বিজ্ঞাপন
এবার মোস্তাফিজের ১ ওভারে ২৫ রান, রত্নায়েকে-ঝড়ে ফিকে ব্রোঞ্জের আশা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ এএম
বিজ্ঞাপন
হুট করে মোস্তাফিজুর রহমানের কী হয়ে গেল? নিশিনের পিচের যা ধরন, সেখানে আরও কার্যকরি হয়ে ওঠার কথা ছিল তার। সেখানে তিনিই কি না ‘রানমেশিন’ বনে গেছেন রীতিমতো! আগের ম্যাচে তার বোলিংয়ের দোষে সোনার আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল তার। আজও তিনি রান দিলেন উদারহস্তে! আজ তিন ওভারে দিলেন ৪৩ রান, যার ২৫ এসেছে এক ওভারেই!
সেই বোলিংয়েই কি-না, শুরুর চাপটা ধরে রাখা গেল না। থারিন্দু রত্নায়েকে ৩২ বলে খেললেন ৬৫ রানের এক ইনিংস। শ্রীলঙ্কা দাঁড় করাল ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের ‘পাহাড়’। বাংলাদেশের পদকের আশা ফিকে হয়ে গেল যেন প্রথম ইনিংসের শেষেই।
টসে হেরে আগে ফিল্ডিং করতে নেমে শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ভালো ছিল। প্রথম ওভারে কোনো বাউন্ডারি দেননি মেহেদী হাসান। পরের ওভারে অভিষিক্ত আলিসও কোনো বাউন্ডারি দেননি। তৃতীয় ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন মেহেদী।
এরপর আলিসের ওভারেও দুই উইকেট পড়ে। ওভারের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ফার্নান্দো। এটিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলিসের প্রথম উইকেট। ওই ওভারের পঞ্চম বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন সোহান ডি লিভেইরা। ৩.৫ ওভারে ২১ রানেই ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
এরপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তারা। আরাচাগে ও বান্দারা মিলে জুটি গড়েন। দুজনে ৪০ বলে ৩৩ রান যোগ করেন। ১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ৫০-এর কিছু বেশি। উইকেট ছিল সেই চারটিই। জুটিটা বাংলাদেশের অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল। ১০.২ ওভারে তা ভাঙেন রিশাদ। তার লাফিয়ে ওঠা বলে সুইপ করতে গিয়ে টাইমিং ঠিক রাখতে পারেননি বান্দারা। ২৪ বলে ১৮ রান করে তিনি মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দেন। তখন স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ৫৪।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ১৪তম ওভারে। এই ওভারে মোস্তাফিজকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক লিটন দাস। মোস্তাফিজ প্রথম দুই বলে চার খান। পরের চার বলের তিনটি তিনি ডট দেন। একটিতে খান ছক্কা। কিন্তু নো বল ও ওয়াইড মিলিয়ে ওভার শেষ হয় ২৫ রানে। এর আগে ১৩ ওভারে সাইফ হাসান ছাড়া আর কোনো বোলার ছয়ের বেশি রান দেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষেও এক ওভারে ২৩ রান দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। সেই ম্যাচ ওখানেই বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যায়।
এরপর একের পর এক বাউন্ডারি আসতে থাকে। থারিন্দু রত্নায়েকে ২৭ বলে ফিফটি করেন। শেষ ৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৮৩ রান। ১৮.১ ওভারে মোস্তাফিজের বলে রিশাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রত্নায়েকে। তিনি ৩২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৫ রান করেন। তখন স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৪৭।
বোলিংয়ে রিশাদও শেষ দিকে খরুচে হয়ে পড়েন। প্রথম দুই ওভারে তিনি দেন মাত্র ৯ রান। কিন্তু শেষ দুই ওভারে দেন ৩৭ রান।
আগের ১০ ওভারে ৫০ রানের কিছু বেশি, শেষ ১০ ওভারে ১১০ রানের কাছাকাছি। এই ব্যবধানই শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানের পুঁজি এনে দিয়েছে। তাতে পদক জেতার পথটা কঠিনই হয়ে গেল বাংলাদেশের।