বিজ্ঞাপন
রিয়াদে আহত ৪ বাংলাদেশির অবস্থা আশঙ্কাজনক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। তাদের বিকল্প বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
শাহেদ সৌদি আরবের জেদ্দায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে তিনি বিমানবন্দরে ট্রানজিট ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন। অন্যদিকে, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন নাসরুল্লাহ।
আহত ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৬ জন ওমরাহ যাত্রী। তাদের মধ্যে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বাকি ১৫ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের মধ্যে নওগাঁর সাফফাত রহমান রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। ঢাকার লালবাগের মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভের বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তিনি রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলার পর আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৭ জনকে ম্যারিয়ট হোটেল, ২৫ জনকে রেডিসন ব্লু হোটেল এবং ৪০ জনকে প্রিন্সেস নুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে।
রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া পাসপোর্ট হারানো তিন বাংলাদেশির জন্য জরুরি ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছে দূতাবাস।
সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রিয়াদে কর্মী যাওয়া এবং রিয়াদ থেকে কর্মী, অসুস্থ ব্যক্তি ও মৃতদেহ দেশে পাঠানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।