বিজ্ঞাপন
ভারতের বিপক্ষে সেই জয়ই সর্বনাশ ডেকে এনেছে পাকিস্তানের
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ এএম
বিজ্ঞাপন
শেষ ৪ বছর ধরে পাকিস্তান যেন পড়ে আছে টানা ব্যর্থতার ঘেরাটোপে। ছুটোছাটা সাফল্য আছে বটে, কিন্তু সেটা এই পরিস্থিতিটাকে বদলাতে পারছে না আদৌ। পাকিস্তান ক্রিকেটের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ দলের বর্তমান দুরবস্থার গোড়াটাকে খুঁজে পেয়েছেন এক গৌরবময় জয়ে। তার মতে, ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুবাইয়ে ভারতকে ১০ উইকেটে হারানোর সেই ম্যাচ থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেটের পতন শুরু হয়েছিল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজে প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হারের পর ইউসুফের এই মন্তব্য এসেছে। এই হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সাত ক্রিকেটার আর হেড কোচ সরফরাজ আহমেদকে বাদ দিয়ে দেয়। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে পাকিস্তান ক্রিকেটের আরেকটি খারাপ সময় হিসেবে দেখছেন।
তবে ইউসুফের মতে, সমস্যার শুরু আরও আগে থেকেই। ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে সেই জয় ছিল ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রথম জয়। কিন্তু ইউসুফ মনে করেন, এই ঐতিহাসিক জয়ই দলের মধ্যে এক ধরনের অহংকার তৈরি করেছিল।
দলের সামর্থ্যের অভাব নয়, বরং মনোভাবের সমস্যা আর বিনয়ের অভাবকেই তিনি সব সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখান। সামা টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউসুফ বলেন, ‘২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে যে ম্যাচটা আমরা জিতেছিলাম, সেটা আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। কারণ সেই জয়ের পর খেলোয়াড়রা ভাবতে শুরু করে যে তারা অনেক বড় কিছু অর্জন করে ফেলেছে। এরপর তাদের কী করতে হবে, সেটা তারা বুঝতে পারেনি। যখন ভালো খেলবে, তখন বিনয়ী থাকতে হয়। কলার তুলে অসম্মানজনক আচরণ করলে সমস্যা আসবেই। আর পাকিস্তান ক্রিকেটে সেই সমস্যাই অনেক এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলের প্রত্যেকেই পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হতে চেষ্টা করছিল। এর ফল এখনও পাকিস্তান ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে। গত চার-পাঁচ বছরে পাকিস্তান যত ক্রিকেট খেলেছে, ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, সব জায়গায় খেলা হয়েছে ভয়াবহ। পিসিবি পুরোটা সময় পাশে থেকেছে। অনেক কোচ এসেছেন-গেছেন, অনেক কিছু বদলানো হয়েছে শুধু পাকিস্তান দলকে সাহায্য করতে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড় নিজে থেকে দায়িত্ব নেয়নি। শেষ পর্যন্ত পিসিবিকে যে পদক্ষেপ নিতে হয়েছে, তা নিয়েছে। আমি পিসিবির এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি।’
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক লজ্জার পর পিসিবির প্রতিক্রিয়া ছিল কঠোর।
মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলি আগা, আলি উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও মুহাম্মদ আওয়াইস জাফরকে সফর থেকে বাড়ি পাঠানো হয়, যদিও তখনও একটি টেস্ট বাকি ছিল। এই সাতজনের মধ্যে শেষ দুইজন কোনো ম্যাচই খেলেননি, তবুও তাদের বাদ দেওয়া হয়।
তাদের জায়গায় দলে নেওয়া হয় সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকে, যারা আগে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন। এছাড়া নতুন মুখ হিসেবে আসেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাঈদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লাহ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে হারে পাকিস্তান। রোববার লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হার হয় ১৯৪ রানে।
দুই ম্যাচেই সফরকারীদের ব্যাটিং ধসে পড়ে। কোনো ইনিংসেই তারা ২০০ রান পার হতে পারেনি। লর্ডসে হার ঠেকানোর লড়াইয়ে সৌদ শাকিলের লড়াকু ৯৭ রানই ছিল সেঞ্চুরির সবচেয়ে কাছাকাছি ইনিংস।
সফর চলাকালীন এমন পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, যদিও শেষ টেস্টটি ছিল গুরুত্বহীন, ইউসুফ পিসিবির পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, পিসিবি যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে কোনো সমস্যা নেই। পাকিস্তান দল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে নয় নম্বরে আছে। তারা নয় নম্বরে আছে কারণ টেবিলেই মাত্র নয়টি দল আছে। পাকিস্তানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তাই যখন এমন হচ্ছে, তখন বোর্ডকে উন্নতির জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতেই হয়।’
তবে নতুন সাত ক্রিকেটার এসেই তাৎক্ষণিক ফল বদলে দেবে, এমন প্রত্যাশা না করার পরামর্শও দিয়েছেন ইউসুফ।
তিনি বলেন, ‘পিসিবির প্রতিক্রিয়ায় আমি কোনো সমস্যা দেখি না। কারণ দল অনেক দিন ধরেই বাজে ক্রিকেট খেলছে। শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজ নয়। আমরা ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছি, এশিয়া কাপের ফাইনালও খেলেছি। কিন্তু সেই ফাইনালগুলোর পর থেকে এই পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স দেখুন।’
পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব এখন সামলাচ্ছেন সাদা বলের কোচ মাইক হেসন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট।