বিজ্ঞাপন
‘নব্বই দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন, আগে জেনে নিন ঝুঁকিগুলো
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলেই এখন চোখে পড়ছে পরিচিত মুখের নানা অচেনা রূপ। কারও পরনে আশির দশকের পোশাক, কারও ছবির পেছনে পুরোনো ঢাকার আবহ, আবার কেউ হয়ে উঠছেন জনপ্রিয় সিনেমার কোনো চরিত্র। মজার বিষয় হলো, এসব ছবি তৈরি করতে এখন আর ক্যামেরা, স্টুডিও কিংবা পেশাদার ফটোশুটের প্রয়োজন হচ্ছে না। কয়েক সেকেন্ড আর একটি এআই টুলই যথেষ্ট।
আরও পড়ুন : ভাইরাল ৮০ ও ৯০ দশকের লুক, নিজের ছবি বানানোর সেরা উপায়
নতুন লুকে নিজেকে দেখার এই ট্রেন্ডে মেতেছেন অনেকেই। নিজের একটি ছবি আপলোড করেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে ফেলা যাচ্ছে পোশাক, চুলের ধরন, ব্যাকগ্রাউন্ড, এমনকি পুরো সময়কাল ও পরিবেশ। বিনোদনের দিক থেকে বিষয়টি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। তবে এর আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নও রয়েছে: ছবি তৈরি করতে গিয়ে আমরা নিজেদের কতটা তথ্য এআইয়ের হাতে তুলে দিচ্ছি?
আরও পড়ুন : ভাইরাল ‘নব্বই দশকের’ ছবি বানাতে ব্যবহার করুন এই ১০ প্রম্পট
কারণ এআই টুলে ছবি আপলোড করার অর্থ শুধু একটি ছবি শেয়ার করা নয়। ছবির সঙ্গে আপনার মুখাবয়ব, ছবির পেছনের পরিবেশ বা অন্যান্য দৃশ্যমান তথ্যও প্ল্যাটফর্মটির কাছে পৌঁছাতে পারে। সেবাভেদে এর সঙ্গে আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করা হতে পারে।
তাই এআইয়ের তৈরি নতুন লুকে নিজেকে দেখার এই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার আগে জানা জরুরি, আপনি যে ছবি ও তথ্য দিচ্ছেন, সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ থাকছে।
আরও পড়ুন : কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ৮০ দশকের লুক? জেনে নিন যেভাবে সহজেই তৈরি করবেন ছবি
নিজের ছবি দেয়ার আগে যে প্রশ্ন করবেন
কোনো এআই অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ছবি দেওয়ার আগে দেখে নিন, তারা আপনার ছবি কীভাবে ব্যবহার করবে এবং কতদিন সংরক্ষণ করবে।
বিশেষ করে জেনে নিন—
- ছবি কতদিন সংরক্ষণ করা হবে।
- কাজ শেষ হওয়ার পর ছবি মুছে ফেলা হবে কি না।
- এআই মডেল উন্নত করতে ছবি ব্যবহার করা যাবে কি না।
- তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা হবে কি না।
- অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললে আপনার তথ্য কীভাবে সরানো হবে।
হঠাৎ ভাইরাল হওয়া অপরিচিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে একসঙ্গে অনেকগুলো ব্যক্তিগত ছবি আপলোড না করাই ভালো।
মুখের ছবি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে সেটি বদলে ফেলা যায়। কিন্তু মুখের গঠন বদলে ফেলার সুযোগ নেই। তাই নিজের মুখের ছবি কোথায় দিচ্ছেন, সেটি জানা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এআই অ্যাপে ছবি আপলোড করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘বায়োমেট্রিক তথ্য’ হয়ে যায় না। কোনো ছবির ওপর এমন প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া চালানো হলে, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে স্বতন্ত্রভাবে শনাক্ত করা যায়, তখন সেটি বায়োমেট্রিক তথ্যের পর্যায়ে যেতে পারে।
তাই ‘ছবি দিলেই ফেস আইডি চুরি’—এমন সরল সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়। বরং সংশ্লিষ্ট সেবা আপনার ছবি কীভাবে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
ছবির পেছনের তথ্যও ফাঁস হতে পারে
আপনি হয়ত শুধু নিজের মুখ দেখেই ছবি আপলোড করছেন। কিন্তু ছবির পুরো ফ্রেমটিই এআই প্ল্যাটফর্মের কাছে যেতে পারে।
ধরুন, ছবির পেছনে দেখা যাচ্ছে স্কুলের নাম, অফিসের পরিচয়পত্র, বাসার ঠিকানা বা পরিচিত কোনো জায়গা। এসব তথ্যও আপনার পরিচয় সম্পর্কে বাড়তি ধারণা দিতে পারে।
কিছু ছবিতে আবার মেটাডেটার মাধ্যমে ছবি তোলার সময়, ডিভাইস বা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে। তাই ছবি আপলোডের আগে পুরো ছবিটি একবার ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত।
‘অ্যালাও অল ফটোস’ চাপার আগে থামুন
একটি ছবি এডিট করার জন্য অ্যাপকে পুরো গ্যালারির অনুমতি দেয়ার প্রয়োজন সব সময় হয় না। সম্ভব হলে শুধু প্রয়োজনীয় ছবির অ্যাকসেস দিন।
ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, কনট্যাক্ট বা লোকেশনের অনুমতিও অ্যাপটির কাজের জন্য প্রয়োজন কি না, সেটি দেখে নিন। প্রয়োজন না থাকলে এসব পারমিশন না দেয়াই নিরাপদ।
আজ রেট্রো ছবি, কাল ডিপফেক?
এআইয়ের ছবি তৈরির সুবিধা যেমন বাড়ছে, তেমনই এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। উচ্চমানের ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠের নমুনা সহজে পাওয়া গেলে সেগুলো ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল, কৃত্রিম ভিডিও, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বা প্রতারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব।
অবশ্য অনলাইনে নিজের ছবি থাকলেই তা দিয়ে অপরাধ হবে এমন নয়। তবে নিজের ছবি কোথায় ব্যবহার করছেন এবং কোথায় ছড়িয়ে পড়ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি এআইয়ে নয়
এআই দিয়ে ছবি তৈরির সময় পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, অফিসের পরিচয়পত্র বা ব্যাংকসংক্রান্ত নথির ছবি ব্যবহার না করাই ভালো।এসব নথিতে পরিচয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। সাধারণ একটি ছবি এডিট করার জন্য যখন এসব তথ্যের প্রয়োজন নেই, তখন বাড়তি ঝুঁকি নেয়ারও দরকার নেই।
ছবি ডিলিট করলেই কি সব শেষ?
কোনো অ্যাপ থেকে ছবি বা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেই তথ্য সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হবে এমন নিশ্চয়তা সব ক্ষেত্রে নেই।
কোনো সেবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ছবি সংরক্ষণ করতে পারে। কোথাও আবার ব্যাকআপ কপিও থাকতে পারে। তাই শুধু ‘ডিলিট’ অপশন আছে কি না দেখলেই হবে না; ছবি মুছে ফেলার পর প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে তথ্য পরিচালনা করে, সেটিও জানতে হবে।
এআই ছবির ভালো দিকও আছে
এত সতর্কতার কথা শুনে মনে হতে পারে, এআই দিয়ে ছবি বানানোই বুঝি বিপজ্জনক। আসলে বিষয়টি তা নয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এআই ছবি সম্পাদনা ও সৃজনশীলতার কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে।
- কয়েক সেকেন্ডেই পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড ও লুক বদলে ফেলা যায়।
- জটিল ফটো এডিটিং না জেনেও আকর্ষণীয় ছবি তৈরি করা সম্ভব।
- রেট্রো, সিনেমাটিক বা ভিন্ন সময়ের লুক সহজে তৈরি করা যায়।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য মজার ও সৃজনশীল কনটেন্ট বানানো সহজ হয়।
- ছবি সম্পাদনায় সময় ও পরিশ্রম দুটোই কমে।
- নিজের কল্পনার কোনো লুক বাস্তবে কেমন হতে পারে, সেটিও সহজে দেখে নেওয়া যায়।
ট্রেন্ডে থাকুন, তথ্যের নিয়ন্ত্রণও রাখুন
এআইয়ের জাদুতে নিজের লুক বদলান, নতুন ট্রেন্ডে গা ভাসান, মজার ছবিও বানান। তবে মনে রাখুন, ছবিটা কৃত্রিম হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আপনার পরিচয় একেবারেই বাস্তব। তাই ছবি আপলোডের আগে একটু সচেতন হওয়া জরুরি।
কারণ আজকের রেট্রো লুক কালই পুরোনো হয়ে যেতে পারে, কিন্তু অনলাইনে দেয়া ব্যক্তিগত তথ্য এত সহজে হারিয়ে যায় না। ট্রেন্ডে থাকুন, মজা করুন শুধু কয়েক সেকেন্ডের আনন্দের জন্য নিজের তথ্যের নিয়ন্ত্রণ যেন অন্যের হাতে তুলে না দেন।