বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে শুধু সময় কাটানো নয়, নিজের প্রোফাইল থেকেই আয়ের সুযোগ
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ এএম
বিজ্ঞাপন
ফেসবুক এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও বড় একটি আয়ের প্ল্যাটফর্ম। নিয়মিত মানসম্মত রিলস, ভিডিও, ছবি, স্টোরি ও লিখিত পোস্ট তৈরি করে নিজের প্রোফাইল থেকেই আয়ের সুযোগ রয়েছে। মেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফেসবুক কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এর প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ এসেছে রিলস থেকে।
ফেসবুকের কনটেন্ট আয় ব্যবস্থা মূলত কনটেন্টের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে। দর্শনসংখ্যা, কতক্ষণ মানুষ কনটেন্ট দেখছে এবং দর্শকের সম্পৃক্ততার মতো বিষয় আয়ের পরিমাণে প্রভাব ফেলে। তবে কনটেন্ট তৈরি করলেই সবার আয় চালু হয় না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং ফেসবুকের নীতিমালা মেনে চলতে হয়।
ব্যক্তিগত প্রোফাইলে প্রফেশনাল মোড চালু করেও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে কাজ শুরু করা যায়। নিয়মিত ভ্রমণ, রান্না, প্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রবাসী জীবন, স্থানীয় খবর, বিনোদন বা নিজের দক্ষতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করে ধীরে ধীরে দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব। রিলস ও অন্যান্য কনটেন্ট থেকে আয়, দর্শকদের তারকা চিহ্নের মাধ্যমে সমর্থন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
ফেসবুক থেকে আয় করার সুযোগ শুধু প্ল্যাটফর্মের সরাসরি অর্থ পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন নির্মাতা নিজের তৈরি দর্শকগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রচারণামূলক কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি নিজের ব্যবসা, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও ফেসবুককে ব্যবহার করা যায়। ফলে একটি ভালো দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হলে একাধিকভাবে আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
নতুনদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করা। শুরুতেই বড় সংখ্যক অনুসারী বা লাখ লাখ দর্শনসংখ্যার প্রত্যাশা না করে মানুষের কাজে লাগে এমন কনটেন্ট তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান কিংবা দক্ষতাকে সহজভাবে তুলে ধরলে ধীরে ধীরে দর্শকদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
তবে অন্যের ভিডিও কপি করে বা সামান্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করলে দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া কঠিন। মেটা এখন নিজস্বভাবে তৈরি কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নিম্নমানের বা পুনরায় প্রকাশ করা কনটেন্টের বিস্তার কমিয়ে দিচ্ছে। তাই কনটেন্ট নির্মাতাদের উচিত নিজের ধারণা, নিজের উপস্থাপনা এবং নতুন তথ্য বা বিশ্লেষণ যুক্ত করে দর্শকদের জন্য আলাদা মূল্য তৈরি করা।
বড় ক্যামেরা বা স্টুডিও ছাড়াও একটি ভালো স্মার্টফোন দিয়েই শুরু করা যায়। পরিষ্কার শব্দ, ভালো আলো, আকর্ষণীয় উপস্থাপনা এবং নিয়মিত প্রকাশনার মাধ্যমে একজন নতুন নির্মাতাও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং দর্শকের আস্থা ধরে রাখতে পারলে ফেসবুকের ব্যক্তিগত প্রোফাইলও ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য আয়ের মাধ্যমে পরিণত হতে পারে।