বিজ্ঞাপন
হ্যাক হওয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কয়েক মিনিটেই ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া এখন বেশ সাধারণ একটি সমস্যা। তবে এমন পরিস্থিতিতে শুধু অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিই থাকে না, ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা, যোগাযোগের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্যও হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হ্যাকাররা অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দেয়, ব্যবহারকারীর নামে পোস্ট করে বা পরিচিতজনদের কাছে প্রতারণামূলক বার্তা পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সেটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
হ্যাক হওয়ার লক্ষণ কী?
ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কোনো কার্যক্রম দেখা গেলে সতর্ক হওয়া উচিত। আপনার অনুমতি ছাড়া পোস্ট বা মন্তব্য করা, প্রোফাইল ছবি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন হয়ে যাওয়া, নতুন ই-মেইল বা ফোন নম্বর যুক্ত হওয়া অথবা পুরোনো তথ্য মুছে ফেলা—এসবই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত। এছাড়া অচেনা ডিভাইস বা অবস্থান থেকে লগইনের নোটিফিকেশন এলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
হ্যাকড অ্যাকাউন্ট রিকভারি পেজ ব্যবহার করুন
অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে সন্দেহ হলে প্রথমেই ফেসবুকের নির্ধারিত রিকভারি পেজ ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য ব্রাউজারে facebook.com/hacked ঠিকানায় যেতে হবে। সম্ভব হলে এমন কোনো ডিভাইস ব্যবহার করুন, যেটি দিয়ে আগে ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করা হয়েছিল। এরপর স্ক্রিনে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করুন। পুরোনো ফোন নম্বর বা ই-মেইল মনে না থাকলেও অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত অন্য তথ্য ব্যবহার করে চেষ্টা করা যেতে পারে।
অ্যাকাউন্ট ফিরে পেলে যা করবেন
অ্যাকাউন্টে আবার প্রবেশাধিকার পাওয়ার পরই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা জরুরি। এজন্য ফেসবুকের Settings & Privacy থেকে Settings-এ গিয়ে Accounts Center-এর Password and Security অপশনে প্রবেশ করতে হবে। এরপর Change Password নির্বাচন করে নতুন ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে।
একই পাসওয়ার্ড যদি অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেগুলোর পাসওয়ার্ডও পরিবর্তন করা উচিত।
পুরনো তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট শনাক্তের চেষ্টা
হ্যাকার যদি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ই-মেইল বা ফোন নম্বর পরিবর্তন করে দেয়, তাহলে সাধারণভাবে লগইন করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে facebook.com/login/identify পেজে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুঁজে দেখা যেতে পারে। ফোন নম্বর বা ই-মেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুঁজে না পাওয়া গেলে নিজের নাম বা ইউজারনেম ব্যবহার করেও শনাক্ত করার চেষ্টা করা যায়।
পুরনো ডিভাইস ব্যবহার করলে সুবিধা
অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের সময় আগে ব্যবহার করা স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা অন্য কোনো পরিচিত ডিভাইস ব্যবহার করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। অ্যাকাউন্ট শনাক্ত হওয়ার পর ফেসবুক যে রিকভারি অপশন দেখাবে, সেগুলো অনুসরণ করতে হবে।
প্রয়োজনে “No longer have access to these?” অপশন নির্বাচন করে নতুন যোগাযোগের তথ্য দেওয়ার সুযোগও পাওয়া যেতে পারে। তবে নতুন যে তথ্য দেওয়া হবে, সেটি আগে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল না—এমন তথ্য হওয়া ভালো। এরপর ফেসবুকের নির্ধারিত নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করে অ্যাকাউন্টের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।
সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে ফেসবুকের অতিরিক্ত সহায়তা বা অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অ্যাকাউন্ট ফেরানোর নামে তৃতীয় পক্ষকে অর্থ দেওয়া বা অপরিচিত কারও সাহায্য নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কেউ ফেসবুকের কর্মী পরিচয় দিয়ে পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা নিরাপত্তা কোড চাইলে তা কখনোই শেয়ার করা উচিত নয়।
অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করা, অচেনা ডিভাইস থেকে লগআউট করা এবং অ্যাকাউন্টে যুক্ত ই-মেইল ও ফোন নম্বর যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।