বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার, যে শাস্তি দিতে পারে ফিফা
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সংঘর্ষ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর মাঠে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে স্পেন অধিনায়ক রদ্রি সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করতে যাওয়ার সময় আর্জেন্টিনার রাইট-ব্যাক নাহুয়েল মোলিনা তাকে আঘাত করেন। এরপর দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্পেনের এরিক গার্সিয়া এগিয়ে আসেন। পাল্টা আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন।
টেলিভিশন সম্প্রচারের দৃশ্যে দেখা যায়, পারেদেস গার্সিয়ার গলা চেপে ধরার চেষ্টা করেন। পরে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান।
এরপর পারেদেস স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির দিকে মনোযোগ দেন। তিনি গাভিকে ট্যাকল করে মাটিতে ফেলে দেন এবং একটি বুট তার দিকে ছুড়ে মারার চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদাও সংঘর্ষে জড়িয়ে গাভিকে মাটিতে চেপে ধরতে সহায়তা করেন।
বিবিসি স্পোর্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ের পর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এদিকে, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায়ও আর্জেন্টিনা আলাদাভাবে তদন্তের মুখে রয়েছে।
ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে ফিফা কোনো শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করলে আরও কঠোর শাস্তির সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারী প্রসিকিউটর ‘অপরাধের গুরুতরতা এবং লঘুকরণকারী সব পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন’ এবং প্রয়োজনে বৈশ্বিকভাবে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা রাখেন।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধিতে কী আছে?
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে কনুই মারা, ঘুষি মারা, লাথি মারা, কামড়ানো, থুতু নিক্ষেপ করা বা আঘাত করার মতো আচরণকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা উপযুক্ত সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ দেয়ার বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজকে নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং চার মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।