Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

লাইফস্টাইল

যে রক্তের গ্রুপের মানুষদের পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫০ এএম

যে রক্তের গ্রুপের মানুষদের পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি?

বিজ্ঞাপন

রক্তের গ্রুপ সাধারণত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা গুরুত্ব পায় না। হাসপাতালের কাগজপত্রে বা রক্তদানের সময় একবার লেখা হয়ে গেলে, অনেকের কাছেই বিষয়টি আর মাথায় থাকে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই সাধারণ তথ্যের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত। বিশেষ করে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপ বারবার গবেষকদের নজরে এসেছে। সেটি হলো রক্তের গ্রুপ ‘এ’।

এই তথ্য হঠাৎ করে সামনে আসেনি। বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং দীর্ঘ সময়ের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত একটি বড় পরিসরের পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপ এ-এর মানুষদের পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার অন্য রক্তের গ্রুপের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি, বিশেষ করে রক্তের গ্রুপ ও-এর তুলনায়। গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে রয়েছে রক্তের গ্রুপ এ-এর অ্যান্টিজেন পাকস্থলীর ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে যেভাবে আচরণ করে, তার জৈবিক প্রভাব।

পাকস্থলীর ক্যান্সার সাধারণত একক কোনো কারণে হয় না। খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, সংক্রমণ, পরিবেশগত প্রভাব সবই এতে ভূমিকা রাখে। তবুও গবেষণায় এসব বিষয় সমন্বয় করে বিশ্লেষণ করার পরও দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপ এ একটি সূক্ষ্ম কিন্তু ধারাবাহিক ঝুঁকির উপাদান হিসেবে থেকে যাচ্ছে। ঝুঁকিটি হঠাৎ বা অতিমাত্রায় নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে কাজ করে। বিজ্ঞানীদের মতে, যখন কোনো সম্পর্ক বারবার প্রমাণিত হয়, তখন সেটিকে কাকতালীয় বলা যায় না।

অনেকেই জানেন না, রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিজেন শুধু রক্তেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকস্থলীর কোষের পৃষ্ঠেও এই অ্যান্টিজেন উপস্থিত থাকে। রক্তের গ্রুপ এ-এর ক্ষেত্রে এই অ্যান্টিজেনের গঠন পাকস্থলীর কোষগুলোর আচরণে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে। অ্যাসিডের প্রভাব, জ্বালা বা বারবার ক্ষতির মুখে পড়লে এই কোষগুলোর নিজেকে ঠিক করার প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বছরের পর বছর ধরে এই ক্ষতি ও মেরামতের চক্র চলতে থাকলে কোষে ত্রুটি জমা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

পাকস্থলীর ক্যান্সারের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি সংক্রমণ। বহু মানুষ এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে বহন করলেও কোনো উপসর্গ টের পান না। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপ এ-এর মানুষের পাকস্থলীর কোষে এই ব্যাকটেরিয়া তুলনামূলকভাবে সহজে লেগে থাকতে পারে। ফলে শরীরের পক্ষে সংক্রমণ দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং বছরের পর বছর ধরে নিঃশব্দ প্রদাহ চলতে থাকে।

অন্যদিকে, জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় রক্তের গ্রুপ ও-এর মানুষের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যান্সারের হার তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। পাকস্থলীর কোষে এ বা বি অ্যান্টিজেন না থাকায় ব্যাকটেরিয়ার সংযুক্তি ও প্রদাহের ধরন ভিন্ন হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা। যদিও এটি সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করে না, তবুও ঝুঁকির পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

তবে চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে বলছেন, রক্তের গ্রুপ কখনোই একা নির্ধারণ করে না কে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন আর কে হবেন না। রক্তের গ্রুপ এ-এর অনেক মানুষ সারা জীবন কোনো সমস্যা ছাড়াই কাটান, আবার অন্য রক্তের গ্রুপের মানুষও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ধূমপান, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, মদ্যপান, দীর্ঘদিনের অনিরাময়যোগ্য সংক্রমণ এবং পারিবারিক ইতিহাস ঝুঁকির ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য জানার উদ্দেশ্য আতঙ্ক তৈরি করা নয়। বরং সচেতনতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। রক্তের গ্রুপ এ-এর মানুষদের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে, যাতে দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা, পেটব্যথা বা অস্বস্তিকে অবহেলা না করা হয়। সময়মতো হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

গবেষণার সারকথা হলো, রক্তের গ্রুপ এ-এর সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকির একটি ধারাবাহিক সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে রক্তের গ্রুপ ও-এর তুলনায়। এই সম্পর্কের পেছনে রয়েছে অ্যান্টিজেনের ভূমিকা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং সংক্রমণ। রক্তের গ্রুপ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, তবে সঠিকভাবে বোঝা গেলে এটি রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসার পথে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার