Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’ কেন বলেছিলেন লামিনে ইয়ামাল?

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’ কেন বলেছিলেন লামিনে ইয়ামাল?

বিজ্ঞাপন

গত ৩১ মার্চ ২০২৬ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন বনাম মিশরের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। অর্থাৎ দুই দলের পারফরম্যান্স কাছাকাছিই ছিল। কিন্তু সেই ম্যাচটি উপভোট করতে আসা স্পেন ফুটবল দলের সমর্থকদের অনেকে মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী স্লোগান দেয়। মিশর যেহেতু মুসলিমপ্রধান দেশ, তারা মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেয়, ‘El que no bote es un musulmán’ অর্থাৎ, ‘যে লাফাবে না বা ভালো খেলতে পারবে না, সে মুসলিম’।

স্প্যানিশ ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষ সমর্থক বা দলকে নিচু করার জন্য ‘যে লাফাবে না, সে…’ ধাঁচের ছড়া কাটার প্রচলন বেশ পুরোনো। কিন্তু সেই রাতের ট্র্যাজেডি ছিল, ওই স্লোগানে মিশরীয় খেলোয়াড়দের মুসলিম পরিচয় জুড়ে দিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছিল। তারা হয়তো ভেবেছিল এটি কেবল প্রতিপক্ষ মিশরীয়দের খোঁচা দেওয়া একটা উপায়, কিন্তু তারা বেমালুম ভুলে গিয়েছিল, যে স্পেন দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়ার জন্য তারা এই স্লোগান দিচ্ছে, সেই দলেরই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামাল নিজেই একজন গর্বিত মুসলিম। ‘মুসলিম’ বলে বিদ্রূপ করা হলে এটা তার গায়েও লাগে।

ইয়ামাল বিষয়টি এড়িয়ে যাননি। ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল, ২০২৬ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ইয়ামাল সুদৃঢ় ভাষায় নিজের মুসলিম পরিচয় তুলে ধরে। ইয়ামাল লেখেন-

“আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা শুনেছি স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল, ‘যে লাফাবে না সে মুসলিম’। আমি জানি এটা প্রতিপক্ষ দলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে নয়। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমার কাছে এটি চরম অসম্মানজনক এবং এটা এমন আচরণ যা আমরা মেনে নিতে পারি না।

আমি বুঝি যে সব সমর্থক এমন নন, তবে যারা এই স্লোগানগুলো দিয়েছেন তাদের বলছি, ফুটবল স্টেডিয়ামে মানুষকে উপহাস করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা আপনাদের নিদারুণ অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী মানসিকতারই পরিচয় দেয়। ফুটবল উপভোগ ও ভালোবাসার জায়গা; কার পরিচয় কী বা কে কিসে বিশ্বাস করে, তা নিয়ে অপমান করার জায়গা নয়।”

লামিনে ইয়ামালের এই প্রতিক্রিয়াটি ছিল বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ‘ইসলামোফোবিয়া’ ও ছদ্ম-বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদ।

ইয়ামাল কখনোই তার ধর্মীয় পরিচয় আড়াল করেননি। পেশাদার ফুটবলের চরম শারীরিক ধকল ও কঠিন শারীরিক কন্ডিশনিংয়ের মধ্যেও তিনি যে নিষ্ঠার সাথে মাহে রমজানের রোজা পালন করেন, তা তিনি আগেও প্রকাশ্যে বলেছেন। উল্লিখিত ঘটনায় স্প্যানিশ ফুটবল দলের সমর্থকরা মূলত মিশরীয় খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে স্লোগান দিলেও তিনি আবার নিজের মুসলিম পরিচয় গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
সূত্র: রিলিজিয়ন আনপ্ল্যাগড ডটকম

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার