Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

তথ্যপ্রযুক্তি

ফোনে সহজেই চালু করুন স্টারলিংকের মোবাইল সেবা

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

ফোনে সহজেই চালু করুন স্টারলিংকের মোবাইল সেবা

বিজ্ঞাপন

মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজ শেষ হয়ে গেলেও এবার ফোনে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা চালু হওয়ায় দুর্গম পাহাড়, উপকূল, সমুদ্র কিংবা নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায়ও মোবাইল ফোনে সীমিত যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার পথ খুলেছে।

এই সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা বা বিশেষ যন্ত্র কিনতে হবে না। প্রযুক্তিসমর্থিত ৪জি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ফোনের সামঞ্জস্য এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটি চালু আছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

আলাদা অ্যাপ লাগবে?

না। স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ তৈরির জন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করে জটিল সেটআপ করার প্রয়োজন নেই। বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সেবা বা নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংসও হালনাগাদ রাখতে হবে। পাশাপাশি ফোনে ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা সক্রিয় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কখন স্যাটেলাইটে যাবে ফোন?

প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজের বাইরে চলে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খোলা আকাশের নিচে থাকা সুবিধাজনক, কারণ ভবন, পাহাড় বা অন্য কোনো বড় বাধা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই প্রতিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেবা পাওয়া যাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, স্যাটেলাইট কাভারেজ, অবস্থান এবং অপারেটরের সেবার শর্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।

প্রথম মাসে বাড়তি খরচ নেই

সেবা চালুর প্রথম মাসে যেকোনো ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলালিংক।

দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কী ধরনের কাজ করা যাবে?

এই সেবার মূল উদ্দেশ্য প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হিসেবে সীমিত যোগাযোগ সুবিধা দেওয়া। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা, সমুদ্র, উপকূল এবং দুর্যোগের সময় এটি কাজে আসতে পারে।

স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অ্যাপ, মেসেজিং ও লোকেশনভিত্তিক কিছু সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে প্রচলিত ৪জি বা ৫জি মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সেবা আশা করা ঠিক হবে না।

স্যাটেলাইট ডিশের প্রয়োজন নেই

বাংলালিংকের এই সেবা প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মতো নয়। সাধারণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট স্থানে ডিশ বা অ্যান্টেনা বসিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে উপযুক্ত মোবাইল ফোনই স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। ফলে বাড়ি বা অফিসে আলাদা কোনো ডিশ বসানোর প্রয়োজন নেই।

অন্য অপারেটরের গ্রাহকরা কি পাবেন?

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে সেবাটি বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। অন্য অপারেটরের সিম ব্যবহারকারীরা একই সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই শুধু ফোরজি ফোন থাকলেই যে স্টারলিংকভিত্তিক সেবা ব্যবহার করা যাবে, তা নয়। বাংলালিংক সিম, সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা-তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।

সংযোগ না এলে কী করবেন?

ফোনে ফোরজি সুবিধা থাকলেও স্যাটেলাইট সংযোগ না এলে প্রথমে ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস পরীক্ষা করতে হবে। এরপর মাইবিএল অ্যাপে সেবাটি আপনার নম্বরে সক্রিয় আছে কি না দেখা যেতে পারে। এসব ঠিক থাকার পরও সংযোগ না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে নম্বরের যোগ্যতা, কাভারেজ ও ব্যবহারের শর্ত জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার