Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

ফিফার পরিকল্পনা রুখতে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে ইউরোপের দেশগুলো

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ এএম

ফিফার পরিকল্পনা রুখতে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে ইউরোপের দেশগুলো

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন প্রতিষ্ঠানের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছে স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের মতো দেশগুলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের ক্রীড়া সংবাদদাতা রব হ্যারিস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছেন। একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটির বিরোধিতায় উয়েফার সদস্য দেশগুলো এ সপ্তাহেই জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবে। সেখানে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনাও আলোচনার বিষয় হবে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো ইউরোপীয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়নি। কোন দেশগুলো এমন পদক্ষেপের পক্ষে, স্কাই নিউজের প্রতিবেদনেও তা উল্লেখ করা হয়নি। ইনফান্তিনো পিছু না হটলে তাকে চাপে ফেলতে বয়কটের হুমকিকে ইউরোপের চূড়ান্ত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

মঙ্গলবার ফিফা নিশ্চিত করেছে, তাদের বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতা পরিচালনার কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনতে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার। এর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অংশ বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রমও এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকবে। তবে ফিফার দাবি, বাইরের বিনিয়োগকারীরা শুধু সংখ্যালঘু অংশের মালিক হবেন। ফুটবল, প্রতিযোগিতা, ম্যাচ সূচি এবং খেলাসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের একক নিয়ন্ত্রণ ফিফার হাতেই থাকবে।

পরিকল্পনাটি প্রকাশের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, ‘ফুটবলের আত্মা ও শাসনব্যবস্থা কেনাবেচার সম্পদ নয়। ফুটবলের মালিক আমরা কেউ নই। এটি বিক্রি করার অধিকার ফিফার নেই।’

উয়েফার মতে, আর্থিকভাবে কারা লাভবান হবে সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই শুধু জাতীয় ফুটবল সংস্থা নয়, ক্লাব, লিগ, খেলোয়াড়, সমর্থক ও সরকারগুলোরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।

স্কাই নিউজ জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও মঙ্গলবারের আগে পরিকল্পনাটি সম্পর্কে জানত না। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন নিউইয়র্কে বিভিন্ন দেশের ফুটবল কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফিফার বৈঠক হলেও সেখানে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি।

ফিফা অবশ্য জানিয়েছে, প্রস্তাবটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সংস্থাটির ২১১ সদস্য এবং ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া এটি কার্যকর হবে না। নতুন বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলেও দাবি করেছে তারা।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি সদস্য দেশ উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য দুই কোটি ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। বর্তমানে এই সহায়তার পরিমাণ ৮০ লাখ ডলার। ইনফান্তিনোর ভাষায়, পরিকল্পনাটি ‘বিশ্ব ফুটবলের গণতন্ত্রীকরণের’ অংশ।

তবে ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে উয়েফার সদস্য মাত্র ৫৫টি হওয়ায় ভোটে ইউরোপের বিরোধিতা যথেষ্ট না-ও হতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক সাফল্যে ইউরোপীয় দলগুলোর গুরুত্বের কারণে তাদের সম্মিলিত বয়কটের হুমকি ফিফার ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

এর আগে দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও একই অস্ত্র ব্যবহার করেছিল উয়েফা। ২০২১ সালে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন জানিয়ে দিয়েছিলেন, এমন বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দেশগুলো অংশ নেবে না। প্রবল বিরোধিতার মুখে পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।

সম্ভাব্য বয়কট কোন আসরকে লক্ষ্য করে হতে পারে, তা স্পষ্ট করেনি স্কাই নিউজ। আগামী বছর ব্রাজিলে নারী বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয় পুরুষ বিশ্বকাপ হওয়ার কথা রয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার