Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

হলিউডের শুটিং সেটে মেসির জন্য বদলে যায় সব নিয়ম

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

হলিউডের শুটিং সেটে মেসির জন্য বদলে যায় সব নিয়ম

বিজ্ঞাপন

হলিউডের শুটিং সেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, একের পর এক রিটেক কিংবা দীর্ঘ প্রস্তুতি এসব যেন খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু সেই সেটে যদি উপস্থিত হন লিওনেল মেসি, তাহলে পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। কারণ, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফুটবল তারকার জন্য সময়ের হিসাব চলে একেবারে ভিন্ন নিয়মে। নির্ধারিত সময় শেষ হলেই কাজ গুটিয়ে চলে যান তিনি। আর সেটে তখন শোনা যায় একটাই শব্দ ‘ভামোস’ (চললাম)। গোলডটকম

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি মাঠে যেমন শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার জন্য পরিচিত, তেমনি ক্যামেরার সামনেও সেই অভ্যাসের ব্যতিক্রম ঘটে না। বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের বাইরে থাকেন না। ফলে পরিচালক থেকে শুরু করে পুরো প্রযোজনা দলকে কাজ শেষ করতে হয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় স্পোর্টস টক শো ‘দ্য ড্যান প্যাট্রিক শো’-তে অতিথি হয়ে এসে এই অভিজ্ঞতার কথা জানান হলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা উইল ফেরেল। তিনি বলেন, আলুচিপস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লেসের একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে মেসির সঙ্গে কাজ করেছিলেন অভিনেতা স্টিভ ক্যারেল। সেই অভিজ্ঞতার কথাই ক্যারেলের কাছ থেকে শুনেছেন তিনি।

ফেরেলের ভাষ্য অনুযায়ী, মেসির জন্য শুটিং সেটে একটি নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। তিনি সেটে থাকেন মাত্র ৩০ মিনিট। এই সময়ের মধ্যেই তার সব দৃশ্য ধারণ করতে হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে তিনি আর অপেক্ষা করেন না। কাজ শেষ হোক বা না হোক, তিনি বিদায় নেন।

এই সীমিত সময়ের কারণেই পরিচালকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সাধারণত বিজ্ঞাপন বা চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে আলো, ক্যামেরা কিংবা অন্যান্য কারিগরি কারণে একাধিকবার দৃশ্য ধারণ করতে হয়। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে সেই সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে ক্যামেরা চালু হওয়ার আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে হয়, যাতে তিনি সেটে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুটিং শুরু করা যায়।

উইল ফেরেল বিষয়টি নিয়ে রসিকতাও করেছেন। তার ভাষায়, সবাইকে দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়, নয়তো মেসি উঠে দাঁড়িয়ে শুধু বলবেন, ‘ভামোস’, তারপর চলে যাবেন।

ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেয়ার পর মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বাণিজ্যিক দিক থেকেও মেসির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহু প্রতিষ্ঠান তাকে নিজেদের বিজ্ঞাপনে যুক্ত করতে আগ্রহী। তবে সেই সুযোগ পেলেও মেসির সময় ব্যবস্থাপনার নিয়মের সঙ্গে সবাইকে মানিয়ে নিতে হয়।

এদিকে বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে সময়ানুবর্তিতার এই আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।

মেসির সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার ধারণা মেসি হয়তো জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি ইতোমধ্যেই খেলে ফেলেছেন। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেসি আরও কিছুদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ মেসির নিজের বলেও মন্তব্য করেন পারেদেস।

হলিউডের ব্যস্ত শুটিং সেটে যেখানে সময়ের এক সেকেন্ডও নষ্ট করতে চান না লিওনেল মেসি, সেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন সময়ই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি খেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার