বিজ্ঞাপন
যেসব ভুলে ফোন থেকে ফাঁস হয় গোপন ছবি-ভিডিও, যা করবেন
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ এএম
বিজ্ঞাপন
স্মার্টফোনে এখন ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, কথোপকথন থেকে শুরু করে ব্যাংকিং ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ভান্ডারও। তবে অসতর্কতার কারণে এসব তথ্য খুব সহজেই অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, ফোন হ্যাক হলেই কেবল ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও চুরি বা ফাঁস হয়। বাস্তবে দুর্বল পাসওয়ার্ড, ক্ষতিকর অ্যাপ, ক্লাউড অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ, ভুয়া লিংকে তথ্য দেওয়া কিংবা আনলক ফোন অন্যের হাতে চলে যাওয়ার মতো সাধারণ কারণেও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হতে পারে।
দুর্বল পাসওয়ার্ডে বাড়ে ঝুঁকি
ফোনের লক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড সহজ হলে তা অনুমান করে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে অন্যরা। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলেও ঝুঁকি বাড়ে। একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে একই তথ্য দিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টেও প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে অপরাধীরা।
তাই ফোনে শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা জরুরি।
ক্লাউড অ্যাকাউন্টেও থাকতে পারে ব্যক্তিগত ছবি
অনেক স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউড বা অনলাইন স্টোরেজে সংরক্ষিত হয়। ফোন হারিয়ে গেলে তথ্য ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সুবিধাজনক হলেও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত না থাকলে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কেউ ক্লাউড অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারলে ফোন হাতে না নিয়েও ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও দেখা বা ডাউনলোড করতে পারে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ই-মেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্যের হাতে গেলে বিপদ আরও বাড়ে।
সন্দেহজনক অ্যাপেও চুরি হতে পারে তথ্য
অপরিচিত ওয়েবসাইট বা লিংক থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করাও ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু ক্ষতিকর অ্যাপ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অনুমতি চাইতে পারে। ছবি, ভিডিও ও ফাইল ব্যবহারের অনুমতি পেলে এসব অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়।
তাই অপরিচিত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল না করা এবং কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছবি, ভিডিও বা ফাইল ব্যবহারের অনুমতি চাইলে সতর্ক থাকা উচিত।
ভুয়া লিংকে ক্লিক করেও বিপদ
‘আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’, ‘এই ছবি দেখুন’ কিংবা ‘আপনার নামে মামলা হয়েছে’—এ ধরনের ভয় বা কৌতূহল তৈরি করা বার্তা দিয়ে প্রতারকরা ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যেতে পারে।
সেখানে লগইন তথ্য দিলে তা প্রতারকের হাতে চলে যেতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু ছবি-ভিডিও নয়, পুরো অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারেন ব্যবহারকারী।
আনলক ফোন অন্যের হাতে দিলেও বিপদ
তথ্য চুরির জন্য সবসময় ফোন হ্যাক করার প্রয়োজন হয় না। আনলক অবস্থায় ফোন অন্যের হাতে চলে গেলেও গ্যালারি, ফাইল, বার্তা কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ থেকে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও কপি করা সম্ভব।
তাই অন্যকে ফোন দেওয়ার সময় সেটি আনলক অবস্থায় রেখে না দেওয়াই নিরাপদ। গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য আলাদা নিরাপত্তার মধ্যে রাখাও জরুরি।
পুরোনো ফোন বিক্রির আগে সতর্কতা জরুরি
পুরোনো ফোন বিক্রি বা অন্য কাউকে দেওয়ার আগে শুধু ছবি মুছে ফেললেই নিরাপদ হওয়া যায় না। ফোনের ব্যাকআপ, অ্যাকাউন্ট, মেমোরি কার্ডসহ ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে সরাতে হবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে সব অ্যাকাউন্ট থেকে সাইন আউট করার পর ফোনের তথ্য নিরাপদভাবে মুছে ফেলতে হবে।
অপরিচিত কম্পিউটারেও ফাঁস হতে পারে তথ্য
অপরিচিত কম্পিউটারে ফোন যুক্ত করে ফাইল বা ছবি আদান-প্রদানের অনুমতি দিলে ব্যক্তিগত তথ্য অন্য ডিভাইসে কপি হয়ে যেতে পারে। তাই অজানা কম্পিউটার, তার বা অন্য কোনো আনুষঙ্গিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নিরাপদ থাকতে যা করবেন
ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পাসকোড ব্যবহার করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু রাখা এবং ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ করাও জরুরি।
অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা ও সন্দেহজনক অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি কোন কোন অ্যাপ ছবি, ভিডিও ও ফাইল ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
কোনো অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লগইন বা অচেনা ডিভাইস দেখা গেলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
সবশেষে, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও যত বেশি জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে, ঝুঁকিও তত বাড়বে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত কপি না রাখা, ক্লাউড অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা এবং ফোনের মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।