বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে দেশে ফেরার পর সমর্থকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা। অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ছাড়াই বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল বুয়েনস এইরেসে ফিরেছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে অনুশীলনকেন্দ্র পর্যন্ত সর্বত্রই সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পরিবেশ।
সোমবার (২০ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বুয়েনস এইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে আর্জেন্টিনা এয়ারলাইনসের বিশেষ উড়োজাহাজটি। বাংলাদেশ সময় তখন সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিট। দলের সঙ্গে দেশে ফেরেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এবং ১৬ জন ফুটবলার।
বিশেষভাবে সাজানো উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিনে আঁকা ছিল লিওনেল মেসির ১০ নম্বর জার্সির প্রতীক এবং আর্জেন্টিনার তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক তিনটি তারকা। বিমান থেকে নামার পর খেলোয়াড়দের জন্য লালগালিচা বিছানো হয়। সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনায় বাজানো হয় আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সমর্থকগীতি ‘মুচাচোস’, যা বিশ্বকাপজুড়ে দেশটির ফুটবল সমর্থকদের অন্যতম পরিচিত সংগীতে পরিণত হয়েছিল।
বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে দলকে নিয়ে যাওয়া হয় কাছেই অবস্থিত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লিওনেল আন্দ্রেস মেসি অনুশীলনকেন্দ্রে। শীতল আবহাওয়া ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রাস্তার দুই পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন হাজারো সমর্থক। জাতীয় পতাকা, ব্যানার, গান এবং আতশবাজির মাধ্যমে তারা বিশ্বকাপ রানার্সআপ দলকে অভিনন্দন জানান। শিরোপা হাতছাড়া হলেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ছিল না কোনো হতাশার ছাপ।
দেশে ফেরা ফুটবলারদের মধ্যে ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, রক্ষণভাগের নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, জিওভানি লে সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, গঞ্জালো মন্টিয়েল ও নিকোলাস গঞ্জালেস।
তবে দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। তারা যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন। এছাড়া এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনাসহ আরও কয়েকজন ফুটবলার বুয়েনস এইরেসগামী বিমানে ওঠেননি। কেউ নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে, আবার কেউ ছুটি কাটাতে সরাসরি অন্য গন্তব্যে চলে গেছেন।
বিশ্বকাপ শেষে দলকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা বা বিজয় উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়নি। তবু সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এজেইজা বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। এএফএ এক বিবৃতিতে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও জাতীয় দল ও দেশের মানুষের বন্ধন আগের মতোই অটুট রয়েছে। ফলাফলের ঊর্ধ্বে উঠে সেই সম্পর্ক আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
গত রোববার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেই হারে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও দেশে ফেরার পর সমর্থকদের ভালোবাসাই যেন স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে।