বিজ্ঞাপন
‘এই জার্সিটাই ছিল আমার জীবন’, বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির শেষ কথা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম
বিজ্ঞাপন
একটা সময় আসে, যখন কিংবদন্তিরও থামতে হয়। লিওনেল মেসির জন্য সেই সময়টা এসে গেছে। আকাশি-সাদা জার্সিতে আজই শেষবার মাঠে নামবেন তিনি। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে তার ২১ বছরের পথচলা।
বিদায়ী ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার মানুষের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় বলেছেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি।’
আজ বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা ও বেনিনের ম্যাচ। তার আগে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডিডাস’ ব্র্যান্ডের প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় মেসি বলেছেন, ‘সময়টা এসে গেছে। এই জার্সিটাই ছিল আমার স্বপ্ন, আমার গর্ব, আমার জীবন। এই জার্সিটাই ছিল আমার জীবন। আমাকে এতটা ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। তোমাদের খুব মনে পড়বে।’
২১ বছর আগে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল মেসির। এরপর আকাশি-সাদা জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ১২৫টি, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৬৬টি গোল। তিনটি ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবার ওপরে তিনি।
শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে অবশ্য মেসিকে মাপা যায় না। বিশ্বকাপের মঞ্চেও তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়। বিশ্বের মাত্র তিনজন ফুটবলারের একজন হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি তার।
বিশ্বকাপে মেসির গোল ২১টি। সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তার ওপরে এখন শুধু কিলিয়ান এমবাপ্পে, ২২ গোল নিয়ে।
তবে সংখ্যার বাইরেও আছে আরও কিছু অর্জন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এর আগে জিতেছেন ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০৮ অলিম্পিকের সোনাও আছে তার সংগ্রহে। ২০০৫ সালে জিতেছিলেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ।
আজ মনুমেন্তালে তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ হবে না। হবে মেসিকে ঘিরে এক বিশাল উৎসব। ম্যাচের আগে ও পরে থাকবে নানা আয়োজন। মাঠে থাকবেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের অনেক সদস্যও।
সব মিলিয়ে আজকের রাতটা আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক যুগের শেষ রাত।
একজন ফুটবলারের বিদায় কখনো কখনো শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় থাকে না। মেসির ক্ষেত্রেও তা নয়। আকাশি-সাদা জার্সিতে তার ২১ বছরের গল্পে ছিল ব্যর্থতার বিষাদ, ট্রফির উল্লাস, ভাঙা স্বপ্ন, ফিরে আসার জেদ এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয়ের পূর্ণতা।