বিজ্ঞাপন
যে কারণে পুরুষের চেয়ে নারীর থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
বিজ্ঞাপন
এখনকার সময়ে কমবেশি অনেক নারীই থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগে থাকেন। সে জন্য নিয়মিত ওষুধও সেবন করতে হয় তাদের। যদিও থাইরয়েড ভয়ের কারণ নয়, তবে থাাইরয়েড গ্রন্থির কোষগুলোর অনিয়মিত বিভাজন যদি শুরু হয়ে যায়, তখন তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
গলাব্যথা মাঝেমধ্যেই ভোগায়। ওজনও বাড়ছে। রাতে ঘুম কম হয় এবং গলার কাছে ফোলা ভাব। কখনাবা হালকা ব্যথা, আবার কখনো বা জ্বালা-জ্বালা অনুভূতি। থাইরয়েডের সমস্যা নয় তো? হতেই পারে। গলার নিচে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে এটা হয়। আর নিয়মিত ওষুধও খেতে হয় সে জন্য। থাইরয়েড শুধু নারীদের নয়, পুরুষেও হয়ে থাকে। তা তেমন ভয়ের নয়। তবে যদি থাইরয়েড গ্রন্থির কোষগুলোর অস্বাভাবিক ও অনিয়মিত বিভাজন শুরু হয়, তখনই তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
থাইরয়েড ক্যানসার নিয়ে বিশ্বজুড়েই গবেষণা চলছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণা বলছে, পুরষের চেয়ে নারীর থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি হয়ে থাকে। এর নেপথ্যে রয়েছে হরমোনজনিত নানা কারণ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন নারীর থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি—
কেন নারীর থাইরয়েড ক্যানসার বেশি হয়?
ক্যানসার মূলত শুরু হয় যখন থাইরয়েড কোষের ডিএনএতে বদল ঘটে। অর্থাৎ কোষের ভেতরে রাসায়নিক বদল শুরু হয়। এর জন্য অনেকটাই দায়ী নারীর ইস্ট্রোজেন হরমোন। গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, এই হরমোন থাইরয়েড কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। বয়ঃসন্ধিকালে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ইস্ট্রোজেন হরমোনের ওঠানামা হয়। ওই সময়েই হরমোনের গোলমালের কারণে থাইরয়েড কোষের বিভাজন শুরু হতে পারে, যা পরে গিয়ে ক্যানসারের রূপ নিতে পারে। আর পরিবারে কারও ক্যানসার থাকলে তার থেকেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিন না থাকলে, তার থেকেও থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
আর নারীর ৪০ বা ৪৫ বছরের পর থেকে থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে ইদানীং বয়স ৩০ পার হওয়ার পরও ক্যানসারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এ কারণই হলো হরমোনের গোলমাল, যা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের অসংযমের কারণে দেখা দিচ্ছে। থাইরয়েড গ্রন্থিতে মাংসল পিণ্ড বা টিউমার হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। টিউমারের আকার খুব ছোট হলে বাইরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না, কিন্তু একটু বড় হলে তার উপস্থিতি বাইরে থেকে বোঝা যায়। এ ছাড়া গলার স্বরে বদল আসে, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যেতে বা অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে, কিছু গিলতে গেলে কষ্ট হয়, সংক্রমণ ছাড়াই একটানা কাশি ভোগায়।
থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়যোগ্য— এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে ক্যানসার চিকিৎসক শুভদীপ চক্রবর্তী বলেন, এ রোগ সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ে ধরা পড়ে। রোগ যে পর্যায়েই ধরা পড়ুক না কেন, অস্ত্রোপচারে সেরে যায় অনেক ক্ষেত্রেই। স্ক্যান করে যদি দেখা যায়, শরীরের অন্যত্র রোগ ছড়িয়েছে, রেডিও থেরাপি করে চিকিৎসা করা হয়। পুরো চিকিৎসার পর রোগ ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারেই কম৷ তবে যদি অনেক বেশি বয়সে গিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে ভয়ের কারণ থেকেই যায়। সে কারণে থাইরয়েড থাকলে তার নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন