বিজ্ঞাপন
মিনিটেই কোটিপতি এক ট্রেডার, হান্টার বাইডেনের মিম কয়েনে সর্বনাশ বাকিদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
হান্টার বাইডেনের নতুন মিম কয়েন ‘ল্যাপটপ’ বাজারে আসার পর ব্যাপক উত্থান-পতনের মুখে পড়েছে। বুধবার চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েনটির দাম দ্রুত বেড়ে যায়, কিন্তু এরপরই শুরু হয় বড় ধরনের ধস। এতে মিম কয়েনটিতে বিনিয়োগ করা প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজনই অর্থ হারিয়েছেন বলে ব্লকচেইন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তবে এই ধসের মধ্যেই এক রহস্যময় ট্রেডার বড় অঙ্কের লাভ করেছেন। ডেটাভল্ট এআই-এর ব্লকচেইন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ছদ্মনামে থাকা ওই ব্যক্তি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করে ‘ল্যাপটপ’-এর ৯ হাজার ১২৪টি টোকেন কিনেছিলেন। কয়েক মিনিট পরই তিনি ৮ হাজার ৪৮০টি টোকেন প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার ডলারে বিক্রি করে দেন।
অর্থাৎ মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাঁর বিনিয়োগ বেড়ে যায় প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। লেনদেনের খরচ বাদ দেওয়ার আগে এই লাভের হিসাব করা হয়েছে। বাজারে ব্যাপক ধস নামার আগেই টোকেন বিক্রি করে দেওয়ায় ওই ট্রেডার বিপুল মুনাফা তুলে নিতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে, বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ডেটাভল্ট এআই-এর বিশ্লেষণে এমন একজনের তথ্য পাওয়া গেছে, যিনি কয়েনটির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার সময় প্রায় ২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু দাম দ্রুত পড়ে যাওয়ার পর তাঁর বিনিয়োগের মূল্য কমে মাত্র প্রায় ২ হাজার ডলারে নেমে আসে।
ক্রিপ্টো বিশ্লেষক ব্র্যাডলি এই পরিস্থিতিকে ‘ক্লাসিক রাগ পুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ‘রাগ পুল’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো প্রকল্পের উদ্যোক্তা বা অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা নিজেদের অর্থ বা মূল্য তুলে নেওয়ার পর প্রকল্পটি ভেঙে পড়ে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হান্টার বাইডেন বা ‘ল্যাপটপ’ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রতারণা বা রাগ পুলের কোনো প্রমাণিত অভিযোগ নেই। একইভাবে, কয়েনটির দাম ধসে পড়ার সময় হান্টার বাইডেন নিজে টোকেন বিক্রি করেছিলেন—ডেটাভল্ট এআই-এর বিশ্লেষণেও এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
হান্টার বাইডেন ব্যক্তিগতভাবে এই মিম কয়েন থেকে কত অর্থ আয় করেছেন, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য মোট ১০০ কোটি টোকেনের ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠাতা টোকেন ছয় মাসের জন্য লক থাকার কথা এবং দুই বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে তা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে ‘ল্যাপটপ’-এর দাম যখন অল্প সময়ের জন্য ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তখন প্রতিষ্ঠাতাদের হাতে থাকা টোকেনের তাত্ত্বিক মূল্যকে সরাসরি হান্টার বাইডেনের হাতে পাওয়া অর্থ হিসেবে ধরা যাবে না। তিনি প্রকৃতপক্ষে কত অর্থ পেয়েছেন, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
ব্র্যাডলি জানিয়েছেন, ব্লকচেইনের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে ‘ল্যাপটপ’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওয়ালেটে কত অর্থ গেছে, তা নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে। তবে হান্টার বাইডেনের ব্যক্তিগত আয়ের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
৫৬ বছর বয়সী হান্টার বাইডেন চলতি সপ্তাহে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেসের তৈরি বেস ব্লকচেইনে ‘ল্যাপটপ’ মিম কয়েন চালু করেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, ল্যাপটপকে একসময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, আর তিনি সেটিকে টোকেনে পরিণত করেছেন।
এই মিম কয়েনের নাম নেওয়া হয়েছে সেই ল্যাপটপকে কেন্দ্র করে, যা ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। নিউইয়র্ক পোস্ট ওই সময় ল্যাপটপটির কথিত তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে জো বাইডেনের বিদেশি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত বার্তা এবং হান্টার বাইডেনের মাদক ব্যবহারের ছবি থাকার দাবি করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, হান্টার বাইডেনের মিম কয়েনের প্রথম দিনের লেনদেনে একদিকে যেমন কয়েক মিনিটেই একজন ট্রেডার বিপুল লাভ করেছেন, অন্যদিকে বহু বিনিয়োগকারী বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, আর হান্টার বাইডেন নিজে কয়েনের ধসের সময় বিক্রি করেছিলেন—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।