বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ জয়ের পর কেন গোলপোস্টের জাল কাটেন ফুটবলাররা?
শতবর্ষের ঐতিহ্যের পেছনের অজানা গল্প
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ট্রফি হাতে উল্লাস, সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দে ভেসে যাওয়া কিংবা দর্শকদের অভিনন্দন! বিশ্বকাপ জয়ের পর এমন দৃশ্যই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই উৎসবের মাঝেই হঠাৎ কাঁচি হাতে গোলপোস্টের দিকে ছুটে যান কিছু ফুটবলার। মুহূর্তেই গোলপোস্টের জালের একটি অংশ কেটে নিজের কাছে রেখে দেন। অনেকের কাছেই এটি অদ্ভুত মনে হলেও, ফুটবল ইতিহাসে এটি চ্যাম্পিয়নদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও আবেগঘন ঐতিহ্য।
সম্প্রতি শেষ হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্পেনের ফুটবলারদেরও ঠিক এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ফেরান তোরেস, লামিনে ইয়ামাল, উনাই সিমনসহ একাধিক তারকা কাঁচি দিয়ে গোলপোস্টের জালের অংশ কেটে সংগ্রহ করেন। বিশ্বজয়ের সেই মহেন্দ্রক্ষণকে আজীবন স্মরণীয় করে রাখতেই এই বিশেষ স্মারক নিজেদের কাছে রেখে দেন তারা।
ফুটবলারদের কাছে গোলপোস্টের সেই জাল কোনো সাধারণ কাপড়ের টুকরো নয়। এটি তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্তের স্পর্শ বহন করে। যে জালে বল জড়িয়ে নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বজয়, সেই জালের একটি অংশ নিজের কাছে রাখা অনেকের কাছে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জনের স্মারক। কেউ কেউ আবার এটিকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক বলেও মনে করেন।
ফুটবল বিশ্বে এই উদযাপন নতুন মাত্রা পায় স্প্যানিশ কিংবদন্তি ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের হাত ধরে। বড় শিরোপা জয়ের পর তিনি গোলপোস্টের জালের অংশ কেটে স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এরপর ধীরে ধীরে এই রীতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের মধ্যে। বর্তমানে বড় কোনো আন্তর্জাতিক বা ক্লাব টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের পর গোলপোস্টের জাল সংগ্রহ করা অনেক দলের কাছেই এক ধরনের অলিখিত ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
এই রীতির মূল দর্শন একটাই। ইতিহাসের অংশ হয়ে যাওয়া একটি মুহূর্তকে নিজের জীবনের অংশ করে রাখা। ট্রফি জাদুঘরে জায়গা পায়, পদক শোকেসে ওঠে, কিন্তু গোলপোস্টের সেই জালের টুকরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতিকে বারবার ফিরিয়ে আনে। তাই ফুটবলারদের কাছে এটি শুধুই একটি স্মারক নয়, বরং আবেগ, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের প্রতীক।
মজার বিষয় হলো, শুধু ফুটবলেই নয়, বাস্কেটবলেও রয়েছে একই ধরনের ঐতিহ্য। বড় কোনো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বাস্কেটের জাল কেটে স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করার রেওয়াজ বহু পুরোনো। ১৯৪৭ সালে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেটের কোচ এভারেট কেস সাদার্ন কনফারেন্সের শিরোপা জয়ের পর খেলোয়াড়দের কাঁধে উঠে বাস্কেটের জাল কেটে নামিয়ে আনেন। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ বাস্কেটবল থেকে শুরু করে পেশাদার পর্যায়েও ঐতিহ্যে পরিণত হয়।