Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

তথ্যপ্রযুক্তি

ফ্রি ওয়াই-ফাই-ই কাল হলো মাদক কারবারির, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

ফ্রি ওয়াই-ফাই-ই কাল হলো মাদক কারবারির, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিজ্ঞাপন

পুলিশকে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক ধোঁকা দিয়ে এড়িয়ে চলছিলেন এক মাদক কারবারি। নিজের অবস্থান গোপন রাখতে তিনি শরণাপন্ন হয়েছিলেন নানা প্রযুক্তির। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রযুক্তির মারপ্যাঁচেই পুলিশের জালে ধরা পড়তে হলো তাকে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মেট্রো’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই গ্রেপ্তারের আদ্যোপান্ত।

যেভাবে শুরু হয় তদন্ত

উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলিতে বসবাসকারী ৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস ‘ববি’ নামক একটি মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। তার এই চক্রটি মূলত লন্ডনের নর্থ কিলবার্ন এলাকায় কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করত। মাদক সরবরাহের অভিযোগে পূর্বে আটক কিছু তরুণের মোবাইল ফোন পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পরই পুলিশ এই শক্তিশালী চক্রের সন্ধান পায় এবং তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

আলমারির ভেতর লুকিয়েও রক্ষা মেলেনি

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৭ জুলাই লুইসের ওয়েম্বলির বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে লুইস দ্রুত একটি আলমারির ভেতরে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। তবে শেষরক্ষা হয়নি; তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সদস্যরা খুব দ্রুতই তাকে খুঁজে বের করেন। গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান লুইস। বিস্ময় নিয়ে তিনি পুলিশকে প্রশ্ন করেন—‘আপনারা আমাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন?’

যে ভুলে ধরা পড়লেন লুইস

নিজের অবস্থান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ থেকে লুকাতে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন লুইস। নিজের ডিভাইসে সুরক্ষার জন্য তিনি ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) ব্যবহার করতেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন তিনি যে স্থানে অবস্থান করছিলেন, সেখানকার একটি পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার একটি ডিভাইস যুক্ত হয়ে যায়। আর এই সামান্য ভুলেই তার সুনির্দিষ্ট লাইভ লোকেশন শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

অভিযানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

লুইসের বাড়িতে পরিচালিত ওই অভিযানে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড মূল্যের ‘এ’ শ্রেণির মাদক (কোকেন ও হেরোইন) উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নগদ প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড এবং ছয়টি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। যার মধ্যে একটি ফোন সরাসরি ‘ববি’ মাদক সিন্ডিকেটের নানা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হতো। পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকে একটি গুলিসহ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩ রাউন্ড ৯ মিমি গুলি, একটি বড় ছুরি বা মাচেতে এবং একটি ফ্লিপ নাইফ উদ্ধার করা হয়।

তরুণদের অপরাধে ব্যবহার ও মাদক নেটওয়ার্ক

লুইসের জব্দ করা মোবাইল ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তার ফোনে প্রায় ২৫০ জন মাদকসেবীর একটি কন্টাক্ট তালিকা পাওয়া গেছে, যেখান থেকে প্রতিদিন তার কাছে শতাধিক কল আসত।

তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দা কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি জানান, লুইস নর্থ কিলবার্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের কাজে তরুণ ও কিশোরদের ব্যবহার করতেন। তার এই অন্ধকার ব্যবসার প্রভাবেই ওই তরুণরা পরবর্তীতে নানা ধরনের সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল।

কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমের এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হ্যারো ক্রাউন কোর্ট জোয়েল লুইসকে দীর্ঘ ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার