Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

তথ্যপ্রযুক্তি

১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ এএম

১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বিজ্ঞাপন

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশন ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেন, শিশুরা এমন এক জটিল প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের কল্যাণ ও বিকাশের বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের মতো অনলাইন জগতেও শিশুদের জন্য স্পষ্ট নিরাপত্তা সীমা তৈরি করতে চায় ইইউ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে শিশুদের অনলাইন কার্যক্রম, ব্যবহারের সময় এবং বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের ওপর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

নতুন নিয়ম শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন গেম, শিশুদের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গী ও কথোপকথন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। শিশুদের অতিরিক্ত সময় ধরে অনলাইনে রাখে এমন বিভিন্ন সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রস্তাবে সীমাহীনভাবে একের পর এক ভিডিও বা পোস্ট দেখানোর ব্যবস্থা, ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা পরামর্শমূলক বিষয়বস্তু, পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার কৌশল এবং অপরিচিত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গী ও কথোপকথন ব্যবস্থাও শুরু থেকেই বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ অ্যালগরিদম তৈরির পাশাপাশি সহজে অন্য ব্যবহারকারীকে বন্ধ বা নীরব করার সুবিধা দিতে হবে। অভিভাবকদের জন্যও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে পারেন।

নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যাতে বয়স যাচাই করা গেলেও অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণের ঝুঁকি কম থাকে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তদারকির খরচ মেটাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আলাদা ফিও নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি। আগামী মাসগুলোতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকার এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে প্রস্তাবের বিভিন্ন ধারা পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হবে।

এদিকে প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গুগল ও মেটার প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ প্রযুক্তি লবিং সংগঠন সিসিআইএ ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংগঠনটি আরও বলেছে, প্রস্তাবের কিছু বিষয় ইইউর বিদ্যমান আইনগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ ইইউর জন্য নতুন হলেও বিশ্বের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, চীন, ভারত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আলাদা আলাদা বিধিনিষেধ চালু বা প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার