Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

স্ত্রী রাগ করলে পুরুষেরা প্রায়ই নীরব থাকে কেন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

স্ত্রী রাগ করলে পুরুষেরা প্রায়ই নীরব থাকে কেন

বিজ্ঞাপন

দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য নতুন কিছু নয়। তবে এমন সময় অনেক নারীর পরিচিত অভিযোগ—রাগ বা অভিমান করলে স্বামী হঠাৎ চুপ করে যান। বাইরে থেকে এটি উদাসীনতা বা অবহেলার মতো মনে হলেও, মনোবিজ্ঞান বলছে বিষয়টি সব সময় তেমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই নীরবতা পুরুষদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া—একধরনের আত্মরক্ষার কৌশল।

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অনেক দাম্পত্য জীবনেই দেখা যায় এবং এর পেছনে রয়েছে পুরুষদের মানসিক ও জৈবিক কিছু সীমাবদ্ধতা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পুরুষদের নীরবতার প্রধান দুটি কারণ হলো লজ্জা এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়। সমাজ পুরুষদের শেখায় শক্ত থাকতে, দুর্বলতা প্রকাশ না করতে। ফলে নিজের প্রয়োজন বা কষ্টের কথা বলাকে তারা দুর্বলতা হিসেবে দেখতে শেখে।

অনেক পুরুষ বিশ্বাস করেন, ঝগড়ার সময় কথা বললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তারা নীরব থাকাই বেছে নেন। স্ত্রী অসন্তুষ্ট হলেই সেটিকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা—এটিও তাদের চুপ করে যাওয়ার একটি বড় কারণ। ‘স্ত্রী খুশি তো সংসার সুখী’—এই ভাবনা অনেক সময় নিজের অনুভূতিকে আড়াল করে দেয়।

এটি শুধু মানসিক বিষয় নয়, এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, তীব্র ঝগড়ার সময় পুরুষদের মস্তিষ্কের আবেগ ও সহমর্মিতা-সংক্রান্ত অংশ কম সক্রিয় হয়ে পড়ে।

ইউএসসির কগনিটিভ অ্যান্ড ইমোশনাল ল্যাবের একজন পরিচালক বলেন, অতিরিক্ত চাপের মুখে পুরুষদের মস্তিষ্ক ভয় বা রাগের মতো আবেগপূর্ণ সংকেত ঠিকভাবে ধরতে পারে না। তখন মস্তিষ্ক নিজেকে রক্ষায় একধরনের ‘বিশ্রাম অবস্থায়’ চলে যায়—আর তার ফল হয় নীরবতা।

নারীদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা ঘটে। চাপ বাড়লে তারা আরও বেশি কথা বলতে চান, অনুভূতি ভাগাভাগি করতে চান। এখান থেকেই তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি—স্ত্রী যত কাছে আসতে চান, স্বামী তত বেশি চাপ অনুভব করে আরও দূরে সরে যান।

এই বাস্তবতা বুঝতে পারলে দাম্পত্য সম্পর্কে সহানুভূতি বাড়ানো সম্ভব। অনেক সময় পুরুষের নীরবতা মানে ভালোবাসার অভাব নয়, বরং তা মানসিক চাপ সামলানোর চেষ্টা। তাই রাগের মুহূর্তে সঙ্গে সঙ্গে কথা বলার জন্য চাপ না দিয়ে কিছুটা সময় ও নিরাপদ পরিবেশ দিলে পুরুষদের জন্য নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা সহজ হয়।

দাম্পত্য জীবনে সুখী থাকার মূল চাবিকাঠি হলো—একে অপরের আচরণের পেছনের কারণ বোঝার চেষ্টা করা। কারণ অনেক সময় নীরবতার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে গভীর অনুভূতিগুলো।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার