বিজ্ঞাপন
‘আইপিএলে পাঁচটি ম্যাচ ফিক্সিং করেছি’- নিজেই ফাঁস করলেন এক ক্রিকেটার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিং এ সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন রঞ্জি ট্রফি খেলা এক ক্রিকেটার। ফিক্সিংয়ের জন্য চেন্নাই সুপার কিংসের এক ক্রিকেটারের সঙ্গে তার সমঝোতা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন। দলের গোপন তথ্য ফাঁস করতেন সেই তরুণ ক্রিকেটার। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
এক রঞ্জি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে গোপন অভিযানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই ক্রিকেটারের কাছে আগে থেকেই চেন্নাইয়ের প্রথম একাদশ সংক্রান্ত তথ্য থাকতো। তিনি তা জানিয়ে দিতেন জুয়াড়িদের।
নাগাল্যান্ডের হয়ে রঞ্জি খেলা রাচিত ভাটিয়ার দাবি, ২০২৫ সালের আইপিএলে তিনি নিজেই ম্যাচ ফিক্সিং করতেন। ২০২৬ সালের আইপিএলের সময় জুয়াড়িদের কাছে সিএসকের প্রথম একাদশ সম্পর্কে তথ্য বিক্রি করতেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে রাচিতের দাবি, ২০২৫ সালের আইপিএলে পাঁচটি ম্যাচ ফিক্সিং করেছিলেন তিনি। প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৬০ লাখ রুপি (৭৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা) করে পেয়েছিলেন।
রাচিত বলেছেন, ‘আমি স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে লন্ডনের জুয়াড়িদের কাছে সিএসকের অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার করেছি। ২০২৫ সালের আইপিএলে পাঁচটি ম্যাচ ফিক্সিং করেছি। ম্যাচ প্রতি ৬০ লাখ রুপি করে মোট ৩ কোটি রুপি (৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা) পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮-১৯ মৌসুমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ম্যাচ ফিক্সিং করেছি। ইচ্ছাকৃত দুটো ওয়াইড বল করেছিলাম। প্রতিটি বলের জন্য জুয়াড়িদের কাছ থেকে ৮ লাখ রুপি (১০ লাখ ৩২ হাজার টাকা) করে পাই। দুটো বলের জন্য ১৬ লাখ (২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা) পেয়েছিলাম।’
কিভাবে ম্যাচ ফিক্সিং করা হয়, ম্যাচ প্রতি কত রুপি বিনিয়োগ করা হয়, সে সবও জানিয়েছেন রাচিত। তিনি জানিয়েছেন, টসের আগে প্রথম একাদশ সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহ করা যায়। স্পট ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচের কিছু মুহূর্ত প্রভাবিত করা যায়।
আইপিএলের ম্যাচে প্রথম একাদশ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার জন্য ৬০ লাখ রুপি এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ১ কোটি রুপি করে দেওয়া হত। রাচিতের দাবি, দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গেও জুয়াড়িদের যোগাযোগ রয়েছে। প্রথম একাদশ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বা স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ৪০ লাখ রুপি করে পাওয়া যায়।
নাগাল্যান্ডের রঞ্জি দলে জায়গা পাওয়ার জন্যও ঘুষ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রাচিত। তিনি বলেছেন, ‘নাগাল্যান্ডের রঞ্জি দলে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য ১৫ লাখ রুপি ঘুষ দিয়েছিলাম। তারপর ২০১৮-১৯ মৌসুমে আমার রঞ্জি অভিষেক হয়।’
আইপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে রাচিত বলেছেন, ‘২০২৬ সালে ম্যাচ ফিক্সিং নিশ্চিত করার জন্য প্রথমে পছন্দের বা নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে প্রথম একাদশে ঢোকাতে হত। তা হলে ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং করা আর কঠিন হত না। আইপিএলের সময় চেন্নাইয়ের যে ক্রিকেটার ফিক্সিংয় সাহায্য করেছে, সে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলবে। আইপিএল ম্যাচ ফিক্সিংর জন্য ৬০ লাখ রুপি এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ১ কোটি রুপি দেওয়া হয়। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ৪০ লাখ করে দেওয়া হয়।’
রাচিত অবশ্য জানিয়েছেন, গত আইপিএলে তার পক্ষে ম্যাচ ফিক্সিং করা সম্ভব হয়নি। কারণ যে ক্রিকেটারকে তিনি ফিক্সিংর জন্য চূড়ান্ত করেছিলেন, তিনি কোনও ম্যাচেই চেন্নাইয়ের প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি। তবে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে তিনি খেলেছিলেন। সেখানে ভাল ব্যবসা হয়েছিল।
রাচিতের বক্তব্য জানাজানি হওয়ার পর তদন্তের দাবি জানিয়েছে দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ডিডিসিএ)। সংস্থার সচিব অশোক শর্মা জানিয়েছেন, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত চেয়ে বিসিসিআইকে চিঠি দিয়েছেন তারা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিসিসিআইকে চিঠি দিয়েছি। বোর্ডের নির্দেশমতো আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ করব। আমাদের কাছে কোনও ম্যাচের ভিডিয়ো ফুটেজ চাওয়া হলে, তা আমরা দেব। আপাতত বোর্ড অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাই করছে। এই বিষয়টা দিল্লি পুলিশ বা অপরাধদমন শাখাকে দেখতে হবে।’
অশোক আরও বলেছেন, ‘স্টিং অপারেশনে যে প্রমাণ দেখানো হয়েছে, সেটা একটা রেকর্ডিং মাত্র। যা বলা হচ্ছে, সেগুলো সত্যিই ঘটেছে না এমনি বলা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগ সত্যি হলে, জড়িত ক্রিকেটারদের ছাড়া হবে না। সে যে-ই হোক। দেশ সবচেয়ে আগে। তার পর ডিডিসিএ-র সম্মান। এখানে কোনও ব্যক্তির গুরুত্ব নেই।’
তিনি বলেছেন, ‘দিল্লি প্রিমিয়ার লিগ আমাদের একটা বিশেষ প্রকল্প। তিন বছর ধরে চলছে। এখানকার হাজার হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। যদি কোনও ভাবে লিগ বন্ধ হয়ে যায় বা অন্য কিছু হয়, তা হলে আমরা বিরাট ক্ষতির মুখে পড়ব। তা ছাড়া ডিডিসিএর সততাও প্রশ্নের মুখে পড়বে। আমি নিজে দীর্ঘদিন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। এখনও পর্যন্ত আমাদের বিরুদ্ধে কেউ আঙুল তুলতে পারেনি। আমাদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই সংস্থা এবং লিগের সঙ্গে।’
সন্দেহের তির বংশ বেদী নামে এক ক্রিকেটারের দিকে। কারণ চোট থাকায় চেন্নাইয়ের হয়ে কোনও ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। তবে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে খেলেন। যদিও রাচিত নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের নাম জানাননি।