসবাবের কোণে মাথা আঘাত পান, তাহলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ঝুঁকিও থাকে। কেউ যদি একা থাকেন এবং পড়ে গিয়ে উঠতে না পারেন বা সাহায্য ডাকতে না পারেন, তাহলে কয়েক দিন পড়ে থাকাও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

কেন হয় মিক্টুরিশন সিনকোপ?

প্রস্রাবের সময় মূত্রথলির কিছু স্নায়ু সক্রিয় হয়। এই স্নায়ু মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়, যার ফলে শরীরের ভ্যাগাস নার্ভ উত্তেজিত হয়। এতে—

  • হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায়
  • শরীরের রক্তনালি প্রশস্ত হয়

ফলে হঠাৎ রক্তচাপ অনেকটা কমে যায়। এই অবস্থায় মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে গিয়ে মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন
দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে ঝুঁকি বেশি

পুরুষদের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার সময় রক্তচাপ আরও বেশি কমে যেতে পারে। যদি এর সঙ্গে অ্যালকোহল পান করা থাকে, তাহলে ঝুঁকি আরও বাড়ে—কারণ অ্যালকোহল শরীর থেকে পানি বের করে দেয় এবং রক্তনালি শিথিল করে।

এ ছাড়া প্রস্রাব বা পায়খানার সময় অতিরিক্ত চাপ দিলে বুক ও পেটের ভেতরের চাপ বেড়ে যায়। এতে হৃদপিণ্ডে রক্ত ফেরত কম আসে, রক্তচাপ আরও কমে গিয়ে অজ্ঞান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

কীভাবে এই ঝুঁকি কমানো যায়?

  • রাতে ঘুমানোর আগে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যেন রক্তচাপ খুব কম না থাকে
  • ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এড়িয়ে চলুন
  • রাতে প্রস্রাবের জন্য উঠলে সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়াবেন না—কিছুক্ষণ বিছানায় বসে থাকুন
  • পুরুষদের জন্য রাতে বসে প্রস্রাব করা বেশি নিরাপদ
  • প্রস্রাব বা পায়খানার সময় জোর করবেন না
  • বয়স্কদের ক্ষেত্রে মেডিকেল অ্যালার্ট ডিভাইস থাকলে পড়ে গেলে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়
  • কেউ কেউ অজ্ঞান হওয়ার আগের লক্ষণ টের পান—এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ুন, পা উঁচু করুন বা পা শক্ত করে চেপে ধরুন
  • যারা রক্তচাপের ওষুধ খান, তারা রাতে একসঙ্গে বেশি ওষুধ না খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

মনে রাখবেন, সমস্যা নিজে বিপজ্জনক নয়—বিপদ হলো হঠাৎ পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া

শেষ কথা

মিক্টুরিশন সিনকোপ সাধারণত প্রাণঘাতী নয়, তবে এটি বারবার হতে পারে। সচেতনতা আর কিছু সহজ অভ্যাস এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। ছোট সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার