Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

তথ্যপ্রযুক্তি

স্টিয়ারিং ছাড়া টেসলার নতুন সাইবারক্যাব, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে আগ্রহ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

স্টিয়ারিং ছাড়া টেসলার নতুন সাইবারক্যাব, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে আগ্রহ

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে গত বৃহস্পতিবার টেসলার বহুল আলোচিত সাইবারক্যাব নিয়ে বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  চালকবিহীন যাতায়াতকে ভবিষ্যতের পরিবহনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে পরিকল্পনা টেসলা কয়েক বছর ধরে তুলে ধরছে, এই গাড়ি সেই পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। রয়টার্স জানিয়েছে, দুই আসনের এই বিশেষ গাড়িতে প্রচলিত অর্থে স্টিয়ারিং হুইল বা চালকের প্যাডেল থাকবে না। ফলে গাড়িটি সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের পরিবহন ধারণা সামনে আনছে।

সাইবারক্যাবের মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে ব্যবহার নয়; বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রী বহনকারী রোবোট্যাক্সি হিসেবে এটি পরিচালনার পরিকল্পনা করছে টেসলা। অর্থাৎ একজন যাত্রী মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থায় গাড়ি ডাকবেন এবং গাড়িটি নিজস্ব স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। এই ধারণা সফল হলে ভবিষ্যতে চালকনির্ভর ট্যাক্সি ও ভাড়ার গাড়ির বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বাস্তবে এই প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই চালকবিহীন গাড়িকে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ব্যবসার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। বর্তমানে অস্টিনে টেসলার কিছু স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সীমিত পরিসরে রোবোট্যাক্সি হিসেবে চলাচল করছে। এসব গাড়ির কিছুতে নিরাপত্তার জন্য একজন কর্মী উপস্থিত থাকেন। নতুন সাইবারক্যাবের ক্ষেত্রে সেই ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ গাড়ির ভেতরে প্রচলিত চালকের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাই থাকবে না।

তবে প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ফেডারেল যানবাহন নিরাপত্তা বিধিতে স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেল ছাড়া গাড়ির ব্যাপক উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে টেসলাকে শুধু প্রযুক্তি তৈরি করলেই হবে না, সেটিকে প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করতেও হবে। গাড়িটি কীভাবে অনুমোদন পাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা চলছে।

টেক্সাসে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির কার্যক্রমও দ্রুত বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার টেক্সাসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী সেখানে টেসলার কয়েক শত স্বয়ংক্রিয় যান নিবন্ধিত ছিল। একই সময়ে ওয়েমোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এতে বোঝা যায়, অস্টিন ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন গাড়ি পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

তবে বাস্তব রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় গাড়ির অভিজ্ঞতা সবসময় প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মতো মসৃণ হচ্ছে না। রয়টার্স অস্টিনসহ অন্যান্য শহরে রোবোট্যাক্সি পরিষেবা পরীক্ষা করে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার সময় এবং গন্তব্যসংক্রান্ত সমস্যার কথা জানিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির প্রযুক্তি উন্নত হলেও বাস্তব শহুরে পরিবেশে অসংখ্য অনিশ্চিত পরিস্থিতি সামলানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। পথচারী, সাইকেল আরোহী, জরুরি যানবাহন, রাস্তার কাজ এবং অস্বাভাবিক ট্রাফিক পরিস্থিতি—সবকিছুই গাড়ির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একসঙ্গে বুঝতে হয়।

সাইবারক্যাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নকশা। দুই আসনের ছোট গাড়িটি মূলত যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি। প্রচলিত গাড়ির মতো চালকের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় ভেতরের কাঠামো আরও সরল করা সম্ভব। এর ফলে ভবিষ্যতে গাড়ি তৈরির খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে টেসলার পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্বয়ংক্রিয় পরিবহনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।

কিন্তু বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে বিষয়টি শুধু গাড়ির নকশা বা প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টেসলার ভবিষ্যৎ আয় কতটা রোবোট্যাক্সি ব্যবসার ওপর নির্ভর করবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি একটি গাড়ি দিনে বহু ঘণ্টা মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রী পরিবহন করতে পারে, তাহলে একটি গাড়ির ব্যবহারযোগ্যতা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। এ কারণেই সাইবারক্যাবকে টেসলার ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে অতীতে টেসলার স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে সময়সীমা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রশ্নও উঠেছে। ফলে এবার বাজারের প্রত্যাশা শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধথাকবে না; বাস্তবে গাড়িটি কত দ্রুত উৎপাদনে আসবে, কতটা নিরাপদ হবে এবং কত শহরে পরিষেবা দিতে পারবে—এসব ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। রয়টার্স জানিয়েছে, সাইবারক্যাবের প্রাথমিক উৎপাদন ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।

অস্টিনের এই আয়োজন তাই শুধু একটি নতুন গাড়ির প্রদর্শনী নয়। এটি চালকবিহীন পরিবহনের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে টেসলার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি। প্রযুক্তি সফল হলে শহরের পরিবহনব্যবস্থা, ট্যাক্সি ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার—তিন ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে। আবার প্রযুক্তি বা নিয়ন্ত্রক অনুমোদনে বড় বাধা দেখা দিলে টেসলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও ধীর হয়ে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের সাইবারক্যাব আয়োজনের দিকে প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি গাড়ি শিল্প ও বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। টেসলা শেষ পর্যন্ত কত দ্রুত স্টিয়ারিংহীন গাড়িকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অংশ করতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অস্টিনের আয়োজন সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার নতুন অধ্যায় খুলতে যাচ্ছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার