বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। বছরের সেরা ফুটবলার হিসেবে কার হাতে উঠবে সোনার বল, তা জানতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে আজ রাতে। ৭০তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী বিভাগের সেরা খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হবে।
এবারের পুরুষ বিভাগে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইন। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি বিশ্লেষণে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে বার্সেলোনার স্প্যানিশ তরুণ তারকা ইয়ামালকে।
ফরাসি ডেটা বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান আভিসিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ে লামিন ইয়ামালের সম্ভাবনা বেশি। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে তার সম্ভাবনা ২৩ শতাংশ।
এছাড়া ২১ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। অন্যদিকে ১৯ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপ্পে।
তালিকার শীর্ষ পাঁচে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিও। আভিসিয়ার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছেন তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরের ভবিষ্যৎবানী করেছিল আভিসিয়ার। সেবছর ব্যালন ডি’অর জয়ে ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, বুকমেকারদের হিসাব অনুযায়ী এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার হ্যারি কেইন।
সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে আলোচনা শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফুটবলের পরিচিত মুখদের মতামতেও উঠে আসছে বিভিন্ন নাম।
অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনে মনে করেন, মেসি ব্যালন ডি’অর পাওয়ার যোগ্য। বিশ্বকাপের পরও মেসির পারফরম্যান্স এবং বয়সের সঙ্গে তার অসাধারণ ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করেছেন আর্জেন্টাইন এই কোচ।
ইতালির সাবেক ফুটবলার মার্কো মাতেরাজিও মেসির প্রশংসা করেছেন। তার মতে, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি যে মানের ফুটবল খেলছেন, তা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে।
এদিকে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিচার করলে, ২৫ গোল নিয়ে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ১৫ গোল নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শীর্ষ সংগ্রাহক হিসেবে এই লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন এমবাপে।
তাছাড়া এমবাপ্পে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটও জিতেছেন এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (১২টি) গড়েছেন। এই নজরকাড়া পরিসংখ্যানগুলো তাকে হ্যারি কেইনের পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। কেইন গত মৌসুমে অবিশ্বাস্য ৭৩ গোল করেছেন। ২০১১-১২ মৌসুমে মেসির ৮২ গোল করার পর থেকে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ।
তবে এমবাপ্পে ক্লাব কিংবা দেশ কোনোটির হয়েই কোনো ট্রফি জিততে পারেননি, অন্যদিকে কেইন বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা জিতলেও ইংল্যান্ডকে কেবল তৃতীয় স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। আর এখানেই আলাদা ইয়ামাল। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে ইনজুরির কারণে তার মৌসুমটি খুব একটা বড় না হলেও এই তরুণ স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জিতেছেন।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য অনেক সময় ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বকাপ, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো প্রতিযোগিতায় শিরোপা জেতা খেলোয়াড়েরা সাধারণত বাড়তি আলোচনায় থাকেন।
তবে দলীয় ট্রফিই একমাত্র নির্ধারক নয়। পুরো মৌসুমে ধারাবাহিকতা, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রভাব রাখার ক্ষমতাও সমানভাবে আলোচনায় আসে। তাই শুধু গোলসংখ্যা কিংবা শিরোপার হিসাব দিয়ে বিজয়ী নির্ধারণ করা কঠিন।