বিজ্ঞাপন
আর্জেন্টিনায় জরিপ: এক-তৃতীয়াংশের বিশ্বাস, ফাইনালে হার ছিল ‘ষড়যন্ত্র’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৭ এএম
বিজ্ঞাপন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। তবে সেই হারেও কোচ লিওনেল স্কালোনি কিংবা অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি সমর্থকদের আস্থা এতটুকুও কমেনি।
বরং জাতীয় এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আর্জেন্টাইন এখনও এই দুজনের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। যদিও একই সঙ্গে দেশটির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ বিশ্বাস করে, মাঠের বাইরের নানা কারণও এই পরাজয়ে প্রভাব ফেলেছে।
আর্জেন্টিনার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিয়াকোব্বে কনসালতোরেস বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে দেশজুড়ে পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য তুলে ধরেছে। ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে অংশ নেন ১,২০০ জন। মোবাইলভিত্তিক এই জরিপের ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।
জরিপে দেখা যায়, বিশ্বকাপ না জিতলেও স্কালোনির প্রতি আস্থা অটুট রয়েছে আর্জেন্টাইনদের। অংশগ্রহণকারীদের ৮৮ শতাংশ চান, তিনিই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যান।
অন্যদিকে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও আশাবাদী সমর্থকরা। ৪৩.৮ শতাংশ চান, আটবারের ব্যালন ডি\'অরজয়ী এই মহাতারকা ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলুন। আর ৩৭ শতাংশ মনে করেন, অন্তত আগামী কোপা আমেরিকা পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা উচিত তাকে।
মেসিকে নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে ‘ধন্যবাদ’, ‘জিনিয়াস’, ‘চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘আইডল’ শব্দগুলো। আর স্কালোনির ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ‘নেতা’, ‘গুরু’ এবং ‘থেকে যান’- যা ২০১৮ সালে শুরু হওয়া তার প্রকল্পের ধারাবাহিকতা চাওয়ারই প্রতিফলন।
তবে জরিপের আরেকটি দিকও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরাজয়ের কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা স্বীকার করেন, ফুটবলীয় দিক থেকে স্পেনই ছিল ভালো দল। কিন্তু বাকি অনেকেই মাঠের বাইরের নানা ব্যাখ্যা খুঁজেছেন।
জরিপ অনুযায়ী-
১৪.৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন, আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।৯.৬ শতাংশ মনে করেন, প্রভাবশালী মহল আর্জেন্টিনার আবার বিশ্বকাপ জয় চায়নি।৯.৫ শতাংশ বিশ্বাস করেন, ইংল্যান্ডকে হারানোর পর খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার ফাইনালে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সব মিলিয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ফাইনালে হারের পেছনে কেবল মাঠের ফুটবল নয়, মাঠের বাইরের ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি আর্জেন্টাইন সমাজের একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। কারণ, গত কয়েক বছরে স্কালোনি-মেসিদের দল যে সাফল্য ও আবেগের বন্ধন তৈরি করেছে, একটি ফাইনালে হার সেই বিশ্বাসকে নষ্ট করতে পারেনি। বরং অনেক সমর্থক এই পরাজয়কে শুধুই ফুটবলীয় কারণে ব্যাখ্যা করতে রাজি নন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টাইনদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। অধিকাংশই বিশ্বাস করতেন, কাতারের মতো আবারও
বিশ্বকাপ জিততে পারবে দল। টুর্নামেন্ট চলাকালেও অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেছিলেন, শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা যথেষ্ট রয়েছে।
এ কারণেই ফাইনালে হারের ধাক্কা অনেকের কাছে এতটাই বড় ছিল যে, তারা কেবল ফুটবলীয় বিশ্লেষণে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্টির মাত্রা ছিল বেশ উঁচু। আচরণগত দিক থেকে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ৭৮.৮ শতাংশ এবং ফুটবলীয় পারফরম্যান্সে ৭৪.৭ শতাংশ ইতিবাচক মূল্যায়ন দিয়েছেন উত্তরদাতারা।
সব মিলিয়ে জরিপটি স্পষ্ট করে, বিশ্বকাপ হারলেও আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে লিওনেল মেসি এখনও কৃতজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক, আর লিওনেল স্কালোনি বিশ্বাস ও ধারাবাহিকতার নাম। তবে একই সঙ্গে শিরোপা হাতছাড়া করার কষ্ট এখনও এতটাই গভীর যে, সমাজের একটি বড় অংশ সেই পরাজয়ের ব্যাখ্যা খুঁজছে মাঠের বাইরের নানা ঘটনায়।
বরং জাতীয় এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আর্জেন্টাইন এখনও এই দুজনের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। যদিও একই সঙ্গে দেশটির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ বিশ্বাস করে, মাঠের বাইরের নানা কারণও এই পরাজয়ে প্রভাব ফেলেছে।
আর্জেন্টিনার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিয়াকোব্বে কনসালতোরেস বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে দেশজুড়ে পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য তুলে ধরেছে। ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে অংশ নেন ১,২০০ জন। মোবাইলভিত্তিক এই জরিপের ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।
জরিপে দেখা যায়, বিশ্বকাপ না জিতলেও স্কালোনির প্রতি আস্থা অটুট রয়েছে আর্জেন্টাইনদের। অংশগ্রহণকারীদের ৮৮ শতাংশ চান, তিনিই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যান।
অন্যদিকে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও আশাবাদী সমর্থকরা। ৪৩.৮ শতাংশ চান, আটবারের ব্যালন ডি\'অরজয়ী এই মহাতারকা ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলুন। আর ৩৭ শতাংশ মনে করেন, অন্তত আগামী কোপা আমেরিকা পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা উচিত তাকে।
মেসিকে নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে ‘ধন্যবাদ’, ‘জিনিয়াস’, ‘চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘আইডল’ শব্দগুলো। আর স্কালোনির ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ‘নেতা’, ‘গুরু’ এবং ‘থেকে যান’- যা ২০১৮ সালে শুরু হওয়া তার প্রকল্পের ধারাবাহিকতা চাওয়ারই প্রতিফলন।
তবে জরিপের আরেকটি দিকও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরাজয়ের কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা স্বীকার করেন, ফুটবলীয় দিক থেকে স্পেনই ছিল ভালো দল। কিন্তু বাকি অনেকেই মাঠের বাইরের নানা ব্যাখ্যা খুঁজেছেন।
জরিপ অনুযায়ী-
১৪.৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন, আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।৯.৬ শতাংশ মনে করেন, প্রভাবশালী মহল আর্জেন্টিনার আবার বিশ্বকাপ জয় চায়নি।৯.৫ শতাংশ বিশ্বাস করেন, ইংল্যান্ডকে হারানোর পর খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার ফাইনালে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সব মিলিয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ফাইনালে হারের পেছনে কেবল মাঠের ফুটবল নয়, মাঠের বাইরের ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি আর্জেন্টাইন সমাজের একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। কারণ, গত কয়েক বছরে স্কালোনি-মেসিদের দল যে সাফল্য ও আবেগের বন্ধন তৈরি করেছে, একটি ফাইনালে হার সেই বিশ্বাসকে নষ্ট করতে পারেনি। বরং অনেক সমর্থক এই পরাজয়কে শুধুই ফুটবলীয় কারণে ব্যাখ্যা করতে রাজি নন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টাইনদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। অধিকাংশই বিশ্বাস করতেন, কাতারের মতো আবারও
বিশ্বকাপ জিততে পারবে দল। টুর্নামেন্ট চলাকালেও অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেছিলেন, শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা যথেষ্ট রয়েছে।
এ কারণেই ফাইনালে হারের ধাক্কা অনেকের কাছে এতটাই বড় ছিল যে, তারা কেবল ফুটবলীয় বিশ্লেষণে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্টির মাত্রা ছিল বেশ উঁচু। আচরণগত দিক থেকে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ৭৮.৮ শতাংশ এবং ফুটবলীয় পারফরম্যান্সে ৭৪.৭ শতাংশ ইতিবাচক মূল্যায়ন দিয়েছেন উত্তরদাতারা।
সব মিলিয়ে জরিপটি স্পষ্ট করে, বিশ্বকাপ হারলেও আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে লিওনেল মেসি এখনও কৃতজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক, আর লিওনেল স্কালোনি বিশ্বাস ও ধারাবাহিকতার নাম। তবে একই সঙ্গে শিরোপা হাতছাড়া করার কষ্ট এখনও এতটাই গভীর যে, সমাজের একটি বড় অংশ সেই পরাজয়ের ব্যাখ্যা খুঁজছে মাঠের বাইরের নানা ঘটনায়।