বিজ্ঞাপন
আড়াই ঘণ্টা পর সচল এসএমডব্লিউ-৫, ইন্টারনেট বিপর্যয়ের শঙ্কা দূর
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৫ (এসএমডব্লিউ-৫) আবারও সচল হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেবলটির পূর্ব ও পশ্চিম—দুই প্রান্তের সংযোগ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বেলা ২টার দিকে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। এতে দেশে বড় ধরনের ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা আপাতত কেটে গেছে।
তবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। বিশেষ করে বিদেশি ওয়েবসাইট ও সার্ভারে প্রবেশ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, ফাইল ডাউনলোড এবং অনলাইন মিটিংয়ে কিছুটা ধীরগতি ও বিলম্বের মুখে পড়েন গ্রাহকরা।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) সূত্র জানায়, কেবলটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের সম্ভাব্য সময় (ইটিআর) জানানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মূল কনসোর্টিয়ামের তথ্যের অপেক্ষায় ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, শ্রীলঙ্কার মাতারা এলাকার ল্যান্ডিং স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিংবা কোনো সরঞ্জামে ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে সংযোগ স্বাভাবিক হওয়ার পরও ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
বিকল্প পথে সরানো হয় ইন্টারনেট ট্রাফিক
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এসএমডব্লিউ-৫ কেবলের মাধ্যমে আসে। ফলে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইএসপি) বিকল্প আন্তর্জাতিক সংযোগ দিয়ে ট্রাফিক পরিচালনা করতে হয়।
যেসব আইএসপি দ্রুত বিকল্প পথে ট্রাফিক স্থানান্তর করতে পেরেছে, তাদের গ্রাহকরা তুলনামূলক কম সমস্যায় পড়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক সার্ভারনির্ভর বিভিন্ন সেবা, অনলাইন মিটিং, গেমিং এবং ফাইল ডাউনলোডে সাময়িক ধীরগতি দেখা দেয়।
বাংলাদেশে এসএমডব্লিউ-৫ ছাড়াও এসএমডব্লিউ-৪ এবং ভারতের সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) সংযোগ রয়েছে। এসব বিকল্প সংযোগ চালু থাকায় একটি সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হলেও দেশের পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েনি।
ত্রুটির কারণ নিয়ে অপেক্ষা
তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ পুনঃস্থাপন হলেও এসএমডব্লিউ-৫ এর ত্রুটির প্রকৃত কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। একই জায়গা বা সরঞ্জামে ভবিষ্যতে আবার এমন সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হতে কনসোর্টিয়ামের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে বিএসসিপিএলসি।
কনসোর্টিয়ামের তদন্ত ও ত্রুটি বিশ্লেষণের তথ্য পাওয়ার পরই আড়াই ঘণ্টার এই আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্নতার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।