বিজ্ঞাপন
২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বপ্নের স্টেডিয়াম স্থগিত করছে সৌদি আরব
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য সৌদি আরব যে স্টেডিয়ামগুলো দেখিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, সেগুলোর সবচেয়ে আলোচিত একটি ছিল নিওম স্টেডিয়াম। মাটি থেকে অনেক ওপরে ‘দ্য লাইন’-এর ভেতরে নির্মাণের কথা ছিল ৪৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সেই মাঠ। এখন সেই প্রকল্পই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হওয়ার পথে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, নিওম স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নীরবে সরিয়ে রাখছে সৌদি আরব। যে বিশাল নগর প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামটি হওয়ার কথা ছিল, সেই নিওম ও বিশেষ করে ‘দ্য লাইন’-এর কাজ পিছিয়ে যাওয়া এবং পরিসর ছোট করার পর এসেছে এই সিদ্ধান্ত।
নিওম স্টেডিয়ামের সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার।
তবে স্টেডিয়ামটি বাতিল করার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়নি সৌদি আরব। নিওম ও সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। সৌদি ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রশ্ন পাঠিয়েছে ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজক কর্তৃপক্ষের কাছে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে। অন্য কয়েকটি নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামের ছবিও তারা দিয়েছে। তবে নিওম স্টেডিয়াম আদৌ নির্মিত হবে কি না এবং এর ব্যয় নিয়ে করা প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দেয়নি।
বিশ্বকাপের জন্য সৌদি আরব পাঁচটি শহরে মোট ১৫টি স্টেডিয়াম নির্মাণ বা সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে কয়েক ডজন অনুশীলন কেন্দ্র। এমইইডির হিসাবে এসব প্রকল্পের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ২৭০ কোটি ডলার।
এর মধ্যে নিওম স্টেডিয়াম শুরু থেকেই আলাদা নজর কেড়েছিল। সৌদি আরবের বিশ্বকাপ প্রস্তাবে এটিকে ‘দ্য লাইন’-এর ভেতরে উঁচুতে নির্মিত একটি আধুনিক স্টেডিয়াম হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাচ ও ইস্পাতের নগরী হিসেবে দ্য লাইনের পরিকল্পনা করেছিল সৌদি আরব। পুরো নিওম প্রকল্পই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম প্রধান প্রতীক। তেলের ওপর অর্থনীতির নির্ভরতা কমিয়ে নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোই সেই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
কিন্তু গত কয়েক বছরে দ্য লাইনের পরিকল্পনা ছোট হয়েছে এবং কাজের সময়সূচিও পিছিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে নিওমের মালিক পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের গভর্নর ইয়াসির আল রুমাইয়ান জানিয়েছিলেন, দ্য লাইন এখন আর তাদের অগ্রাধিকারের প্রকল্প নয় এবং ২০৩০ সালের আগেই সেটি প্রস্তুত হওয়া অপরিহার্যও নয়। তবে তখন কোনো প্রকল্প বাতিল করার কথা অস্বীকার করেছিলেন তিনি।
সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে ব্যয়বহুল বিশাল প্রকল্প থেকে তুলনামূলক দ্রুত আর্থিক ফল পাওয়া যায় এমন বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। এরই মধ্যে রিয়াদের নিউ মুরাব্বা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় অংশ বিশাল ঘনকাকৃতির ‘দ্য মুকাব’-এর নির্মাণকাজও স্থগিত হওয়ার খবর দিয়েছে রয়টার্স।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আঞ্চলিক সংঘাতের অর্থনৈতিক চাপ। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতির প্রভাব পড়েছে সৌদি অর্থনীতিতেও। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বড় বাজেট ঘাটতির আশঙ্কা জানিয়েছে।
তবে ২০৩৪ বিশ্বকাপের সব প্রকল্প থেমে নেই। পূর্বাঞ্চলীয় শহর আল খোবারের আরামকো স্টেডিয়ামের নির্মাণ এ বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। জানুয়ারিতে সেখানে প্রথম ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে। অন্য কয়েকটি বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।