বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেস। চেয়েছিলেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে ইতিহাসের অংশ হতে। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তিনি; একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোল শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
ফাইনাল হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পোস্টে কাউকে দোষারোপ করেননি মার্টিনেস। বরং প্রকাশ করেছেন গভীর হতাশা ও কষ্ট। তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে তার একটি মন্তব্য। যাতে দেখা দিয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন।
বুয়েনস আইরেসে ফিরে আসার পর, সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ঠান্ডা ও বৃষ্টির মধ্যেও ভক্তদের অভ্যর্থনা পাওয়ার পর মার্টিনেস নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা আবারও বিশ্বকাপ জিতব। স্বপ্ন দেখেছিলাম ট্রফিটি আর্জেন্টিনায় নিয়ে আসব এবং আবারও ইতিহাস তৈরি করব।’
তবে দ্রুত সবকিছু ভুলে প্রতিশোধের লক্ষ্য স্থির করার বদলে অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি করেছেন অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই কষ্ট ব্যাখ্যা করা কঠিন। অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে, সামনে কীভাবে এগোবো তা দেখতে হবে। হয়তো এটাই সময় সরে দাঁড়ানোর।’
মার্টিনেসের এই বক্তব্য আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের অবাক করেছে। কারণ ২০২১ সালের ৩ জুন চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অভিষেকের পর থেকেই তিনি শুধু একজন অসাধারণ গোলরক্ষক নন, দলের অন্যতম নেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। লিওনেল মেসিসহ সতীর্থদের কাছে তিনি একজন অনুপ্রেরণাদাতা, স্বাভাবিক নেতৃত্বের অধিকারী এবং দলের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। নিজের দেশ ও সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য আমি সবকিছু দিয়েছি।’
গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল হজম করার পর মার্টিনেস অপেক্ষা করছিলেন নকআউট পর্বে নিজের সেরা মুহূর্তের জন্য। পরের তিন ম্যাচে পাঁচ গোল হজম করলেও (কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে দুটি করে এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি), গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও নিজের সেরা রূপে ফিরেছিলেন তিনি।
বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশ্বকাপ ফাইনালে মার্টিনেস করেন ১১টি দুর্দান্ত সেভ; যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক। ১৯৬৬ সালের পর কোনো গোলরক্ষক এক ফাইনালে এতগুলো সেভ করতে পারেননি। তিনি ১৯৯৪ সালের ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুকা পাগলিউকা এবং ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনার উবালদো মাতিলদো ফিলোলের চেয়েও তিনটি বেশি সেভ করেন।
২০৩০ বিশ্বকাপে ২৬ সদস্যের স্কোয়াড বেছে নিলেন ব্রাজিলিয়ানরা, তালিকায় এবারের ৮ জন
এছাড়া উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে মোট ২০টি সেভ করে তিনি গোলরক্ষকদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তার সামনে ছিলেন কুরাসাওয়ের এলোয় রুম (২১টি) এবং প্যারাগুয়ের অরলান্ডো গিল (২৮টি)।