বিজ্ঞাপন
দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিতে সুখবর দিলো সরকার
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
সবার জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির সংযোগ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে? শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার স্মার্ট কানেক্টিভিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং সার্ভার ও ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং পুনঃবিনিয়োগের কথা ভাবছে সরকার। এজন্য দেশি বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করা হবে। এআই এবং ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে বড় পরিমাণে আয় করার সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রত্যেকটি উপজেলায় সরকার এআই ট্রেনিং সেন্টার করতে চায়; যেখান থেকে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্মার্টফোনকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্পেকট্রামের মাধ্যমে রাজস্ব কমানো নয়, বরং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।
তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশলে ডেটা সেন্টার, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দেশের উন্নয়নে বড় সুযোগ তৈরি করবে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সঠিক নীতি, আধুনিক অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
টেলিকম খাত থেকে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে এই খাত থেকে জিডিপির ১৫ শতাংশ অবদান আসা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি আরও জানান, সরকার এ খাতে বিশ্বের শীর্ষ ২০ এর মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় এবং সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে টেলিকম খাতের জন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। বাজেটের পর রোডম্যাপ দেয়া হবে; এই রোডম্যাপ হবে সম্পূর্ণ পূর্বানুমেয়, ফলে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা থাকবে না।
উপদেষ্টা বলেন, গত ছয় সপ্তাহে টেলিকম খাত সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে তাদের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা শোনা হয়েছে। এই খাতে করহার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও দেশের সামগ্রিক ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত এখনো কম। টেলিকম খাত বর্তমানে সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর রাজস্ব উৎস।
কর কমানো হলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে বলেও জানান তিনি। তবে সব সমস্যার সমাধান এক বাজেটেই সম্ভব না হলেও সরকার বাস্তবভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা করবে। গার্মেন্টসে আমরা যেমন সুযোগ সুবিধা দিয়েছি; বাংলাদেশকে একটা হাব করতে আমরা ইলেকট্রনিকস খাতেও তেমন সুযোগ সুবিধা দেবো।