বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষা চালানোর সময় মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘মিউজ স্পার্ক ১.১’ তৃতীয় পক্ষের একটি সেবায় অনুপ্রবেশ বা হ্যাক করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মেটা।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের পর মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোনও ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এআই মডেলটি পরীক্ষার জন্য আলাদা করে রাখা একটি নিরাপদ পরিবেশে ছিল। কিন্তু সেখান থেকে সেটি ইন্টারনেটে ঢোকার সুযোগ পায়। পরে একটি নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় পক্ষের একটি সেবায় আক্রমণ চালায়।
মেটা জানিয়েছে, পরীক্ষার পরিবেশে ভুল সেটিংস বা কনফিগারেশনের কারণে এআই মডেলটি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিল। এই পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইরেগুলারের ভুল কনফিগারেশনের কারণেই এমনটি হয়েছে।
ইরেগুলার একটি ইসরায়েলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তারা নিজেদের ‘ফ্রন্টিয়ার সিকিউরিটি ল্যাব’ হিসেবে পরিচয় দেয়। উন্নত এআই মডেল কতটা নিরাপদ এবং সাইবার হামলার ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করে, তা পরীক্ষা করাই প্রতিষ্ঠানটির কাজ। এজন্য তারা বাস্তব পরিস্থিতির মতো পরিবেশ তৈরি করে এআই মডেল পরীক্ষা করে।
তবে ইরেগুলারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কোনো ‘স্যান্ডবক্স এস্কেপ’ বা বড় ধরনের অত্যাধুনিক সাইবার হামলা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো সমস্যা বাকি নেই। ভবিষ্যতে আরও নিরাপদভাবে এআই পরীক্ষা করার জন্য একটি গাইডলাইন প্রকাশের কাজও চলছে।
এর আগে একই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল পরীক্ষা করেছিল। সেই সময় মডেলটি পরীক্ষার নির্ধারিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছিল। একই ধরনের আরেক ঘটনায় ওপেনএআইয়ের একটি এআই মডেলও পরীক্ষার পরিবেশ থেকে ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই যত বেশি শক্তিশালী হচ্ছে, সেটিকে নিরাপদে পরীক্ষা করার গুরুত্বও তত বাড়ছে। পরীক্ষার সময় কোনো এআই মডেলকে ইন্টারনেটে ঢোকার সুযোগ দিলে সেটি কী করতে পারে, তা আগে থেকেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
কারণ, এআই এখন শুধু মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেয় না। অনেক উন্নত এআই মডেল নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন কাজও করতে পারে। তাই পরীক্ষার সময় যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে কোনো এআই মডেল ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে ফেলতে পারে।
সূত্র: এনগ্যাজেট