Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

১৪০ বছরে যা হয়নি ম্যাকাইতে তা করে দেখাতে পারবে বাংলাদেশ?

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

১৪০ বছরে যা হয়নি ম্যাকাইতে তা করে দেখাতে পারবে বাংলাদেশ?

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ। তারপরও মাঝে মধ্যে বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয়ের রেকর্ড আছে।

অল্প কিছু কীর্তির মধ্যে আছে ঘরের মাঠে বড় দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারানো এবংবিদেশের মাটিতে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় আছে লাল-সবুজের ঝুলিতে।

তবে এবার নিজেদের টেস্ট রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। শুধু নিজেদের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করা কিংবা সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করাই নয়, টেস্ট ক্রিকেটে এক বিরল ও নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানিও রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

গত ১৪০ বছরে যে কৃতিত্ব ক্রিকেট বিশ্বের আর কোনো দল দেখাতে পারেনি, সেই বিরল কৃতিত্ব অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ এখন বাংলাদেশের সামনে। অস্ট্রেলিয়ার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে সেই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এরপর আজ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আর কোনো বিদেশি দল এক সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে সব টেস্টে হারাতে পারেনি।

কী সেই কৃতিত্ব?

তাহলে শুনুন সেই কৃতিত্বের গল্প। আজ থেকে ১৪০ বছর আগে দুই ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। এরপর আর কোনো দল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক সিরিজের সব টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি।

ডারউইনে ৯ উইকেটে জেতার পর বাংলাদেশের সামনে এখন সেই দুর্লভ কৃতিত্বের অধিকারী হওয়ার সুযোগ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে টিম বাংলাদেশ কি সেই অধরা কৃতিত্ব অর্জন করতে পারবে?

কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তের চোখ এখন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকাইয়ের দিকে। শুধু বাংলাদেশের সমর্থকরাই নন, বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট অনুরাগীর কৌতূহলী প্রশ্ন — বাংলাদেশ কি অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে?

ডারউইনে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই শ্রেয়তর নৈপুণ্য দেখিয়ে প্যাট কামিন্সের দলকে ৯ উইকেটে হারানোর পর ম্যাকাইয়েও কি শেষ হাসি হাসবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল?

তানজিদ তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদরা প্রথম টেস্টে ব্যাট ও বল হাতে যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন, ম্যাকাইয়েও কি অমনটা করে দেখাতে পারবেন?

মোদ্দা কথা, ডারউইনে যে আত্মবিশ্বাসী, আস্থায় ভরা টাইগারদের দেখা মিলেছিল, ম্যাকাইয়েও কি আবার সেই বাংলাদেশকে দেখা যাবে?

এসব প্রশ্ন রেখেই ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

রেকর্ডই বলে দিচ্ছে, ইংল্যান্ডের পর গত ১৪০ বছরে আর কোনো দল অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক সিরিজের সব টেস্টে হারাতে পারেনি। কাজেই কাজটা সহজ নয়। খুব কঠিন।

ভারত, অস্ট্রেলিয়ার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলও যা পারেনি কখনো, বাংলাদেশ তা পারবে — বেশির ভাগ ক্রিকেট অনুরাগীই এমনটা ভাবতে নারাজ।

বাংলাদেশের অনেক অন্ধ ভক্ত ও সমর্থকও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট জেতা নিয়ে সংশয়ে। তাদের কথা, ডারউইনে জিতলেও ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জেতা সহজ হবে না। প্যাট কামিন্সের দল সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র রাখতে চাইবে।

প্রথম টেস্টে টাইগাররা অস্ট্রেলিয়ার ওপর পূর্ণ প্রভাব খাটিয়ে জিতলেও শেষ টেস্টে তার পুনরাবৃত্তি ঘটানো অনেক কঠিন হবে। অস্ট্রেলিয়ানরা এবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দেবে।

সেই ১৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতে হোয়াইটওয়াশ করে ফিরেছিল। এরপর আর কোনো বিদেশি দল তা পারেনি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরপর দুই টেস্ট জেতা রীতিমতো দুরূহ।

সাদমান, তানজিদ তামিম, মুমিনুল, শান্ত, মুশফিক, লিটন, মিরাজ, তাইজুল ও হাসান মাহমুদদের তা করে দেখাতে হলে ডারউইনের সেই উজ্জ্বল ও প্রত্যয়ী নৈপুণ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানোই নয়, আরও অনেক ভালো খেলতে হবে।

এখন বাংলাদেশ কি তা পারবে?

সে প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। কাজটা যতই কঠিন হোক না কেন, অসম্ভব নয়।

ডারউইনেই শান্তর দল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে হারানো যায়।

তিন ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন দেখিয়ে দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের মাথা তুলে দাঁড়াতে না দিয়ে উল্টো তাদের টুঁটি চেপে ধরা সম্ভব। ওই তিন ফাস্ট বোলারের সাঁড়াশি বোলিংয়ের তোড়ে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে দুইশর নিচে, ১৯৮ রানে অলআউট হয়েই আসলে ব্যাকফুটে চলে যায়।

ট্রাভিস হেড, লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিনদের নিয়ে সাজানো অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে হাসান মাহমুদ, তাসকিন ও এবাদতের ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বল ফেলাটাই অসিদের স্বচ্ছন্দ পথচলায় প্রথম বাধা হিসেবে কাজ করে।

আলগা বোলিং না করে, বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে তিন পেসার যতটা সম্ভব মাপা লাইন ও লেংথে উইকেট-টু-উইকেট বল করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের মাথাব্যথার কারণ হন। বাংলাদেশের ফাস্ট বোলাররা একটানা দীর্ঘ সময় ধরে ভালো জায়গায় বল ফেলতে পারেন, হাফভলি বা ওভারপিচ না দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাপা লেংথে বল করতে জানেন তা যেন চোখে দেখেও বিশ্বাস হচ্ছিল না অনেকের।

অমন মাপা ফাস্ট বোলিংয়ের মুখে অজিরা খেই হারিয়ে এলোমেলো শট খেলেও উইকেট দিয়ে বসেন। কেউ বোল্ড হয়ে ফেরেন। কেউ অফস্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। আবার কাউকে কাউকে পুল খেলতে গিয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে বিদায় নিতে দেখা যায়।

যে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের সামনে পড়ে বেশির ভাগ বোলারই খেই হারিয়ে ফেলেন, তাদেরই এমন অসহায়ভাবে ফিরতে দেখা যায়।

দুইশর নিচে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ানরা হয়তো ভেবেছিল, বাংলাদেশকে ১০০ রানের আশপাশে অলআউট করে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লিড নিয়ে হেসেখেলে ম্যাচ জিতে যাবে। কিন্তু তানজিদ তামিম (১০১), মুমিনুল হক (৪৯), নাজমুল হোসেন শান্ত (৮৪), মেহেদী হাসান মিরাজ (৬৫), মুশফিকুর রহিম (৩৬) ও হাসান মাহমুদ (১৬৩ মিনিটে ৯২ বলে ১৪) সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ৪০০ পেরিয়ে, ৪২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে বিপাকে ফেলে দেন।

২২৬ রানের লিডেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে টাইগারদের হাতে। পরের ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার পর শুরুতেই আবারও হাসান মাহমুদের আক্রমণের তোড়ে দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় স্বাগতিকরা। এরপর অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিনঘূর্ণি প্যাট কামিন্সের দলকে আর সামনে এগোতে দেয়নি।

মিডল অর্ডারে ক্যামেরন গ্রিন সংগ্রামী শতক উপহার দিলেও ম্যাচ জেতার মতো অবস্থায় আর যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৫৬ রানের লিড নিয়ে কামিন্সের দল শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে হার মানে।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে তাদের মাটিতে হারানোর জন্য যা যা দরকার, শান্তর দল ঠিক তাই করে দেখিয়েছে। কিন্তু কঠিন সত্য হলো, ওই ভালো খেলার আগের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না। টেস্ট তথা দীর্ঘ পরিসরের ফরম্যাটে সময় ও ফর্ম ভালো যাচ্ছিল না বাংলাদেশের।

জিম্বাবুয়ের কাছে এক টেস্টের সিরিজে ইনিংসে হেরে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নামার আগে তিন দিনের ম্যাচে এক অনভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ধাক্কা সামলে ভালো খেলা সহজ ছিল না একদমই।

কিন্তু শান্তবাহিনী সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে বুকভরা সাহস নিয়ে সময়ের কাজগুলো ঠিকমতো করে রীতিমতো অসাধ্য সাধন করেছে।

অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হলে ঠিক ওই টিম পারফরম্যান্সটাই দরকার। বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুই ব্যাটারের ব্যাটে রান কিংবা একজন বোলারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারানো যাবে না। ব্যাটারদের দল বেঁধে ভালো ও লম্বা ইনিংস খেলতে হবে। বোলারদের ইউনিট হিসেবে দুই প্রান্ত থেকে সমীহ জাগানো বোলিংয়ের পাশাপাশি চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

জিততে হলে সেই টিম পারফরম্যান্সই প্রয়োজন।

ভক্তরা ম্যাকাইয়েও প্রিয় বাংলাদেশ দলের কাছ থেকে সেই উজ্জীবিত হয়ে, একটি ইউনিট হয়ে খেলার প্রত্যাশা করছেন। তা করতে পারলে অবশ্যই সাফল্য ধরা দেবে।

দেখা যাক, ডারউইনের সেই টিম পারফরম্যান্সটাই আবার দেখা যায় কি না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার