বিজ্ঞাপন
এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে মানুষ, সতর্ক করলো অ্যানথ্রপিক
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আশঙ্কা ও বিতর্ক রয়েছে। তবে এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। ‘ক্লড’ নামের জনপ্রিয় এআই মডেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এমন সময় আসতে পারে যখন এআই নিজেই নিজেকে উন্নত করবে ও আরও শক্তিশালী উত্তরসূরি এআই তৈরি করবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে মানুষ এআই ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ‘ফুল রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা ‘পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় আত্ম-উন্নয়ন’ এমন এক পর্যায়, যেখানে কোনো মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই একটি এআই নিজেকে উন্নত করতে পারে এবং নিজের চেয়ে আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ক্রমেই এআই উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ এআই সিস্টেমগুলোর ওপর ন্যস্ত করছে। এর ফলে এমন একটি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা থাকলে ‘একটি এআই সিস্টেম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের উত্তরসূরি ডিজাইন ও তৈরি করতে পারবে।’
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের কোডবেসে যুক্ত হওয়া কোডের ৮০ শতাংশেরও বেশি লিখেছে ক্লদ। কোডবেস হলো সেই কেন্দ্রীয় কাঠামো বা ‘মাস্টার প্ল্যান’, যার ওপর ভিত্তি করে সফটওয়্যার তৈরি, পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
প্রযুক্তির ইতিহাসে বড় মোড় হতে পারে
এআই খাতের অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অ্যানথ্রপিক বরাবরই দ্রুতগতির এআই উন্নয়নের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমান প্রযুক্তিগত প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী কয়েক বছরে এআই সিস্টেমগুলো আরও অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠবে।
তাদের মতে, এই প্রবণতাগুলোর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। নিজেকে নিজে তৈরি করতে সক্ষম এআই প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা হবে। এটি বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা এবং আরও বহু ক্ষেত্রে বিশ্বের জন্য বিশাল উপকার বয়ে আনতে পারে।
তবে একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, যদি কোনো সিস্টেম নিজের উত্তরসূরি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করতে সক্ষম হয়, তাহলে সেগুলোকে নিরাপদ রাখা, পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়গুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
ফিউচার শিফট ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাগর বিষ্ণোইও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের এআই সিস্টেম পরিচালনাকারী কোড যখন ক্রমেই এআই নিজেই লিখতে শুরু করবে, তখন মূল চ্যালেঞ্জ আর সক্ষমতা তৈরি নয়, বরং সেটিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
তার ভাষায়, রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট উদ্ভাবনের গতি অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি তদারকি, নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উত্থাপন করে। শিল্পখাতের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে- ক্রমশ আরও সক্ষম হয়ে ওঠা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলোকে কীভাবে মানুষের অগ্রাধিকার ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা যায়।
‘পজ’ বা সাময়িক বিরতির আহ্বান
অ্যানথ্রপিক মনে করে, বিশ্বের সব এআই প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই উন্নয়নে কখন ও কীভাবে সাময়িক বিরতি দেওয়া যেতে পারে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, যদি এই ধীরগতি বা বিরতি কেবল অপেক্ষাকৃত কম সতর্ক প্রতিষ্ঠানগুলোকেই প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে তা উল্টো সবার জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের কাঠামো এবং এআই অ্যালাইনমেন্ট গবেষণাকে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলানোর সুযোগ দিতে প্রয়োজন হলে উন্নত এআই উন্নয়ন ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিকল্প বিশ্বে থাকা উচিত।
বাস্তবে তা কতটা সম্ভব?
এআএনশিউরড - এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনি মনে করেন, ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, তত্ত্বে এটি ভালো শোনায়, কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ করা কঠিন। সব ফাউন্ডেশনাল মডেল নির্মাতাকে কি বিরতিতে রাজি করানো সম্ভব? খুবই কঠিন। কারণ সবাই মনে করবে, তারা পিছিয়ে পড়ছে।
এদিকে অ্যানথ্রপিকের গবেষণা বিভাগ ‘অ্যানথ্রপিক ইনস্টিটিউট’ এমন ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করবে, যা প্রয়োজন হলে এআই উন্নয়নে ধীরগতির নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।
আগামী কয়েক মাসে প্রতিষ্ঠানটি নীতিনির্ধারক, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এসব আলোচনায় রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্টসহ এআই-সম্পর্কিত ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
এলএলএম চুক্তির প্রস্তাব
দ্য কাটিং এজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও এআই শিক্ষাবিদ অংশ মেহরা অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তার মতে, বিশ্বের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উচিত আগামী ছয় মাসের জন্য স্বেচ্ছায় নতুন বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) প্রকাশ স্থগিত রাখা ও তার বদলে এআই-সাক্ষরতা, ব্যবহার ও সংযুক্তিকরণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
মেহরা বলেন, ১৯৭০-এর দশকে ডিএনএ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আমরা এমন কিছু দেখেছিলাম। তখন বিজ্ঞানীরা দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আগে নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো না কোনো ধরনের ‘এলএলএম চুক্তি’ থাকা উচিত, যেখানে দেশগুলো নতুন প্রজন্মের উন্নত মডেল প্রকাশের আগে নিজেদের জনগণের একটি নির্দিষ্ট অংশকে দক্ষ করে তোলার বিষয়ে একমত হবে।
তবে পদ্মনাভুনির মতো তিনিও সন্দিহান যে বর্তমানে চলমান বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এমন উদ্যোগে একমত হবে কি না।
‘টার্মিনেটর’ বা ‘ম্যাট্রিক্স’ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন সবাই
অন্যদিকে, শর্টহিলস এআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পবন প্রভাত মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি না এটি ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ বা ‘টার্মিনেটর’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে। কারণ এআই যদি কখনও মানব অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, মানুষ সবসময়ই সেটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর একটি মূল্যও রয়েছে। তার ভাষায়, নিজেকে নিজে উন্নত করতে সক্ষম এবং অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য অসাধারণ উপকার বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সেই সুবিধা কোনো সামাজিক মূল্য বা খরচ ছাড়াই আসবে না।
এআই প্রযুক্তি যত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন সম্ভাবনা এবং নতুন প্রশ্ন। অ্যানথ্রপিকের এই সতর্কবার্তা সেই প্রশ্নগুলোরই একটি- ভবিষ্যতের এআই কি মানুষের তৈরি প্রযুক্তি হিসেবেই থাকবে, নাকি একসময় নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে শুরু করবে?
সূত্র: এনডিটিভি
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ‘ফুল রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা ‘পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় আত্ম-উন্নয়ন’ এমন এক পর্যায়, যেখানে কোনো মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই একটি এআই নিজেকে উন্নত করতে পারে এবং নিজের চেয়ে আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ক্রমেই এআই উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ এআই সিস্টেমগুলোর ওপর ন্যস্ত করছে। এর ফলে এমন একটি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা থাকলে ‘একটি এআই সিস্টেম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের উত্তরসূরি ডিজাইন ও তৈরি করতে পারবে।’
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের কোডবেসে যুক্ত হওয়া কোডের ৮০ শতাংশেরও বেশি লিখেছে ক্লদ। কোডবেস হলো সেই কেন্দ্রীয় কাঠামো বা ‘মাস্টার প্ল্যান’, যার ওপর ভিত্তি করে সফটওয়্যার তৈরি, পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
প্রযুক্তির ইতিহাসে বড় মোড় হতে পারে
এআই খাতের অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অ্যানথ্রপিক বরাবরই দ্রুতগতির এআই উন্নয়নের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমান প্রযুক্তিগত প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী কয়েক বছরে এআই সিস্টেমগুলো আরও অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠবে।
তাদের মতে, এই প্রবণতাগুলোর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। নিজেকে নিজে তৈরি করতে সক্ষম এআই প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা হবে। এটি বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা এবং আরও বহু ক্ষেত্রে বিশ্বের জন্য বিশাল উপকার বয়ে আনতে পারে।
তবে একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, যদি কোনো সিস্টেম নিজের উত্তরসূরি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করতে সক্ষম হয়, তাহলে সেগুলোকে নিরাপদ রাখা, পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়গুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
ফিউচার শিফট ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাগর বিষ্ণোইও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের এআই সিস্টেম পরিচালনাকারী কোড যখন ক্রমেই এআই নিজেই লিখতে শুরু করবে, তখন মূল চ্যালেঞ্জ আর সক্ষমতা তৈরি নয়, বরং সেটিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
তার ভাষায়, রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট উদ্ভাবনের গতি অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি তদারকি, নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উত্থাপন করে। শিল্পখাতের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে- ক্রমশ আরও সক্ষম হয়ে ওঠা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলোকে কীভাবে মানুষের অগ্রাধিকার ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা যায়।
‘পজ’ বা সাময়িক বিরতির আহ্বান
অ্যানথ্রপিক মনে করে, বিশ্বের সব এআই প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই উন্নয়নে কখন ও কীভাবে সাময়িক বিরতি দেওয়া যেতে পারে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, যদি এই ধীরগতি বা বিরতি কেবল অপেক্ষাকৃত কম সতর্ক প্রতিষ্ঠানগুলোকেই প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে তা উল্টো সবার জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের কাঠামো এবং এআই অ্যালাইনমেন্ট গবেষণাকে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলানোর সুযোগ দিতে প্রয়োজন হলে উন্নত এআই উন্নয়ন ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিকল্প বিশ্বে থাকা উচিত।
বাস্তবে তা কতটা সম্ভব?
এআএনশিউরড - এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনি মনে করেন, ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, তত্ত্বে এটি ভালো শোনায়, কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ করা কঠিন। সব ফাউন্ডেশনাল মডেল নির্মাতাকে কি বিরতিতে রাজি করানো সম্ভব? খুবই কঠিন। কারণ সবাই মনে করবে, তারা পিছিয়ে পড়ছে।
এদিকে অ্যানথ্রপিকের গবেষণা বিভাগ ‘অ্যানথ্রপিক ইনস্টিটিউট’ এমন ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করবে, যা প্রয়োজন হলে এআই উন্নয়নে ধীরগতির নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।
আগামী কয়েক মাসে প্রতিষ্ঠানটি নীতিনির্ধারক, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এসব আলোচনায় রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্টসহ এআই-সম্পর্কিত ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
এলএলএম চুক্তির প্রস্তাব
দ্য কাটিং এজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও এআই শিক্ষাবিদ অংশ মেহরা অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তার মতে, বিশ্বের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উচিত আগামী ছয় মাসের জন্য স্বেচ্ছায় নতুন বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) প্রকাশ স্থগিত রাখা ও তার বদলে এআই-সাক্ষরতা, ব্যবহার ও সংযুক্তিকরণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
মেহরা বলেন, ১৯৭০-এর দশকে ডিএনএ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আমরা এমন কিছু দেখেছিলাম। তখন বিজ্ঞানীরা দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আগে নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো না কোনো ধরনের ‘এলএলএম চুক্তি’ থাকা উচিত, যেখানে দেশগুলো নতুন প্রজন্মের উন্নত মডেল প্রকাশের আগে নিজেদের জনগণের একটি নির্দিষ্ট অংশকে দক্ষ করে তোলার বিষয়ে একমত হবে।
তবে পদ্মনাভুনির মতো তিনিও সন্দিহান যে বর্তমানে চলমান বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এমন উদ্যোগে একমত হবে কি না।
‘টার্মিনেটর’ বা ‘ম্যাট্রিক্স’ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন সবাই
অন্যদিকে, শর্টহিলস এআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পবন প্রভাত মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি না এটি ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ বা ‘টার্মিনেটর’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে। কারণ এআই যদি কখনও মানব অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, মানুষ সবসময়ই সেটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর একটি মূল্যও রয়েছে। তার ভাষায়, নিজেকে নিজে উন্নত করতে সক্ষম এবং অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য অসাধারণ উপকার বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সেই সুবিধা কোনো সামাজিক মূল্য বা খরচ ছাড়াই আসবে না।
এআই প্রযুক্তি যত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন সম্ভাবনা এবং নতুন প্রশ্ন। অ্যানথ্রপিকের এই সতর্কবার্তা সেই প্রশ্নগুলোরই একটি- ভবিষ্যতের এআই কি মানুষের তৈরি প্রযুক্তি হিসেবেই থাকবে, নাকি একসময় নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে শুরু করবে?
সূত্র: এনডিটিভি