বিজ্ঞাপন
স্বর্ণ টাকা বা জমি নয়! আগামী ১০ বছরে সবচেয়ে মূল্যবান হবে যে জিনিস
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৬ এএম
বিজ্ঞাপন
বর্তমান পৃথিবীতে সম্পদ বলতে আমরা সাধারণত টাকা, সোনা বা স্থাবর সম্পত্তিকে বুঝি। তবে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস 'জেরোধা'র (Zerodha) সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাত সম্পদের সংজ্ঞায় এক আমূল পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। তার মতে, আগামী দশকে সোনা বা জমির চেয়েও মূল্যবান হয়ে উঠবে ইলেকট্রন ও শক্তি। অর্থাৎ, বিদ্যুৎই হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সম্পদ বা নতুন ‘কারেন্সি’।
নিখিল কামাতের এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডেটা প্রযুক্তির বিস্ময়কর জয়যাত্রা। তার বিশ্লেষণের মূল দিকগুলো হলো:
এআই ও ডেটা সেন্টারের ক্ষুধা: আধুনিক বিশ্বের মেরুদণ্ড হলো ডেটা সেন্টার, যা আমাদের নেটফ্লিক্স স্ট্রিমিং থেকে শুরু করে গুগল সার্চ—সবকিছু সচল রাখে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অবিশ্বাস্য পরিমাণ বিদ্যুৎ।
উচ্চ পরিচালন ব্যয়: একটি ডেটা সেন্টারের মোট ব্যয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশই খরচ হয় বিদ্যুৎ খাতে, যা মূলত কম্পিউটিং প্রসেস এবং সার্ভার ঠান্ডা (Cooling) রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়।
বিশাল চাহিদার তুলনা: একটি নতুন ডেটা সেন্টার প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ির সম্মিলিত চাহিদার চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে।
বর্তমানে বিশ্বে ডেটা সেন্টারের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ দেশগুলো হলো:
যুক্তরাষ্ট্র: ৩,৬৮০টি
জার্মানি: ৪২৪টি
যুক্তরাজ্য: ৪১৮টি
গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে যেভাবে সার্ভার ও ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ খরচ হবে শুধুমাত্র এই সেক্টরে।
নিখিল কামাতের এই দূরদর্শী চিন্তা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আগামীর বিশ্বে যার হাতে জ্বালানি বা বিদ্যুৎ শক্তি থাকবে, সেই হবে প্রকৃত বিত্তবান। খুব শীঘ্রই হয়তো আমরা এমন এক সময়ে পৌঁছাব যখন নগদ অর্থের চেয়ে বিদ্যুতের মজুতই হবে সমৃদ্ধির মাপকাঠি।
বিজ্ঞাপন