Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

তথ্যপ্রযুক্তি

স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে চায় সরকার

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে চায় সরকার

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম আড়াই হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে মনিটরের ওপর কর ভার কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকের পরিচয় ও আর্থিক লেনদেন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আসবে। এতে করে সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ আরো সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।

বৈঠকে টেলিকমের কেপিআই প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি প্রাপ্যতায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে এই উপদেষ্টা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নতুন টেলিকম পলিসি : উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)-এর সভাপতি সমীর কুমার দে’র সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির। আলোচনায় অংশ নেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী, সাংবাদিক ও ইউটিউবার মাসুদ কামাল, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, অ্যাসোসিয়েশন অব আইসিএক্স অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এআইওবি) সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিম, ফাইবার এট হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী, টিআইওবি সদস্য সচিব দিদারুল ইসলাম, আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরামের (আইওএফ) চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মুশফিক মনজুর, আইআইজিডব্লিউ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জুনায়েদ, আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম এবং ফাইবার অ্যাট হোম চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী।

স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, ‘টেলিকম খাতে কোনো রাজনীতি নয়, এটি দেশের জন্য ভবিষ্যত শিল্প খাত। আমরা চাই দেশের ৯০ শতাংশ জনগণকে ১০০ এমবি ব্রডব্যন্ড কানেক্টিভিটি এবং ৫জি মোবাইল নেটওয়ার্কে আনতে কাজ করছে সরকার। দেশের প্রত্যেকে নাগরিকের থাকবে স্বতন্ত্র ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট।

ভোক্তার কাছ থেকে কর নেওয়ার বিষয়ে ভারসাম্য রাখতে কর কাঠামো পরিবর্তন কথা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘১০০ টাকার সেবা কিনে ৩৮ টাকা কর নেওয়া যৌক্তিক নয়। ইন্টার কানেক্টেড ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

মোবাইল সাবসক্রাইবার হিসেবে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও সেবায় ১৪১তম অবস্থান নিয়ে আক্ষেপ করে উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার বর্তমান চিত্র একটি সমষ্টিগত ব্যর্থতা।

একইসঙ্গে এটি একটি বড় সুযোগও তৈরি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড সেবায় পিছিয়ে আছে, যা স্বীকার করে সামনে অগ্রসর হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের মানুষ বা ভোক্তা। দ্বিতীয়ত, ব্যবসা ও অর্থনীতির বিকাশ এবং তৃতীয়ত বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো। আগামীতে এফডিআই জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যা প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। 

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘টেলিকম সেবায় বিগত সময়ের কালেক্টিভ ফেইলরকে অপরচুনিটি হিসেবে দেখছে সরকার। তাই সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানে আমরা গ্রাহকের স্বার্থ দেখি। তবে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর জন্য সাইবার সুরক্ষায় আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। শিক্ষাক্রমে এআই অন্তর্ভুক্তি করতে কাজ করছি। পুরো ভ্যালু চেইন, ডিভাইস, উৎপাদন, সেবা ও রাজস্ব ভাগাভাগি, সবকিছু পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। শিল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই না হলে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ভারসাম্যপূর্ণ টেলিকম কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, ‘আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগে সুযোগ রেখেছি। এনএসপি’রা সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে এই কাজ করতে পারবেন। সিএমএসপিদের বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে কোনো সমালোচনা করা যাবে না। সবাই মিলে উইন উইন হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রবৃদ্ধি আসে ল্যাবরেটরি থেকে বিজ্ঞানের ব্যবহারে নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে। বিজ্ঞান ইনভেন্ট করে। ব্যবসায়ীরা তা দিয়ে ইনোভেশন করে। তাই টিম টিম করে না জ্বলে; কোয়ান্টাম লিপ করতে হবে। পুরনোকে আঁকড়ে না রেখে ভয়েস থেকে ডেটায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বদলে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মোবাইল অপারেটরগুলোর আনলিমিটেড ওয়াইফাই সেবা নিয়ে আতঙ্ক প্রকাশ করেন সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, সরকারের ওপর মাস্তানি করে বিদেশি অপারেটররা। সরকারের টেলিটককে সেবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ইউটিউবে কন্টেন্ট দিয়ে আমার সংসার চলে। তাই আমি সব মোবাইল অপারেটরের সিম ব্যবহার করি। কিন্তু গ্রামে গিয়ে পাশের বাড়ি গিয়ে ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করে কন্টেন্ট আপলোড করতে হয়। অথচ শহরে তাদের ফ্রি ওয়াইফাই সেবা রয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার