বিজ্ঞাপন
‘মেসির বিদায়ের ঘোষণা আমাকে বোমার মতো আঘাত করেছে’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
ফিফা উইন্ডোর জন্য একে একে আর্জেন্টিনায় পৌঁছাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এই উইন্ডোয় একটি ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ইতোমধ্যে জাতীয় দলের মধ্যে অনুভূত হতে শুরু করেছে তার এই বিদায়ের রেশ। খেলোয়াড়েরা দেশে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অধিনায়কের শেষ ম্যাচ নিয়ে একের পর এক বার্তা আসতে শুরু করেছে।
ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সবার আগে দেশে পৌঁছান ভালেন্তিন বার্কো। বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ নিয়ে ছিলেন উদ্বেলিত, যে ম্যাচেই বিদায় জানাবেন মেসি। ইএসপিএনকে বার্কো বলেন, ‘আমরা সবাই দারুণ রোমাঞ্চিত এবং আশা করছি তাকে বিদায়বেলায় ভালো কিছু করে দেখাতে পারবো। তাকে ছাড়া জাতীয় দলের কথা কেউ কল্পনাই করতে পারে না, তিনি যে শূন্যতা রেখে যাচ্ছেন তা অনেক বড়, যা পূরণ করা অসম্ভব।’
নিকোলাস তালিয়াফিকো বলেন, ‘এটা মেনে নিতে হবে, সামনে যা আসছে তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, দল হিসেবে বেড়ে ওঠা চালিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমরা কাটিয়েছি ২০টি বছর। এটা কঠিন হবে, তবে মেনে নিতেই হবে।’ নিজের বিদায় নিয়েও একটি বার্তা রাখেন তিনি, ‘আমিও আমার শেষ পর্যায়ে আছি, যতটা সম্ভব উপভোগ করার চেষ্টা করছি।’
বিমর্ষ দেখাচ্ছিল ফাকুন্দো মেদিনাকেও। রোজারিওর এই তারকার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত, তিনি আমাদের অনেক আনন্দ দিয়েছেন, সব কিছু দিয়েছেন। তিনি একজন মানুষ, তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে হবে। সবচেয়ে ভালোভাবে তাকে বিদায় জানাতে হবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে দিতে হবে। তিনি সবার জন্য একটি উদাহরণ, তার মহত্ব থেকে আমাদের শিখতে হবে।’
এই খবর কীভাবে পেয়েছিলেন তাও জানান তিনি, ‘তোমাদের সবার মতোই, এটা আমার কাছে বোমার মতো আঘাত করেছিল।’
দলে মেসির গুরুত্বের কথা তুলে ধরে এসকিয়েল পালাসিওস বলেন, ‘লিও আমাদের জন্য অনেক বড় একটা শূন্যতা রেখে যাবে, সে আমাদের অধিনায়ক, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। এই সপ্তাহে তাকে বিদায় জানানোর মুহূর্তটা উপভোগ করি চলো।’
এরপর বিদায় নিয়ে কথা বলেন হোসে মানুয়েল লোপেজও, ‘আমাদের দেশ এবং ফুটবলের জন্য এটা হতে যাচ্ছে একটা অনন্য মুহূর্ত, ইতিহাস তৈরির মতো কিছু একটা। আমি একইসঙ্গে দুঃখিত এবং আনন্দিত।’
লাউতারো মার্তিনেজও নিজের বার্তা জানিয়ে বলেন, ‘এটা এমন কিছু যা আমরা আগে থেকেই জানতাম, দুঃখের খবর হলেও শেষ পর্যন্ত লিও আমাদের যা কিছু দিয়েছেন এবং যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন তা নিয়েই আমরা সবসময় আনন্দিত থাকবো।’ অধিনায়ককে কী বলবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুধু ধন্যবাদ জানাবো। এই ম্যাচটা হতে যাচ্ছে খুবই বিশেষ এবং রোমাঞ্চকর।’
আর্জেন্টিনায় পৌঁছে আলেক্সিস মাক আলিস্তারও বলেন, ‘শুধুই কৃতজ্ঞতা, এমন আর কেউ হবে না। তার সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে এবং তিনি আমাদের জন্য যা কিছু করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ জানাতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। এটা হতে যাচ্ছে অত্যন্ত আবেগঘন একটা দিন।’
এরপর তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ছেলেদের নিয়ে এটা হবে একেবারে ভিন্ন একটা প্রক্রিয়া, বুঝতে হবে যে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় আর আমাদের সঙ্গে নেই, যে খেলোয়াড় তফাৎ গড়ে দিতেন তিনি আর নেই। সতীর্থ হিসেবে তার সঙ্গে থাকাটা ছিল সবচেয়ে বড় ব্যাপার, তার বিনয়ের সেই দিকটা আমরা খুব মিস করবো।’
দেশে পৌঁছে কথা বলেন ফ্রাংকো মাস্তান্তুওনোও। বিশ্বকাপে দলে না থাকার পর আবার জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আবার এখানে আসতে পেরে আমি খুবই খুশি। এটা স্পষ্টতই অনেক বিশেষ, কারণ এটা আমাদের অধিনায়কের, আমাদের আদর্শের, আমাদের পতাকার শেষ ম্যাচ। এই ব্যাপারে আমি আনন্দিত।’
বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো এবং বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের সিরিজে নিজেদের সমর্থকদের সামনেই আবার মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। স্কালোনেতার প্রথম ম্যাচটি হবে মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে। আর শেষ দুটি ম্যাচ হবে মনুমেন্তালে। বেনিনের বিপক্ষে আগামী ৫ অক্টোবরের ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন মেসি।