বিজ্ঞাপন
আর্জেন্টাইনের ভুলে হারতে বসেছিল ম্যানইউ, ব্রাজিলিয়ানের গোলে রক্ষা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ এএম
বিজ্ঞাপন
রোববার ফুলহামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বেঁচে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরান মাতেউস কুনিয়া। তবে সাম্প্রতিক এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
ক্রেভেন কটেজে জয়ের বিকল্প ছিল না ক্যারিকের দলের সামনে। কিন্তু জয়ের বদলে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
ম্যাচের শুরুতেই বিপদে পড়তে বসেছিল ইউনাইটেড। ফুলহাম ফরোয়ার্ড গনসালো গার্সিয়া বিপজ্জনক এক জায়গা থেকে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এরপরই জবাব দেয় ইউনাইটেড। ব্রুনো ফের্নান্দেসের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন মার্তিনেজ। তবে দুর্দান্ত এক সেভে তা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক বের্ন্ড লেনো।
এরপর আরও একটি সুযোগ তৈরি করে ইউনাইটেড। কুনিয়ার পাস থেকে জোরালো শট নেন ফের্নান্দেস। তবে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
রক্ষণে অস্থিরতা দেখা যায় ইউনাইটেডের। জশ কিংয়ের হাফ-ভলি দারুণভাবে ঠেকান লামেন্স। এরপর স্যান্ডার বার্গের শটও দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পরই সুবর্ণ সুযোগ পান অস্কার বব। কিন্তু লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে রক্ষণে আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে ইউনাইটেড। এই সুযোগে একের পর এক আক্রমণে ওঠে ফুলহাম। কিংয়ের আরেকটি জোরালো শট ঠেকান লামেন্স। এরপর অ্যালেক্স ইওবিকেও রুখে দেন তিনি, গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে।
আক্রমণে তেজ আর নিখুঁততার অভাব এবং রক্ষণের এলোমেলো অবস্থা—সবমিলিয়ে ফুলহামের প্রথম গোলের পথ তৈরি হয়।
নিজেদের অর্ধে বল হারিয়ে ফেলেন কুনিয়া। এই সুযোগে জোরালো শট নেন বাসেয়। লামেন্স সেই শট ঠেকিয়ে দিলেও বল ফিরিয়ে দিতে গিয়ে অদ্ভুতভাবে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন মার্তিনেজ।
তবে শেষ মুহূর্তে আর ভুল করেননি ইউনাইটেড। ৮৯ মিনিটে সমতা ফেরায় তারা। দূর থেকে শট নেন কুনিয়া। তার শট ডেভিড আফেনগ্রুবারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এবার অন্তত ভাগ্যের সহায়তা পান ক্যারিক।
শেষ মুহূর্তে কুনিয়ার গোলে টানা তৃতীয় হার এড়ায় ইউনাইটেড। তবে এতে খুব একটা স্বস্তি নেই ক্যারিক এবং তার দলের জন্য।
প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতেছে ইউনাইটেড। শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ইতিমধ্যে ১০ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে তারা।
এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাতটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হেরেছে ইউনাইটেড। আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন ক্যারিক।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন ক্যারিক। তবে ম্যানচেস্টার সিটি এবং ব্রাইটনের বিপক্ষে টানা দুই হতাশাজনক হারের পর লিগ টেবিলে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফুলহামের বিপক্ষে কোনোরকমে ড্র, এটাও এই মৌসুমে ইউনাইটেডের জন্য আরেকটি লজ্জাজনক অধ্যায় বৈকি!
গত মৌসুমের মতো অন্তত তৃতীয় স্থানে থাকার প্রত্যাশা ছিল ইউনাইটেডের কাছ থেকে। কিন্তু ক্যারিক স্থায়ী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বরং পিছিয়েই গেছে দলটি। এর আগে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে সফল একটি মেয়াদ কাটিয়েছিলেন তিনি।
আগামী ১০ অক্টোবর ঘরের মাঠে তালিকার সবার নিচে থাকা টটেনহ্যামের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইউনাইটেড। এই ম্যাচে জয় দিয়ে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করবেন ক্যারিক এবং স্পার্স কোচ রবের্তো দে জেরবি, দুজনই।