বিজ্ঞাপন
বুরকিনা ফাসোকে ৭ গোল দিয়ে জ্বালা মেটাল আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ ফাইনালে ১২০ মিনিট দৌড়ে স্পেনের জালে একটা শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। সে জ্বালাই কি এখন মেটাচ্ছে দলটা? নাহয় প্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে এভাবে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলতে চাওয়ার মানসিকতা কেউ দেখায়? বলিভিয়া ম্যাচে ৪ গোলের পর এবার বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে দলটা।
লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জুলিয়ানো সিমিওনে… কে গোল করেননি আজ! গোলের বাইরেও দলটার আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষ গোলমুখে আর্জেন্টিনা আজ শট নিয়েছে ২৮টি, তার ১৬টিই ছিল অন টার্গেট।
ম্যাচটা অবশ্য হবে কি না, তা নিয়েই ছিল শঙ্কা। যে বিমানে করে আর্জেন্টিনায় যাওয়ার কথা বুরকিনা ফাসোর, সে চার্টার্ড ফ্লাইটটা বাতিল হয়ে যায়। ফেডারেশন আরেকটা ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে যখন, তখন জাতীয় দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় বেঁকে বসেন।
সে কারণে বাধ্য হয়ে কোচ আমীর আব্দৌ অ-২৩ দলের খেলোয়াড়দের দলে ডাকেন। সব মিলিয়ে এই দলে ছিলেন জাতীয় দলের মোটে একজন খেলোয়াড়— চেক বাবেল। সেই দলটাকে নিয়ে ম্যাচের ৫ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় গিয়ে পৌঁছায় দলটি। যত সরঞ্জাম ছিল বিমানবন্দর থেকেই পাঠিয়ে দেওয়া হয় মাঠে, একটু বিশ্রাম নিয়ে দলের সবাইকে হাজির হতে হয়েছে মাঠে।
একে তো বড় দলের বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা, তার ওপর হুট করে ডাক পাওয়া, সঙ্গে ভ্রমণক্লান্তি… সব মিলিয়ে বুরকিনা ফাসোর খেলোয়াড়দের ওপর ধাক্কা গেছে বেশ। সেটাই যেন বড় হয়ে ফুটে উঠল মাঠের খেলায়।
আর্জেন্টিনা তার সুযোগটা ভালোভাবেই নিয়েছে। ৩ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ পেনাল্টি মিস করলেও ফিরতি চেষ্টায় গোলের দেখা পেয়ে গেছেন। এর মিনিট ছয়েক পর আলভারেজের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন মুমুনি দিয়ালো।
১২ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। লাউতারোর সঙ্গে পাস দেওয়া নেওয়া করে শেষে দারুণ ফিনিশে বল জালে জড়ান তিনি। এরপর ৩৪ মিনিটে চতুর্থ গোল করেন নিকো পাজ। ম্যাক অ্যালিস্টারের দারুণ থ্রু পাসে তিনি বল পান। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পান তিনি। ৩৬ মিনিটে পঞ্চম গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। প্রেস্তিয়ান্নির পাস থেকে তিনি গোল করেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৫-০ গোলে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্কালোনি একসঙ্গে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন। বালেরদি, তোমাস পালাসিওস, ফ্লোরেস, মাস্তানতুওনো ও সুলে মাঠে নামেন। উঠে যান রোমেরো, লিসান্দ্রো, হুলিয়ান, প্রেস্তিয়ান্নি ও নিকো পাস।
৫৬ মিনিটের দিকে ষষ্ঠ গোল আসে। ফ্রান্কো মাস্তানতুওনো গোলরক্ষক বেরিয়ে আসার আগেই বল জালে পাঠান। লাউতারো তাকে পাস দিয়েছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে এটি এই ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল।
এরপর আরও পরিবর্তন আসে। নিকো গনসালেজ ও জুলিয়ানো সিমিওনে নামেন। মেদিনা ও জিয়াই উঠে যান। এরপর সান্তি কাস্ত্রো, এসেকিয়েল পালাসিওস ও ভালেন্তিন বার্কো মাঠে নামেন।
তাদের জায়গায় ওঠেন এনজো ফের্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো। শেষ দিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বদলে নামেন হেরোনিমো রুল্লি।
ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সপ্তম গোল আসে। দারুণ এক ক্রস থেকে হেডে গোল করেন জুলিয়ানো সিমিওনে। এই গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
ফরোয়ার্ড তো বটেই, মিডফিল্ডাররাও গোলের খাতায় নাম তুলেছেন। টানা দুই ম্যাচে এই দৃশ্যের দেখা মিলল। তাতে যদি ফাইনালের ওই জ্বালা কিছুটা হলেও কমে!